মমতার নির্বাচনি সমীকরণ ও তাকে নিয়ে ছড়া গান

আমাদের নতুন সময় : 16/04/2019

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রত্যাশা- ‘এই রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে ৪২টা আসনে জিতেই আমরা দিল্লি দখল করব। দিল্লিতে সরকার গঠন করব। মানুষের জন্য কাজ করব।’ তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে বলেছেন, চলতি লোকসভার নির্বাচনে বিজেপি কিছুতেই সরকার গঠন করতে পারবে না। সব মিলিয়ে তারা যদি ১০০টা আসনও পায় তবে বুঝতে হবে তাদের ভাগ্য ভালো। গত ১৩ এপ্রিল তিনি শিলিগুড়ির বাঘা যতীন পার্কে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বক্তৃতা করছিলেন।

মমতা বলেন, ‘গত পরশু (১১ এপ্রিল) প্রথম দফায় ৯১টা আসনে ভোট হয়েছে। তাতে আগে ওদের ৩২টা আসন ছিল কিন্তু এবার শুনছি ১০টাও পাবে না। পুরো ঝাড়খন্ড, অন্ধ্রপ্রদেশে বড় গোল্লা পাবে, তেলেঙ্গানায় গোল্লা। উত্তর প্রদেশে ৪টি আসনে ভোট হয়েছে সেখানেও গোল্লা। তবে কোথা থেকে হবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার গঠনের জন্য ২৭২ আসন দরকার। সেখানে অন্ধ্র, তামিলনাড়ু, কেরল, কর্ণাটকে বিরোধীরা ৬০ শতাংশ আসন পাবে, উত্তর প্রদেশে বিরোধীরা ৮০ শতাংশ, বিহারে বিরোধীরা ৬০ শতাংশ আসন পাবে। বাংলা, উড়িষ্যা, দিল্লিতেও শূন্য। উত্তর-পূর্বেও শূন্য হবে। তাহলে পাবে কোথা থেকে? আসামে গতবারে যা ছিল এবার তা পাবে না। গুজরাটেও যা আসন ছিল তার ৬০ শতাংশ কমে যাবে। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ে বিরোধীদের দখলে ৬০ শতাংশ চলে যাবে। তো পাবে কোথা থেকে? ১০০টা আসনও যদি পায় তবে বুঝবেন ভাগ্য ভালো। তারা নাকি আবার সরকার গড়বে।’

বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘ধর্ম মানে হিংসা বা যুদ্ধ নয়। ধর্ম মানে মানবিকতা। কিন্তু সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করছি যে ধর্মের নামে কিছু রাজনৈতিক দল মিথ্যা ধর্মের আমদানি করে একে অন্যের সঙ্গে হিংসা করছে, সন্ত্রাসী করছে। সমাজকে কলঙ্কিত করার জন্য এরা নতুন ধর্মের আমদানি করছে। এর সঙ্গে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান- কারওই সম্পর্ক নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ গদা নিয়ে, কেউ তরবারি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন ভোট চাইতে। রাজনীতির সঙ্গে এর কী সম্পর্ক? গদা নিয়ে কার মাথা ফাটাবেন? তরবারি নিয়ে কার গলা কাটবেন? মনে রাখবেন- এটা বাংলা, বাংলায় এসব করে ভোট হয় না। যারা ত্যাগ করবে তারা গেরুয়া পোশাক পরবে, এরা কারা- ভিতরে কালো আর সামনে গেরুয়া লাগিয়ে বলছে আমরাই সব।’ তার দাবি- ‘ধর্ম নিয়ে আমরা রাজনীতি করি না। আমাদের প্রয়োজন পড়ে না।’

কিন্তু ওই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি না করার দ্ব্যর্থহীন অভিব্যক্তি সত্ত্বেও মমতা ব্যানার্জীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়া গান ভাইরাল হয়েছে। বলা হচ্ছে, তা ‘পশ্চিমবঙ্গের পিসি ভাতিজিদের ছড়া গান’। এতে সূচনায় শাল গায়ে মমতার একটি ছবির উপর লেখা রয়েছে- ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর জয় জয়াকার। নব বঙ্গের রূপকার – তোমায় নমস্কার। এরপরই সেখানে টুপি পরিহিত মুসলমানদের সঙ্গে একত্রিত হওয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হ্যাস্যোজ্জ্বল অন্তরঙ্গতায় আলিঙ্গণ করা, মোনাজাত হাতে বসা, এমনকী তার ‘আজব ছড়া’ বইয়ের প্রচ্ছদটি তুলে ধরা হয়েছে। তাতে ছড়া গানটি দাঁড়িয়েছে- ‘ও পিসি তুই চলে যা, বাংলাদেশে চলে যা, হেথায় তোকে মানাইছে না রে, ইক্কেবারে মানায়ছে না রে। মোদী দেশে খেতাব দিলো, গ্যাস দিলো, বীমা দিলো, পায়খানাটা বানিয়ে দিলো। জমির উপর বাড়িরে, জমির উপর বাড়ি। তুই কী দিলি যতি পিসি, ডিম-ভাত আর বিষের শিশি, হেথায় তোকে মানায়ছে না রে, ইক্কেবারে মানায়ছে না রে। গঙ্গাপাড়ে পদ্মফুল, নানা মাইনসের আশারে, নানা ধর্মের ভাষা। সহায় সমান মোদীর কাছে এটাই ভালবাসারে, এটাই ভালবাসা’।

বোঝা গেল, মমতার নির্বাচনি সমীকরণপূর্ণ ওই বক্তব্যে যেমন ধর্ম ‘গেরুয়া পোশাক নয়’, তেমনি সেই ভাইরাল হওয়া ছড়া গানে মোদীর ধর্ম হচ্ছে ‘গঙ্গাপাড়ে পদ্মফুল’। বলাবাহুল্য, নরেন্দ্র মোদীর জাতীয় দল, বিজেপি’র প্রতীক সবুজ পাতায় গেরুয়া রংয়ে ‘পদ্মফুল’, অর্থাৎ ‘অবিচ্ছেদ্য মানবতা’। আর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যভিত্তিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক হচ্ছে, হস্তঅঙ্কিত ভারতীয় পতাকার রংয়ে তিন পল্লবের ‘জোড়া ঘাষফুল’, যেন জোয়ালবদ্ধ নারী-পুরুষের সম্মিলন এবং তা ফরওয়ার্ড ব্লকেরও নির্বাচনী প্রতীক। কিন্তু এই প্রতীকের মাহাত্ম্য যাই হোক, বাস্তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য মতে বিজেপি গতবারের ৫ বিলিয়নের পরিবর্তে ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৩ লাখ ৬৪ হাজার কোটি ভারতীয় রুপি নিয়ে এবার নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছে। পৃথিবীর বৃহৎ গণতন্ত্রে দরকষাকষিতে ক্ষমতাবান শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরাই সেই অধিকাংশ অর্থের যোগানদাতা, যারা ১০০ কোটির উপর জনসংখ্যার দেশটিতে মাত্র এক-শতাংশ, অথচ ৬০ শতাংশ জাতীয় সম্পদের মালিক। এক্ষেত্রে ওই ছড়া গান বাড়তি মনোরঞ্জনই বটে!
ই-মেইল: [email protected]




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]