মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা অপেক্ষায় থাকবো

আমাদের নতুন সময় : 13/04/2019

মাসুদ কামাল : এই প্রথমবারের মতো কোনো একটি অন্যায়ের সুবিচার নিয়ে আমার মনে একটা দৃঢ় প্রত্যাশা জন্ম নিয়েছে। আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, নুসরাত জাহান রাফি হত্যার এবার একটা দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে। তার গায়ে আগুন দেয়ার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক, যারাই এই মামলাকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার প্রচেষ্টা করুক, তারা কেউ এবার ছাড় পাবে না।

এর মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটেছে। শুরু থেকেই বলা হচ্ছিলো- মামলার তদন্ত ঠিকভাবে হচ্ছে না। নুসরাতের আত্মীয়স্বজনদের কেউ কেউ অভিযোগ করছিলেন- প্রকৃত আসামিরা যাতে ধরা না পড়ে সেজন্য নাকি রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। ফেনীর এক গড ফাদারের নামও তখন উচ্চারিত হয়েছিলো। সোনাগাজীর স্থানীয় দু’একজন লোকের সঙ্গে তখন আমার কথা হয়েছে। তাদের একজন তখন বলছিলেন- এমন জঘন্য কাজ কার প্রশ্রয়ে হতে পারে তা এলাকার সবাই জানে। কিন্তু পুলিশ তো যাচ্ছে উল্টা পথে। ওই লোকগুলোকে তখন আমার কাছে হতাশ মনে হয়েছিলো। এমন হতাশা আমি এর আগে দেখেছিলাম তনু হত্যা নিয়ে যখন হইচই চলছিলো, তখন। সেই হতাশা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছিলো, তনু হত্যার কোনোই বিচার হয়নি। বরং যারা বিচার চেয়েছিলো, তারাই হয়রানির মধ্যে পড়েছিলো। তিক্ত সেই অভিজ্ঞতার কারণেই এবারও ভেবেছিলাম- মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতেরও বুঝি আর সুবিচার পাওয়া হবে না। কিন্তু সবকিছুই যেন উল্টে গেলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে।

তিনি নিজে আগ্রহ দেখালেন নুসরাতের বিষয়ে। তিনি দুটি অঙ্গীকার করেছেন- এক. নুসরাতের সুচিকিৎসার বিষয়ে, দুই. এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যাপারে। প্রথম অঙ্গীকারটি পালনের কোনো সুযোগ নুসরাত তাকে দেয়নি, সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়ার আগেই সে চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে। ফেনীর প্রতিবাদী এই মেয়েটির মৃত্যু যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। এর মধ্যে তার প্রতিফলনও আমরা দেখতে শুরু করেছি। সেখানকার থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পিবিআইকে। ১২ এপ্রিল শুক্রবার দেখলাম পুলিশের আইজি বলেছেন, সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসির বিরুদ্ধে যদি দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়টি প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন কিন্তু উঠতেই পারে, দায়িত্ব যদি তিনি সঠিকভাবেই পালন করে থাকবেন তাহলে তাকে প্রত্যাহার করা হলো কেন?

এরকম অনেক বিষয় নিয়েই হয়তো প্রশ্ন ওঠতে পারে। কিন্তু আমরা বরং মূল প্রসঙ্গেই, নুসরাত হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দিকেই দৃষ্টি রাখি। বিচার প্রাপ্তির যে প্রত্যাশা আমার মনে জেগেছে, তা নিয়ে সেদিন এক সহকর্মী কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করলেন। আমি তার সন্দেহকে উড়িয়ে দিলাম, বললাম- আমি এখনো মনে করি, এই দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে ক্ষমতাধর আর কেউ নেই। তিনি নিজে যখন খোঁজখবর রাখছেন, বিচার অবশ্যই হবে। উনি নিশ্চয়ই ষড়যন্ত্রকারী কিংবা গডফাদারদের ক্ষমতা আরও অনেক বেশি- এমন কিছু প্রমাণ হতে দিতে চাইবেন না। জবাবে ভদ্রলোক মৃদু হাসলেন। এমন হাসি আগে অনেক সহ্য করেছি, আর করতে চাই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি আপনার কথায় বিশ্বাস রেখেছি, আমরা অপেক্ষায় থাকবো।
লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]