পয়লা বৈশাখ, এক অবিনাশী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

আমাদের নতুন সময় : 14/04/2019

ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম : ইউনেস্কো একে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যা কিছু মানুষে মানুষে মিলন ঘটায়, ধর্মে ধর্মে, বর্ণে বর্ণে, আশরাফ-আতরাফে বিভেদের পাঁচিল তুলে দেয়, তা-ই তো বিশ্বঐতিহ্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে। পয়লা বৈশাখ তেমনই এক প্রাণজুড়ানো বিভেদ ঘোচানো উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির প্রাণের মেলা। এতো সমারোহে এমন অসাম্প্রদায়িক মানবিক মেলা আমাদের দ্বিতীয়টি নেই। বৈশাখ মেলার আয়োজন দেখে মনে হয়, বাঙালি যেন এই দিনটির জন্য দীর্ঘ ১১ মাস প্রতীক্ষা করে থাকে। আমাদে গাঙ্গেয় এ বদ্বীপে আমাদের সম্মানিত পূর্বপুরুষেরা কুমারের, কামারের, বাঁশ-বেতের কুটির শিল্পের যে সহজ দ্রব্য সামগ্রী ব্যবহার করে সাদামাটা সরল জীবনযাপন করতেন, এ মেলায় আমরা সেসব জিনিস দেখে ঐতিহ্যে ফিরে যাই। আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে সেসময়ের জীবনের পার্থকের বিস্ময়গুলো নিয়েও ভাবী।
পহেলা বৈশাখ পালন নিয়ে, এর মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে একশ্রেণির মানুষের প্রবল নেতিবাচক চিন্তা আছে। অথচ দেখুন এটির আয়োজনের জন্য আমাদের প্রিয় ছেলেমেয়েরা কতো সৃষ্টিশীল কাজই করে! এ সময় চারুকলার শিল্পীরা ছবি আঁকে, ঘটচিত্র আঁকে, মুখোশ বানায়, পুতুল গড়ে কেমন ব্যস্ত থাকে ওরা! শিল্পের তুলিতে ওরা বর্ণে বর্ণে আত্মার নির্ভেজাল আনন্দ প্রকাশ করে। সন্তানদের এ আনন্দে আমার তো মন ভরে যায়। রমনাকে ঘিরে কী ব্যাকুল জোয়ার! ওরা নিজের পয়সা খরচ করে সবার সঙ্গে মিলতে আসে। রাজনীতির সমাবেশের মতো পয়সা দিয়ে ওদের আনতে হয় না। অথচ এর প্রতি একশ্রেণির মানুষের কী যে কোপানল! তারা ধর্মের কথা বলেন। ধর্ম কী মানুষে মানুষে মিলনের অন্তরায়?
২০০১-এ তো পহেলা বৈশাখকে বোমায় ধ্বংস করতে চাইলো আমাদের কিছু বিভ্রান্ত সন্তান, ছায়ানটের উৎসবে বোমা মেরে। তারা মনে করেছিলো লাখো মানুষের এই মিলনমেলা বন্ধ করে দেয়া যাবে। তারা শুধু কিছু নিষ্পাপ বাঙালি মেরেছে, বাঙালির প্রাণের উৎসব মারা যায় না। তারা নিজেরাও নিজেদের মৃত্যুর রাস্তা পরিষ্কার করেছে। গুপ্তঘাতক মনে করে, ওরা ধরা পড়বে না, কিন্তু আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাকে বিনা বিচারে হত্যা অনুমোদন করেননি বলেই গুপ্তঘাতক শেষমেশ ধরা পড়ে। রমনা বটমূলের ঘতকরাও এখন ফাঁসির অপেক্ষায় আছে। মানুষ বটমূলের অন্যায় রক্তপাত কখনো ভুলবে না, তা ঠিক। এতে ঘাতকের লক্ষ্য তো হাসিল হলোই না, বরং দিন দিন বাড়ছে মেলার কলেবর। বাঙালির প্রাণের মেলা কে থামাবে?




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]