ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, গভীর ষড়যন্ত্র বললেন রঞ্জন গগৈ

আমাদের নতুন সময় : 21/04/2019

রাশিদ রিয়াজ : প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে দেশের বিচারব্যবস্থাকে। খোদ প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠায় দেশের ‘বিচারব্যবস্থা বিপন্ন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার এই নজিরবিহীন অভিযোগ সামনে আসার পরই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির ডাক দেয় সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ। সেই বেঞ্চের প্রধান হিসেবে রঞ্জন গগৈ শুনানির সময় মন্তব্য করেন, ‘এই অভিযোগ অবিশ্বাস্য। এই অভিযোগ অস্বীকার করতে গেলেও যতটা নীচে নামতে হয়, তার জন্য আমি প্রস্তুত নই।’ যদিও এই মামলায় তিনি কোনও রায় দেবেন না, প্রবীণতম বিচারপতি অরুণ মিশ্রই এই মামলায় রায় দেবেন বলে জানান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।
একই সঙ্গে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যে নারী তার বিরুদ্ধে এই মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন, তার সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন অপরাধের যোগ আছে। ওই নারীর বিরুদ্ধে দু’টি পুলিশ কেসও আছে বলে জানান প্রধান বিচারপতি। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটাও শুনানির সময় বলেছেন, এই অভিযোগ প্রধান বিচারপতিকে ব্ল্যাকমেল করার কোনও কৌশল হতে পারে।
এই মামলার রায় যিনি দেবেন, সেই বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, এই ধরনের বিবেকবর্জিত অভিযোগের ফলে মানুষের মনে বিচারব্যবস্থার জন্য যে সম্মান ও ভরসার আসনটি রাখা, সেটি টলমল করে ওঠে। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বের সঙ্গে খবর পরিবেশন করতে অনুরোধ করেছেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন, এধরনের অভিযোগ দেশটির বিচার ব্যবস্থার জন্যে হুমকি। রোববার আদালতে এসে প্রধান বিচারপতি তার হাতে থাকা সব মামলা ছেড়ে দেবেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া/এনডিটিভি/আনন্দবাজার।
যৌন হেনস্থার অভিযোগকারী ওই উচ্চতর আদালতের জুনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। ওই নারী তার অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে ২২ জন বিচারপতির কাছে হলফনামা জমা দিয়েছেন। তবে এই অভিযোগ মিথ্যে বলে খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেল।
৩৫ বছর বয়সী সাবেক ওই নারী কর্মী সুপ্রিম কোর্টের ২২ জন বিচারককে চিঠি লিখে জানান, ২০১৮ সালের ১০ এবং ১১ অক্টোবর তাতে নিজের বাড়িতে ডেকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন রঞ্জন গগৈ। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘উনি আমার কোমর জড়িয়ে ধরে সারা শরীর স্পর্শ করছিলেন। আমি নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করলেও উনি আমাকে জোর করে ধরে রেখেছিলেন।’ প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তোলা তার এই অভিযোগ প্রকাশ হয় ভারতের স্ক্রোল, দ্য ওয়্যার, লিফলেট এবং দ্য ক্যারাভান পত্রিকায়।
এই মুহূর্তে এই মামলায় কোনও রায় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টিতে সংবাদমাধ্যমকে সংযত এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে অনুরোধ করেছেন তারা। বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেছেন, ‘এই ধরনের অভিযোগ এলে বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে দেওয়া হবে। তার কথায়, ‘২০ বছর ধরে চাকরি করার পর আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আছে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আমার পিওনের কাছেও এর থেকে বেশি টাকা আছে। ২০ বছর ধরে চাকরি করার পর এটা কি প্রাপ্য ছিল আমার?’ সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]