• প্রচ্ছদ » গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ » কাল ছিলো লিওনার্দো দা ভিঞ্চির জন্মদিন, বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসার মধ্যে ভিঞ্চি নিজেকেও এঁকেছিলেন ? প্রশ্ন উঠেছে নতুন


কাল ছিলো লিওনার্দো দা ভিঞ্চির জন্মদিন, বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসার মধ্যে ভিঞ্চি নিজেকেও এঁকেছিলেন ? প্রশ্ন উঠেছে নতুন

আমাদের নতুন সময় : 16/04/2019

দেবদুলাল মুন্না: গতকাল ছিলো বিশ্বখ্যাত লিওনার্দো দা ভিঞ্চির জন্মদিন। ইতালির রেনেসাঁসের কালজয়ী চিত্রশিল্পী। তার জন্ম ফ্লোরেন্সের ভিঞ্চি নগরের এক গ্রামে, ১৪৫২ সালের ১৫ এপ্রিল। তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘মোনালিসা’। ঠাঁই পেয়েছে ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়ামে। এক নারীর রহস্যময় হাসি। এ মোনালিসাকে নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ রয়েছে। প্রায় পাঁচশ বছর আগে আঁকা। কয়েকশো বছর ধরে মানুষ কম-বেশি বিশ্বাস করে আসছে দ্য ভিঞ্চির মোনালিসা ফ্লোরেন্সের তৎকালীন একজন সিল্ক ব্যবসায়ীর স্ত্রী লিসা গেরারদিনির প্রতিকৃতি। আবার ফ্রান্সের পাসকাল কোট নামের এক গবেষক গত ১৩ বছর ধরে গবেষণার পর বলছেন, প্রতিকৃতির রহস্যময়ী এই নারী অন্য কেউ ছিলেন। এখানেই থেমে নেই আলোচনা। ২০১৭ সালে জানা যায়, ‘অ্যালকেমিস্ট’ খ্যাত ব্রাজিলিয়ান লেখক পাওলো কোয়েলহো মনে করতেন, মোনালিসার প্রতিকৃতির মধ্যে একটি অংশে স্বয়ং লিওনার্দো দা ভিঞ্চির অবয়বের মিশেল আছে। আর এই তত্ত্ব নিয়ে শিল্পী মহলে শুরু হয় তোলপাড়।দ্য ভিঞ্চি মোনালিসার পোট্রেটটি নিয়ে কাজ করেছিলেন ১৫০৩ সাল থেকে ১৫১৭ সাল পযন্ত। শুরু করেছিলেন ইটালির ফ্লোরেন্সে, তারপর ফ্রান্সে। ২০০৪ সালে ল্যুভর কর্তৃপক্ষ ফ্রান্সের গবেষক পাসকাল কোটকে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে এই পোট্রেটের ছবি তোলার সুযোগ করে দেয়। তারপর ১৩বছর ধরে বিশেষ আলো এবং লেন্সের প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষণার পর এই বিজ্ঞানী বলছেন, ‘পোট্রেটের নারী লিসা গেরারদিনি নন, অন্য কেউ।’পাসকাল কোট বলেন, তিনি দেখেছেন ক্যানভাসের মোনালিসার পেছনে তিনটি আলাদা আলাদা ইমেজ। তৃতীয় যে ইমেজটি তিনি খুঁজে পাচ্ছেন সেটি অন্য এক নারীর মুখ, তার ঠোঁটে কোনো হাসি নেই। এই বিজ্ঞানী একরকম নিশ্চিত ক্যানভাসে খালি চোখে না দেখতে পাওয়া সেই মুখই লিসা গেরারদিনির। ১৩ বছর আগ পর্যন্ত এটা কল্পনা করাই কঠিন ছিল, এই পোট্রেটের ক্যানভাসে মোট চারটি ধাপ ছিল।’ এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, লিসা গেরারদিনির প্রোট্রেট কি পরে বদল করেছিলেন দ্য ভিঞ্চি? হয়তো প্রথমে শুরু করেছিলেন গেরারদিনিকে নিয়ে কিন্তু পরে অন্য কোনো নারীকেই আঁকেন? পেইন্টিংয়ের ইতিহাসবিদ অ্যান্ড্রু গ্রায়াম ডিক্সন এ বিষয়ে বিবিসিকে বলেন, পাসকাল কোটের এই তত্ত্ব গত একশ বছরে শিল্প জগতের সবচেয়ে সাড়া জাগানো খবর। কিন্তু এই তত্ত্বকে খারিজ করেন, ২০১৭ সালে পাওলো কোয়েলহোর ব্যাখা। তার ব্যাখা দেন তার জীবনীকার হের্সেই ব্রেনা। হের্সেই ব্রেনা গ্র্যাবিয়েল গর্সিয়া মার্কেজের বন্ধু ও নিজেও শিল্পী। তিনি ‘ইনস্টেন্টি’ রেডিও তে এক ইন্টারভিউতে বলেন, ‘পাওলো কোয়েলহো’র ধারণা মোনালিসার অবয়বের মধ্যে নিচের দিকে দ্য ভিঞ্চির নিজেরও অবয়ব আছে। নারী-পুরুষের মিশেলে এ পোট্রেট।’ নতুন এই আবিষ্কার শিল্প জগতের ইতিহাসের পুকুরে বিশাল এক পাথর ছুড়ে মারার মত ঘটনা। তবে লিওনার্দো নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন, তাদের অনেকেই নতুন এই তত্ত্বকে তেমন গুরুত্ব দিতে রাজি নন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট হিস্ট্রির অধ্যাপক মার্টিন কেম্প মানতে রাজি নন দ্য ভিঞ্চি, লিসা গেরারদিনির মুখের ওপর অন্য কোনো নারীর প্রতিকৃতি বা নিজের প্রতিকৃতির অংশাবিশেষ এঁকেছিলেন। ফলে মোনালিসার হাসি রহস্যই থেকে গেলো আজও।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]