নতুন বছরে রাজনীতিতে নতুন কি?

আমাদের নতুন সময় : 16/04/2019

বিভুরঞ্জন সরকার : আবহাওয়া পূর্বাভাসে পহেলা বৈশাখে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কার কথা ছিলো। কিন্তু পহেলা বৈশাখে ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। বড় কোনো দুর্ঘটনার খবরও নেই। মানুষ সারাদেশে উৎসব মুখর পরিবেশেই বাংলা নতুন বছরকে বরণ করেছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতাকারীরাও মাঠে নামতে পারেনি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়েছে। নানা বয়সের, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। মানুষ ধর্মান্ধদের কথা শোনেনি। সবাই যার যার মতো করে বৈশাখী আনন্দ-আয়োজনের অংশ নিয়েছে। এটাই বাঙালির শক্তির দিক। বাঙালি এমনিতে একটু বিভেদকামী। তারা সহজে এক মত, এক পথ হতে চায় না কিংবা হতে পারে না। কিন্তু বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আক্রান্ত হলে, বাধা পেলে তারা তা মাথা নত করে মেনে নেয় না। বরং বাধা না মানার প্রবণতাই বাঙালির মধ্যে প্রবল।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা ছিলো। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ছিলো অতি সতর্ক। ছিলো কিছু নিষেধাজ্ঞা, নিয়ন্ত্রণ। বিকেলের মধ্য সব বৈশাখী অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশের কারণে মানুষের মনে কিছুটা ক্ষোভ তৈরি হলেও সব কিছু ভালোয় ভালোয় শেষ হওয়ায় সবাই খুশি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে গণভবনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তিনি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নতুন বছরের প্রথম দিনে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার অভ্যাসমতো পহেলা বৈশাখেও ছিলেন হাসিখুশি প্রাণবন্ত। শিল্পীরা যখন সঙ্গীত পরিবেশন করছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রীকেও কণ্ঠ মেলাতে দেখা গেছে। দেশের প্রধান নির্বাহীর এমন নিরুদ্বেগ ভাব মানুষকেও আশাবাদী করে তোলে।
তবে পহেলা বৈশাখের আগের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠান প- হয়েছে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বিরোধের জেরে। একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তা শান্তিপূর্ণভাবে করতে না পারা ছাত্রলীগের মতো সংগঠনের জন্য অগৌরবের। ছাত্রলীগ এ রকম অগৌরবের কাজ একটির পর একটি করেই চলেছে। ছাত্রলীগের কিছু কিছু কাজকর্ম সরকারের জন্য বিব্রতকর হলেও ছাত্রলীগকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে এবার একটি নতুন মনস্তাত্ত্বিবক সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। সংগঠনের সভাপতি ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে হেরে গেছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডাকসুর জিএস পদে জিতেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাকসুর এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন। এখন সভাপতির সঙ্গে এদের একটি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এই দ্বন্দ্বের কারণেই ছাত্রলীগের নামে আয়োজিত বৈশাখী অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত হতে পারেনি। লক্ষণ ভালো নয়। ছাত্রলীগের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপই হয়তো ছাত্রলীগের এই নতুন সমস্যা জটিল হওয়ার আগেই নিষ্পত্তি ঘটাতে পারবে।
নতুন বছরের প্রথম দিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কেমন আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন? মির্জা আলমগীরের ভাষায় ‘ম্যাডাম বেশ অসুস্থ, অত্যন্ত অসুস্থ। উনি খেতে পারছেন না এখনও। এখনও তিনি পা বেন্ড করতে পারেন না। তার বাম হাত সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। অর্থাৎ বাম হাতটায় তিনি কাজ করতে পারেন না’। বিএনপি এখন তাহলে কি চায়? মির্জা আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা বার বার যেটা বলছিলাম যে, তার স্পেশালাইজড ট্রিটমেন্ট দরকার। তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসকদের দিয়ে তার চিকিৎসা করানো হোক’।
বিএনপির এই দাবি কি সরকার মানবে? প্যারোলে বেগম জিয়ার মুক্তি এবং বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা কিছুদিন থেকে চলছে। বেগম জিয়ার সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলামররা কোনো কথা বলেননি। তারা কথা না বললে সরকার উদ্যোগী হয়ে কিছু করবে বলেও মনে হয় না। নতুন বছরে নতুন কিছু দেখতে চাইলে বিএনপিকেই নতুন উদ্যোগ নিতে হবে।
এবার প্রকৃতি কিছুটা অস্থির বলে মনে হচ্ছে। বৈশাখে কাল বৈশাখী হয়। এবারও হবে। বেশি হবে কি? আবহাওয়ার প্রথম দিনের পূর্বাভাস সঠিক হয়নি। পরে কি হবে তা নিয়ে আগাম মাথা ঘামানোর কিছু নেই। প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজনীতি সব সময় চলে না। রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ভর করে নানা উপাদান উপকারণের ওপর।
নতুন বছর নিয়ে যে মাতামাতি তা-ও খুব বেশি দিন চলবে না। শিবরাম চক্রবর্তীর একটি মজার কথা আছে : নতুন বছর নিয়ে এতো চৈ চৈয়ের কিছু নেই। নতুন বছর পুরাতন হতে বেশি সময় লাগে না।
রাজনীতিতেও শেষ কথা বলে কিছু নেই। কোথা দিয়ে শেষ, কোথা থেকে শুরু তা এক বড় গোলক ধাঁধার মতো। কবিগুরুকে উদ্ধৃত করে লেখার ইতি টানি :
শেষ কহে একদিন সব শেষ হবে,
হে আরম্ভ, বৃথা তব অহংকার তবে।
আরম্ভ কহিল ভাই, যেথা শেষ হয়,
সেইখানে পুনরায় আরম্ভ-উদয়।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]