উৎসবের বানে ভেসে যাবে সকল অমঙ্গলের ছায়া

আমাদের নতুন সময় : 16/04/2019

প্রভাষ আমিন : দেশে নানা অনিয়ম, অবিচার, দুর্নীতি, বিচারহীনতা দেখতে দেখতে মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়ে যায়। হতাশ হয়ে যাই। লোভের আগুনে চুড়িহাট্টায়, বনানীতে শত মানুষ পুড়তে দেখে, লালসার আগুনে সোনাগাজীতে ফুটফুটে নুসরাতকে পুড়ে মরতে দেখে মন খারাপ হয়ে যায়। ভাবি মানুষ এতো লোভী কেন, এতো খারাপ কেন। কিন্তু এই মানুষেই আবার ভরসা রাখি, এই মানুষেই আশায় বুক বাধি। বিশেষ করে কোনো উৎসব এলে দেখা পাই বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততার। আবার ভাবি, এতো প্রাণবন্ত উৎসবমুখর মানুষ যে দেশে আছে, সে দেশে হতাশ হওয়া ন্যায়।  মানুষই বাঁচিয়ে রাখবে ইতিবাচক বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উৎসবগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় বর্ষবরণ। এই একটি উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ প্রাণ খুলে অংশ নিতে পারে। শতো ষড়যন্ত্র, শতো বাধা ঠেলে কোটি মানুষ নেমে আসে রাস্তায়, শামিল হয় উৎসবে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়কে ঘিড়ে যে সাংস্কৃতিক বলয়, দিনভর সেখানে ভিড়। শুধু ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় নয়, পুরো ঢাকাই যেন আজ রঙিন। যেদিকে তাকাই  দিকেই রঙের মেলা যেন। মানিক মিয়া এভিনিউতে কিছু নেই, খালি সড়কজুড়ে আলপনা। সেখানেও হাজারো মানুষের কোলাহল।

আমাদের উৎসবপ্রিয় মানুষের আনন্দ পেতে কিছু লাগে না। একসাথে অনেক মানুষ হলেই যেন উৎসবের বান ডাকে। রঙের মেলায় ভেসে যায় সব হতাশা। ষাটের দশকে পাকিস্তানিরা আমাদের সংস্কৃতির ওপর হামলা চালিয়েছিলো। তার প্রতিবাদেই ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে বর্ষবরণের শুরু। এ আয়োজন এখন বর্ষবরণের প্রাণ। কিন্তু পাকস্তনিরা না থাকলেও পাকিস্তানি ভাবধারার মানুষ এখনও রয়ে গেছে। বর্ষবরণ তাদের পছন্দ নয়। ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমা হামলা চালিয়ে তারা স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিলো, পারেনি। ১৯৮৯ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলায় শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।

গতো তিন দশক ধরে মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের বর্ষবরণের অনিবার্য অনুষঙ্গ। এই মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন শুধু
বাংলাদেশের নয়, বিশ^ ঐতিহ্যের অংশ। এই আনন্দ আয়োজনের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র চলছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শফি দুদিন আগে বলেছিলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা ইসলাম সমর্থন করে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্ষবরণের আয়োজনের সাথে ইসলাম কেন কোনো ধর্মেরই কোনো সম্পর্ক নেই। এ নিছক আমাদের বাঙালির প্রাণের উৎসব। মঙ্গল শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও  তঃস্ফূর্তভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আল্লাম শফির আহবানকে উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ অংশ নেয় মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এভাবেই উৎসবের বানে ভেসে যাবে সকল অমঙ্গলের ছায়া, সব ষড়যন্ত্র, সব হতাশা।
লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]