শর্টশার্কিটে আগুন লাগে নটরডেম ক্যাথেড্রালে, বলল তদন্তকারী দল

আমাদের নতুন সময় : 21/04/2019

লিহান লিমা : ফ্রান্সের তদন্তকারীদল মনে করছেন, বৈদ্যুতিক শট সার্কিটের কারণেই সম্ভবত আগুন লেগেছে প্যারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রালে। গত সোমবার এই ক্যাথেড্রালটি অগ্নিকা-ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ভবনের মূল কাঠামো অক্ষত রয়েছে। গার্ডিয়ান, এসোসিয়েট প্রেস, টাউনহল
শুক্রবার জুডিশিয়াল পুলিশ অফিস এপিকে জানায়, ‘প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শট সার্কিটই গোথিক যুগের এই স্থাপত্যশৈলিতে আগুন লাগার কারণ। তদন্তকারীরা আশা করছেন তারা ক্যাথেড্রালের ভেতরে প্রমাণের জন্য অনুসন্ধান চালাবেন। যেখানে থাকা ক্যাবল, লাইট বা সার্কিটের অংশ কোন সংকেত দেবে, যদিও আগুনে পোড়া বৃহত্তর এই অংশ থেকে কোন সূত্র পাওয়া কঠিন হবে।’
এদিকে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারী দল ক্যাথেড্রালের স্টাফ ও সংস্কারকর্মীসহ মোট ৪০জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তদন্তকারীরা কোন প্রমাণ অনুসন্ধানে ক্যাথেড্রালের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। এর আগে ফ্রান্সের তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ বলেছে, ক্যাথেড্রালে আগুন লাগার জন্য প্রাথমিকভাবে দূর্ঘটনাকেই দায়ী ভাবছেন তারা। এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতো কোন কারণ জানা যায় নি।
ড্রোনের ছবিতে দেখা গিয়েছে, স্পেয়ারের পাশে ক্যাথেড্রালের ছাদের মূল স্থান থেকে আগুন ছড়িয়েছে। কিন্তু আগুন ছড়িয়ে পড়ার স্থানটি এখনো নির্ধারিত নয়। ক্যাথেড্রালের ভেতরের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখনো ক্যাথেড্রালের ভেতরে রয়েছেন ৬০জন দমকলকর্মী।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাড়ে আটশো বছরেরও বেশি প্রাচীন এই ক্যাথেড্রালের কাঠের ভাস্কর্য এবং প্রশস্ত খোলা জায়গা, সঙ্গে আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার অভাব, এই দুই কারণে অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। একটি পর্যায়ে ৯৩ মিটার উঁচু স্পায়ারটি ধ্বসে পড়ে কাঠের তৈরি ছাদটিও ভস্মিভূত হয়ে যায়। ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রায় ৪০০ দমকলকর্মীর অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গির্জাটি তৈরি করতে সময় লেগেছিলো ১৮২ বছর!
১৮৮৯ সালে আইফেল টাওয়ার নির্মাণের আগে এটিই ছিল প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য। শুধু পর্যটকদের কাছেই আকর্ষণীয় নয়, বছরে এখানে অন্তত ২ হাজার ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। ভিক্টর উগোর ১৮৩১ সালের উপন্যাস ‘দ্য হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম’ বিশ্বখ্যাত এই ক্যাথেড্রালটিকে আরো জনপ্রিয় করে তোলে। উপন্যাসটি অবলম্বনে ১৯৫৬ সালে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]