• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » আজ পয়লা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ সাংস্কৃতিক ও বৈষয়িক সব ধর্মের সম্মীলন ঘটে এ উৎসবে, সবাইকে শুভেচ্ছা


আজ পয়লা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ সাংস্কৃতিক ও বৈষয়িক সব ধর্মের সম্মীলন ঘটে এ উৎসবে, সবাইকে শুভেচ্ছা

আমাদের নতুন সময় : 14/04/2019
দেবদুলাল মুন্না : আজ পয়লা বৈশাখ। জীর্ণ-পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে আনন্দ ও নতুন আশার বার্তা নিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে আবার এল নববর্ষ। এদিন আমরা সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। নববর্ষ উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর সর্বজনীনতা, এটি সব বাঙালির প্রাণের উৎসব। বিশ্বের প্রচলিত অধিকাংশ বর্ষপঞ্জির উৎপত্তি কোনো না কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু বাংলা নববর্ষ একান্তই সাংস্কৃতিক ও বৈষয়িক। এর সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গ নেই। শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাকৃতিক ও সামাজিক অর্থনীতির ইতিহাসের একটি অংশ। কারণ এতে একই সঙ্গে প্রকৃতি ও অর্থনৈতিক কর্মকা- জড়িয়ে আছে। নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে চাষীদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে হতো। তাই চাষীকূলের জন্য এটি আনন্দের কোন বিষয় ছিলো না। বৈশাখে মুখ ব্যাদান করে আসে তীব্র গরম, শুষ্ক আবহাওয়া, খরা। চাষা-কৃষকদের জন্য কোনভাবেই তা সুখকর উৎসব ছিলো না। তবে হ্যা, মধ্যবিত্ত শ্রেণী একে উৎসবে পরিণত করেছে। এটা ব্যবসায়ী ও ভূমির মালিক জমিদারদের জন্য লাভজনক ছিলো। এ সময় জমিদাররা খাজনা পেতো, ব্যবসায়ীরা হালখাতা খুলে তাদের বকেয়া আদায় করতো। তারা আগের সব পাওনা বুঝে নিয়ে নতুনভাবে সবকিছু শুরু করতো। তবে পহেলা বৈশাখ একটি সেক্যুলার উৎসব এটা ঠিক। বাঙালি’র জীবনে ধর্মের সঙ্গে যুক্ত বহু উৎসব-পার্বন রয়েছে। হিন্দুদের এক ধরনের উৎসব, মুসলমানদের আরেক ধরনের। কিন্তু এই এক জায়গার ধর্মের উর্ধ্বে উঠে সব বাঙালির মিলন ঘটে। আবার ঔপনিবেশিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নব্য-উপনিবেশিকতাবাদ তথা পাঞ্জাবি আধিপত্যের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি ওই জায়গাটিও কিন্তু আছে। এটা দেশপ্রেম, জাতীয়তবাদ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।’ ষাটের দশকে ঢাকায় রমনা বটমূলে সূচিত হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসব। সেই উৎসব আমাদের আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামকে বেগবান করেছে। রমনা বটমূলের সেই বর্ষবরণ উৎসব আজও অব্যাহত আছে। শুধু তাই নয়, এ অনুষ্ঠানের আদলে রাজধানীর বিভিন্ন মহল্লায় এবং সারা দেশের বিভিন্ন শহরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন চলে। পয়লা বৈশাখে সারা বাংলাদেশ উৎসবে মেতে ওঠে, সর্বত্র জেগে ওঠে প্রাণের উচ্ছ্বাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার অৎ¯্র মানুষ। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। পয়লা বৈশাখের উৎসবের বিরুদ্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলো যুক্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়াসে গত দুই বছর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে উৎসব পালনের সময়সীমা কমিয়ে দিয়েছিল, এবারও একই ধরনের পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। কিন্তু প্রশাসনের ভেবে দেখা উচিত, এ রকম কঠোরতার প্রয়োজন আসলেই আছে কি না। আমরা মনে করি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানুষকে ঘরে বসে থাকার নির্দেশ দেওয়া নয়, মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও উৎসব পালনের সুযোগ খর্ব না করেই তাদের নিরাপত্তাবিধান করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আসুন, আমরা নির্বিঘœ-নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে আমরা নতুন বছরকে বরণ করি। প্রীতি-ভালোবাসায় আনন্দ-উৎসবে দূর হয়ে যাক সব অশান্তি। পৃথিবী শান্তিময় হোক।
বদরুদ্দীন উমর বলেন, ‘আশা করি,ভবিষ্যতে এই উৎসব শুধু মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রমজীবীদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হবে।’ এ উৎসবে বাঙালির সব বিভেদ ঘুচে যাক এ প্রত্যাশা আমাদেরও।কেন রাত ১২টায় নয়, বাংলা বছর শুরু হয় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে? তরুণ প্রজন্মে অনেকের মনে এ প্রশ্ন জাগতে পারে।এর কারণ,  ইংরেজি সালের তারিখ গণনা রাত ১২টার পর শুরু হয়। এমন গণনার পেছনে কারণ হলো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। একটি চক্র শুরু হয়ে শেষ হলেই দিন শেষ হয় অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটাই এখানে মূল ভিত্তি। তাই প্রতিবছর ইংরেজি নতুন বছর শুরু হয় ঘড়ির কাঁটা ঠিক রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে।হিজরি সালের তারিখ গণনা করা হয় সন্ধ্যার পর থেকে। কারণ হিজরীর দিন হিসেব করা হয় চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে। তাই চাঁদ উঠলেই সন্ধ্যা থেকে হিজরি নতুন দিন শুরু। আর বাংলা নববর্ষে নতুন বছরের দিন শুরু হয় সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকে। এর অন্যতম কারণ হল কৃষিকাজ। কারণ স¤্রাট আকবর বাংলা সালকে ফসল তোলার ওপর ভিত্তি করে খুব সুন্দর করে বিন্যাস করেছিলেন। তখন সূর্য ওঠার পর কৃষিকাজ শুরু হত এবং তার ভিত্তিতেই দিন গণনাও শুরু হত। ইংরেজি নতুন বছরের মত রাতে কোনও উৎসবের আয়োজন করা হতো না। ফলে সূর্যোদয়ের পর সকাল থেকেই শুরু হতো নববর্ষের আচার-অনুষ্ঠান। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]