নুসরাত হত্যার বিচার দাবিতে বঙ্গভবন থেকে গণভবন পর্যন্ত সিপিবির মানববন্ধন

আমাদের নতুন সময় : 14/04/2019

সুমন পাইক, ইউসুফ বাচ্চু ও কামরুল হাসান : ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাশে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টায় গণভবন থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত এই কর্মসূচী পালিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে সব বিভেদ ভুলে সিপিবি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বাম ছাত্র সংগঠন, ছাত্রলীগ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারী অধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন এনজিও অংশ নেয়। নুসরাতের মৃত্যুতে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে মানববন্ধনের এই কর্মসূচির ডাক দেয় সিপিবি। এই কর্মসূচি থেকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ঘেষণা দেয় অংশগ্রহনকারিরা।
বঙ্গভবনের মুখে রাজউকের সামনে অবস্থান নেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে শুধু সিপিবির না, এটা সব দলের আন্দোলন। নুসরাত বলেছিল আমার জীবন চলে যেতে পারে কিন্তু শেষ নি:শ^াস পর্যন্ত এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাবো। নুসরাতের এই আহবান আজ দেশের ১৬ কোটি মানুষ গ্রহণ করেছে। মানুষ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ভোটের নামে প্রহসন করেছে। নির্বাচনের আগের দিন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। যারা এই কাজে সহায়তা করেছে তাদের পুরষ্কার হিসেবে আবাধে লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণে মদদ দিচ্ছে। সব কিছু বাণিজ্যিক হচ্ছে। কেনাবেচা হচ্ছে। অপরাধ, নৈরাজ্য, খুন, ধর্ষণে ভরে গেছে। ধ্বংস, অবক্ষয়, বিভিষিকা অবস্থায় দাঁড়িয়েছে দেশ। চলছে লুটপাটের রাজত্ব।

নুসরাত অধ্যক্ষ বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে সোনাগাজী থানার ওসি কথার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় যৌন নিপিড়ন করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দিন দিন ধর্ষণ বাড়ছে। ধর্ষণের পর হত্যাকা- বাড়ছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনলে ফের অপরাধ করার সাহস কেউ দেখাতো না। অপরাধ প্রবণতা কমে যেতো। সোনাগাজী থানার ওসিকে গ্রেফতার করা এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এসব অপরাধীদের বিচারের দাবি জানন তিনি।

আসাদ গেইটে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের মানববন্ধনে কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, আমাদের সংস্কৃতি হল ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে রাস্তায় নামি, তারপর এক সময় সব ঘটনাই ধামাচাপা পড়ে যায়, এ থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। এই ঘটনাসহ সবগুলো নারী সহিংসতায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।

আনন্দদ্যুতি খেলাঘর আসরের সভাপতি লাবনী শবনম মুক্তি বলেন, নুসরাতের মুখে আমার মেয়ের মুখ দেখতে পাই। দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে আজ এমন পরিবেশ হয়েছে। আমরা নুসরাত হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

মানববন্ধন কর্মসূচি রাজধানীর আসাদগেট, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, এলিফেন্ট রোড, বাটা সিগন্যাল, কাঁটাবন, শাহাবাগ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, হাইকোর্ট, প্রেসক্লাব, পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড়, রাজউক ভবন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, বাংরাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, টিআইবি, নারী পক্ষ, কেন্দীয় খেলাঘর আসর, কৃষিবিদ ইউনিয়ন, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ফেনী সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, ডিরেক্টর গিল্ডস, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সম্পাদনা : ওমর ফারুক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]