বেনার নিউজকে শহীদুল আলম বললেন, আমি স্বাধীনতাকে বিক্রি করতে চাইনি

আমাদের নতুন সময় : 16/04/2019

লিহান লিমা : গ্রেফতারের পর ভবিষ্যতে সরকার নিয়ে কিছু না বলতে রাজি করানোর জন্য পুলিশ তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বেনারনিউজের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। বেনার নিউজ
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনকে সমর্থন করে অনলাইনে সরকারের সমালোচনার পর ৫ আগস্ট রাতে শহিদুলকে তথ্য প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন বিকেলে আদালতে হাজির করার মাঝখানের সময়টাতে কী ঘটেছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে শহিদুল বলেন, ‘সরকার নিয়ে কিছু বলবেন না’ এই স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য পুলিশ মারধরের পাশাপাশি শরীরে পিন ফোটানো ও পানিতে চোবানোর ভয় দেখিয়েছিলো। তবে শহিদুল আলমের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ সদরদপ্তর।
শহিদুল জানান, ৫ আগস্ট রাতে রাত সাড়ে দশটার দিকে বেল বাজিয়ে এক তরুণী তাঁকে ‘আংকেল শহিদুল’ ডেকে দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলার সাথে সাথে আড়াল থেকে বেশ কয়েকজন লোক এসে তাঁকে জাপটে ধরে। তিনি বলেন, ‘ওই মুহুর্তেই আমি বুঝতে পারি কি ঘটতে যাচ্ছে। ফাঁকা বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে গুম করে ফেলা হতে পারে এই আশঙ্কায় আমি যতদূর সম্ভব ঘটনাটাকে বিলম্বিত ও চিৎকার করে আশপাশ জানান দেবার চেষ্টা করি।’
শহিদুল বলেন, ‘আমার হাত পেছন দিয়ে বাঁধা ও চোখ বাঁধা ছিলো। স্বীকারোক্তি আদায় করতে না পেরে আমার মাথার ওপরে ওজন রাখা হলো। এরপর আমাকে আঘাত করা হয়। টের পাই, আমার মুখ, নাক থেকে রক্ত ঝরে কাপড় ভিজে যাচ্ছে। পানিতে চোবানোর ভয় দেখানো হয়। আমার চোখের পট্টি যখন খোলা হলো, তখন দেখি একটা জলাশয়ের সামনে আমি দাঁড়িয়ে।’
তিনি আরো বলেন, আটকের রাতে নির্যাতন করা হলেও পরের দিন ৬ আগস্ট সকালে পুলিশ সদরদপ্তরে খুব ভালো আচরণ ও আপ্যায়ন করে সরকার নিয়ে কোনোকিছু না বলার শর্তে ছেড়ে দেবার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু চুপ থাকার শর্তে মুক্তির প্রস্তাবটি আমার জন্য গ্রহণযোগ্য ছিল না বলে আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। আমি স্বাধীনতাকে বিক্রি করতে চাই নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র মাসুদুর রহমান শুক্রবার বেনারকে বলেন ‘গ্রেপ্তারের পর তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকারের বিরুদ্ধে কিছু না বলার শর্তে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে ছেড়ে দেবার প্রস্তাবটিও সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর আমরা কাউকে ছাড়তে পারি না। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ছাড়া না ছাড়ার একমাত্র এখতিয়ার আদালতের।’




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]