প্রথম দেখাতেই রক্তের ছিটে ত্রিপুরার ভোটে!

আমাদের নতুন সময় : 13/04/2019

কাকলী সাহা, কলকাতা থেকে : উনিশতম লোকসভা নির্বাচনের শুরুটা নির্বিঘেœ কাটলো না বিজেপিশাসিত রাজ্য ত্রিপুরার পশ্চিম ত্রিপুরা আসনটিতে। ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের মতোই বিজেপিশাসিত ত্রিপুরাতেও বিগত কয়েকদিন ধরেই শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিয়ে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছিলো। সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগেরদিন রাতভর গ্রামাঞ্চলের মতোই শহরাঞ্চলেও ব্যাপক বোমাবাজি চলেছে। তাতে দিনভর মানুষের মধ্যে চাপা একটা ভীতি কাজ করছিলো। বেশিরভাগ বুথ থেকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে, এমনই অভিযোগ জানিয়েছে রাজ্যের কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাস আরো অভিযোগ করেন যে, লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের একাংশকে ভীতি প্রদর্শন করে ভোটদানে বিরত রাখা হয়। যদিও অনেকাংশেই শাসকদলের এহেন সন্ত্রাস ও হুমকি উপেক্ষা করেই মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে গেছেন বলেই বিরোধীরা দাবি করেছেন। বনমালীপুর, সূর্যমণিনগর, রামনগর প্রভৃতি অঞ্চলে এবং বেলোনিয়া মহকুমায় শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা বিরোধীদলের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে সূত্র মারফত খবর মিলেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বেশকিছুদিন আগে থেকেই, জানুয়ারি ৮ ও ৯ বামেদের ডাকা ধর্মঘটে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে চাপান-উতোর চলতে থাকে এবং সেই থেকেই লাগাতার শাসকবিরোধী আন্দোলনে শাসকের প্রতি মানুষের মোহ যে বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে তা বলাই বাহুল্য। তবে এই সন্ত্রাসঘন পরিস্থিতিতে বিরোধীরা বারবার দাবি করা সত্ত্বেও নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কোনো সেন্ট্রাল ফোর্সের পদধ্বনি ত্রিপুরার মাটিতে শোনা যায়নি।
তবে কি বিজেপিশাসিত রাজ্য বলেই ত্রিপুরার জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলাকে দাওয়ে লাগাতে এতটুকু দ্বিধা করলেন না বিপ্লব দেব সরকার? উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীজী ভারতীয় সেনাকে ‘মোদী সেনা’ বলে অভিহিত করলেও সেনাদের ওপর আর ততোটার ভরসা করতে পারছেন মোদীজী সরকার! অন্যরাজ্যের মতো এখানে যদিও প্রাণহানির ঘটনা শোনা যায়নি, তবুও বেশ কিছু অঞ্চলে রক্ত ঝরেছে। সেক্ষেত্রে বিরোধীদের অভিযোগকে আমলেই নিচ্ছে না রাজ্য প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন। ত্রিপুরায় এবারে ভোটদানের হার মাত্র ৮০%, যা অন্যান্য বারের তুলনায় অনেকটা কম। আর এখানেই প্রমাণিত ত্রিপুরাবাসীর ভোটদান সুনিশ্চিত করতে বা জনসাধারণকে ভোটমুখী করতে এমনকি গণতন্ত্রের প্রতি তাদের আস্থা ফেরাতে নির্বাচন কমিশন অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যের বিজেপিশাসিত সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও ভারতের ঐতিহ্যবাহী নির্বাচন কমিশনের মতো স্বশাসিত সংস্থা কি সাধারণ মানুষের প্রতি আরো খানিকটা মানবিক ও দায়বদ্ধ হতে পারতো না? তারা যদি ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ঐতিহ্যের কথা বিস্মৃত হয়, তবে ভারতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সত্যিই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে ধরে নিতেই হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]