সারাদেশে বর্ষবরণ, রমনায় নুসরাতের জন্য ১ মিনিট নীরবতা, সনজীদা ক্ষোভে বলেন ‘ কিছু মানুষ কি পাষ- হয়ে উঠল?’

আমাদের নতুন সময় : 16/04/2019

দেবদুলাল মুন্না : রোববার শান্তিপূর্ণভাবে সারাদেশে নববষর্-১৪২৬ শান্তিপূর্ণ ও আনন্দ উল্লাসে পালিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও প্রতিটি জেলা শহরে বেরিয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। পার্বত্য চট্টগ্রামে হয়েছে ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু মিলে হয় বৈসাবি উৎসব। কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে দিনটি পালিত হয় সাড়ম্বরে।
নববর্ষের ভোরে রমনার বটমূলে ছিল ছায়ানটের চিরচেনা সঙ্গীতানুষ্ঠান। ছায়ানটের শিল্পীরা নতুন সেই সূর্যোদয়কে স্বাগত জানান, রাগালাপ দিয়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নববর্ষ যদি ভ্রাতৃত্ববোধ, মানবতাবোধের উন্মেষ না ঘটাতে পারে, তবে নতুন দিন কী বার্তা নিয়ে আসে?, এরপর বলেন, ‘কিছু মানুষ কি পাষ- হয়ে উঠল?’ অনুষ্ঠানে নীরবতা পালন করা হয় এক মিনিট। নুসরাত, তনুদের ওপর অত্যাচার-অবিচারের প্রতিবাদে এই নীরবতা পালন করা হয়। এই উৎসবে শামিল হন বিদেশিরাও। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনেক বিদেশি নাগরিকও অংশ নেন। শাহবাগ, টিএসসি, চারুকলা, রমনা পার্কসহ আশপাশের এলাকায় তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিদেশিরা নববর্ষ উৎসবে উদ্বেল মানুষের ছবি তুলছেন, পাঞ্জাবি-শাড়িতে নিজেরাও সেজেছেন বৈশাখী সাজে। অনেকেই রঙ তুলি দিয়ে শরীরে আঁকিয়ে নিয়েছেন একতারা, ঢোল; লেখাচ্ছেন নববর্ষ। আর তাদের সঙ্গে ছবি, সেলফি তোলায় মেতে উঠছেন বর্ষবরণ উৎসবে আগতরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে সকাল ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি টিএসটি মোড় হয়ে ফের চারুকলার সামনে সকাল ৯টা ৪৫মিনিটের দিকে এসে শেষ হয়। বুড়িগঙ্গার তীরে শোভাযাত্রায় ‘বাঁচলে নদী বাঁচবে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ সেøøাগানে নতুন বছরকে স্বাগত জানান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ওয়াইজ ঘাট ও আহসান মঞ্জিল এলাকা ঘুরে এই শোভাযাত্রা আবার ক্যাম্পাসে এসেই শেষ হয়। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুরের ধারা আয়োজিত সঙ্গীতানুষ্ঠান চলে দিনভর। হাতিরঝিলেও ছিলো গানের অনুষ্ঠান। বিকালের পর জনসমুদ্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা। এবারের শোভাযাত্রায় মুখোশের পরিবর্তে মাছের প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়। এছাড়া শুশুক, বজরা, ডিঙ্গি, ময়ূরপঙ্খী নৌকাসহ নদী সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের প্রতীকী উপস্থাপনা দেখা যায় হাতে হাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও পুরান ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরে শেষ বিকেলে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে হাজারও মানুষের ঢল নামলেও আগত দর্শনার্থীদের রবীন্দ্র সরোবরের আশপাশের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করেই সময় কাটাতে হয়েছে। কারণ, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিকেল ৫টার পর আর সেখানে কাউকে থাকতে দেয়া হয়নি। ডেমরার সারুলিয়া, যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া, ধূপখোলাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রোববার থেকে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘বৈশাখী মেলা-১৪২৬’ এর আয়োজন করা হয়। স্থানভেদে এসব মেলা ৪দিন থেকে সপ্তাহখানেক চলবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]