বাংলাদেশ ব্যাংক ফেসবুকে চ্যাটগ্রুপ খুলেছে আগুন নেভানোর কাজে

আমাদের নতুন সময় : 13/04/2019

দেবদুলাল মুন্না : অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করতে কাজ শুরু করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেশ কয়েকদিন থেকেই ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা তৎপর। এ উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে তারা ফেসবুকে প্রথম চালু করেন তিনটি চ্যাটগ্রুপ। এই তিনটি চ্যাটগ্রুপ সক্রিয় রয়েছে গত ১০দিন থেকে। চ্যাটগ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। শুভ শ্যাম নামের এক কর্মকর্তা জানান, ‘মুলত সমস্যাগুলো র্নিয়ের জন্যই এইসব চ্যাটগ্রুপ খোলা হয়েছে ফেসবুকে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত নামতে বিকল্প পথ হিসেবে জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি কতটা নিরাপদ- এ নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত ‘কলিগ অব বাংলাদেশ ব্যাংক’ ‘ফ্যামিলি অব বাংলাদেশ ব্যাংক’সহ তিনটি ফেসবুক ভিত্তিক চ্যাট গ্রুপে। সেখানে প্রায় সবার প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো বহুতল ভবনের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে? তাদের দাবি- ভেতরে যেহেতু জরুরি বহির্গমনের পর্যাপ্ত সিঁড়ি নেই, তাই ৩০তলা ভবনের কমপক্ষে তিনটি সিঁড়ি দেওয়া হোক, যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ভবন থেকে দ্রুত বের হওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০তলাবিশিষ্ট এ ভবনের প্রতি ফ্লোরে ১২০ জন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসে কাজ করার ব্যবস্থা আছে। সব মিলে এখানে ৩,৫০০ থেকে ৩,৬০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওঠা-নামার জন্য ৭টি লিফট রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি লিফট সংস্কারজনিত কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী। প্রধান সিঁড়িটি প্রশস্ত। তবে বহুতল ভবন হওয়ার কারণে এটা প্রায় ব্যবহার হয় না। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই ভবনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও ছাদে আশ্রয় নেওয়ার ব্যবস্থা নেই। বহির্গমন সিঁড়ির নিচের অংশের মতো ছাদে ওঠার দরজা তালা দিয়ে বন্ধ রাখা হয়। ছাদের অন্য অংশে চিলেকোঠা বানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মেইনটেন্যান্স বিভাগের লোকজনের বসার স্থান করেছে। ফলে ওদিকেও ছাদে উঠার উপায় নেই। চিলেকোঠার দক্ষিণে পানির ট্যাংক আছে, যেখানে যেতে জানালা ভেঙে পথ তৈরি করা হয়েছে। চিলেকোঠার ছাদের ওপরে স্থাপিত হয়েছে টাওয়ার। ফলে কোনো দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাদ থেকেও মানুষকে উদ্ধার করা হবে-এমন ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের আঙ্গিনায় তিনটি ভবনের মাঝে ফাঁকা জায়গা দখল করে থাকে দুই শতাধিক মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক নেসার রহমান গতকাল বলেন, ‘৩০তলা ভবনের জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেসব প্রতিবন্ধকতা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দূর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব বিভাগ ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছে। ৩০তলা ভবনের বহির্গমন সিঁড়ির বহির্ভাগে মোটরগাড়ি দিয়ে বন্ধ করে রাখা হতো। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর পরই সে পথ সার্বক্ষণিক খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি বহির্গমন সিঁড়িতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে- এমন সব আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলতে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিঁড়িতে ধূমপান করার বিষয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’ সম্পাদনা : ইকবাল খান
তারা মনে করছেন, ভবনের অভ্যন্তরে যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও আছে। প্রশিক্ষণ দেওয়া জনবলও আছে। কিন্তু বহির্গমন সিঁড়িকেন্দ্রিক যে সমস্যা আছে সেগুলো দূর করার ব্যবস্থা নেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দূর হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]