শিল্পীদের দুঃস্থতার মানদ- কী?

আমাদের নতুন সময় : 21/04/2019

প্রভাষ আমিন : শেখ হাসিনা অন্য সবার চেয়ে আলাদা। তার মানবিকতার অসংখ্য উদাহরণ আছে, সেটা যেমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে; তেমনি ব্যক্তি পর্যায়েও। এতো ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি চারপাশের খোঁজ রাখেন। কেউ হাসপাতালে বিপদে আছেন, জটিল রোগে ভুগছেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না; খবর পেলেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টিম চলে যায় সেখানে। শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাকেও খোঁজ খবর রাখেন। দলের সাধারণ সস্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে যেমন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর পাঠান, তেমনি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স তৈরি থাকে ফেনীর নুসরাতের জন্যও। সুবীর নন্দী সিএমএইচএ ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন, একই সঙ্গে আছেন শেখ হাসিনার তীক্ষè নজরদারিতেও। প্রিয় শিল্পী সুবির নন্দীর সর্বোচ্চ চিকিৎসাটাই হবে, এটা আমরা জানি। জানি বলেই আমরা নিশ্চিন্ত। শেখ হাসিনার আরেকটা বড় গুণ, সহায়তা করার সময় তিনি রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থাকেন। গুণী চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু তিনি অসুস্থ হওয়ার পর শেখ হাসিনা তার ছেলেদের ডেকে এনে কাঁধে রাখেন এবং আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। যদিও বাঁচানো যায়নি, তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছিলো। শেখ হাসিনার কৃপায় উন্নত চিকিৎসায় নতুন জীবন পেয়েছেন এমন শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, খেলোয়াড় আছেন অনেক।
তবে এই দুঃস্থ শিল্পী-সাহিত্যিকের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। এমন অনেক সাংবাদিককে চিনি, যারা ব্যক্তিগত জীবনে যথেষ্ট স্বচ্ছল হলেও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অনুদান নিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই তহবিল তো সত্যিকারের দুঃস্থ মানুষের জন্য। তিনি শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, এমনকি সাধারণ মানুষ যেই হোন। দুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম গুণী অভিনেতা আহমেদ শরীফ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য ৩৫ লাখ টাকার চেক নিচ্ছেন। দেখে খুব ভালো লাগলো। শেখ হাসিনা আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কোনো দলের নন, দেশের সবার প্রধানমন্ত্রী। কারণ আহমেদ শরীফ বরাবরই বিএনপির রাজনীতির প্রতি অনুগত। শুধু অনুগতই নন, তিনি মাঠেও সক্রিয়। তিনি কুষ্টিয়ার একটি আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। তিনি জাসাসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এতোকিছুর পরও প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে নিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য ৩৫ লাখ টাকা দিয়েছেন; এটা অবশ্যই তাঁর ঔদার্য্যরে প্রমাণ। কিন্তু আওয়ামী লীগ মহলেই আহমেদ শরীফের দুঃস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কী কী বলেছেন; তার ফিরিস্তি দিচ্ছেন। কিন্তু সেটা রাজনৈতিক ভিন্নমত। সেটা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু অনেকে বলছেন, আহমেদ শরীফ যথেষ্ট স্বচ্ছল। একসময় তুমুল জনপ্রিয় আহমেদ শরীফ আটশরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সঞ্চয়ের কথা জানি না, ক্যারিয়ারে তিনি আয় কম করেননি। সত্যমিথ্যা জানি না, ফেসবুকে দেখলাম আহমেদ শরীফ উত্তরা ক্লাবের সদস্য। গুলশান ক্লাবে নিয়মিত হাউজি খেলেন। তার মানে তার জীবনযাপন যে মানের তাতে তাকে দুঃস্থ বলা যাবে না। যার কিছুই নেই, তিনিই শুধু দুঃস্থ হিসেবে সহায়তা পেতে পারেন। কিন্তু যার গাড়ি বা বাড়ি আছে, যেটা বিক্রি করে চিকিৎসা করা সম্ভব; তাকে দুঃস্থ বলা যাবে না। আমাদের দেশে সত্যিকারের দুঃস্থ শিল্পী, সাহিত্যিক, অভিনেতা, সাংবাদিক, খেলোয়াড় অনেকেই আছেন। তাদেরকেই যেন সহায়তা করা হয়।
রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোয় প্রধানমন্ত্রীকে আবারও ধন্যবাদ। এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে। তবে সত্যিকারের দুঃস্থরাই যেন প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পান, সেটা নিশ্চিত করাটাই জরুরি।
লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]