প্রতিনিয়ত রুট ও কৌশল বদলাচ্ছে মাদক মাফিয়ারা

আমাদের নতুন সময় : 16/04/2019

ইসমাঈল ইমু : প্রতিনিয়ত ভিন্ন কৌশল ও রুট বদলে ফেলছে মাদক মাফিয়ারা। মাদক মাফিয়ারা টেকনাফে নতুন করে আরও পাঁচটি র‌্যাবের ক্যা¤প স্থাপন ও বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্যের কড়া পাহারা থাকলেও থেমে  নেই ইয়াবা পাচার।

আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্রের সদস্যরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিত্য নতুন কৌশলে ইয়াবা ঢোকাচ্ছে বাংলাদেশে। কৌশলের অংশ হিসেবেই মাদক ব্যবসায়ীরা সমুদ্র পথে ইয়াবা আনছে। সম্প্রতি হেলিকপ্টারে করেও ইয়াবা পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে। এছাড়া আলু, পটল, কাঠাল, পেয়াজ, রসুন, শুকনা মরিচ এবং মানুষের পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে ইয়াবা আনা হচ্ছে।  বেকারত্ব এড়াতে বা অল্প পরিশ্রমে দ্রুত লাভের আশায় ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য যুবক-যুবতী।

গত ৩ এপ্রিল দুপুরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এক নারীর লাশের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে দেড় হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। ৪০ বছর বয়সি ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। কে বা কারা হাসপাতালে তার লাশ রেখে যায়। একদিন আগে সন্ধ্যার দিকে  ২ যুবক এই নারীকে হৃদরোগ ইস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখে তাকে মৃত ঘোষণা করলে ওই দু’জন অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসার কথা বলে বেরিয়ে আর ফেরেনি। ওই নারীর  পেটে  ৫৭ প্যাকেট ইয়াবা পাওয়া যায়। গত ২৯ মার্চ কক্সবাজারের  টেকনাফে ১৩  রোহিঙ্গার পেটের ভেতর থেকে ৪৩ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ সীমান্ত অতিক্রম করা ২৩  রোহিঙ্গাসহ ২৬জনকে ইয়াবাসহ আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এক্সরে করে এদের মধ্যে ১৩ রোহিঙ্গার পেটে ইয়াবা নিশ্চিত হওয়া যায়। তাদের প্রত্যেকের  পেটে ৩ হাজার পিসেরও বেশি ইয়াবা পাওয়া যায়। এর আগে কক্সবাজারে মাছের পেটে করেও ইয়াবা পাচারের ঘটনা ঘটেছে। আর ডাব, কাঠাল, তরমুজসহ নানা ফলের মধ্যেও ইয়াবা পাচারের ঘটনা পুরনো।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। উন্নত বিশে^র বিভিন্ন দেশও মাদক সমস্যায় জর্জরিত। তারাও হিমসিম খাচ্ছে। এখানে যারা নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের একটি অংশ মাদক নেটওয়ার্কে যুক্ত। তাছাড়া মাদককে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হলে এটাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে একযোগে সরকার ও বিরোধীদল যারা আছে, সবাইকে মাঠে নামতে হবে। এর কুফল সম্পর্কে প্রচার করতে হবে। শুধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর দায়ভার চাপিয়ে দিলে হবে না। যে যেখানে আছে, স্ব স্ব অবস্থান থেকে ইয়াবার বিষাক্ত ছোবলের কথা জানান দিতে হবে। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]