• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » শপথ নিয়ে বিব্রত বিএনপি, সন্দেহের তীর ড. কামাল হোসেনের দিকে, শঙ্কায় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ


শপথ নিয়ে বিব্রত বিএনপি, সন্দেহের তীর ড. কামাল হোসেনের দিকে, শঙ্কায় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ

আমাদের নতুন সময় : 29/04/2019

শাহানুজ্জামান টিটু : জাহিদুর রহমানের শপথ বিএনপিকে যে বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে তা দলটির শীর্ষনেতাদের কথায় প্রমাণ মিলছে। আরো চারজন শপথ নিতে পারেন এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচিত উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া তার বিষয়টি পরিস্কার করে বলেছেন, আমার শপথ নেয়ার বিষয়ে পত্রপত্রিকায় যেসব খবর ছাপা হচ্ছে, তা কেবল ভিত্তিহীনই নয়, এক কথায় রাবিশ। অন্যরা তাদের অবস্থান পরিস্কার করছেন না। শপথ ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান কঠোর। জাহিদকে দল থেকে বহিস্কার বাকিদের জন্য সর্তক বার্তা। সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারাই শপথ নেবেন তাদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরণের পদ থেকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নীতিনির্ধারকদের এই কঠোর অবস্থান বাকিরা মানবেন কিনা এজন্য অপেক্ষা করতে হবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বৃহত্তম একটা রাজনৈতিক দল বিএনপি। যে দলের জনভিত্তি রয়েছে। এখান থেকে দুই একজন ঝরে গেলে বা চলে গেলে এর প্রভাব পড়বে না। এরআগেও অনেকে গেছেন কিন্তু লাভ হয়নি। বিএনপি জনগণের সমর্থনে আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নির্বাচিতদের শপথ নিয়ে সরকারের পাশাপাশি সন্দেহের তীর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের দিকে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, নির্বাচন পরবর্তী, সর্বশেষ তার দলের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানকে নিয়ে তার দ্বৈত অবস্থান বিএনপির হাইকমান্ডকে ভাবাচ্ছে। নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কেউ কেউ এমনকি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পযার্য়ের কোনো কোনো নেতা ড. কামাল হোসেনকে সন্দেহ পোষণ করছেন। তারা মনে করেন, বিএনপির নির্বাচিতদের ভাগিয়ে শপথ নেয়ার পেছনে ড. কামাল হোসেনের নেপথ্যে কোনো ভূমিকা থাকতে পারে। তাদের এই ধারণা আরো বেশী প্রবল হয়েছে সম্প্রতি গণফোরামের কাউন্সিল ড. কামাল হোসেন তার পাশে মোকাব্বির খানকে বসিয়েছেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এক নেতা জানান, নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন সময়ের প্রয়োজনে করতে হয়েছে। তিনি ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
দলের সূত্র জানায়, ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকেই ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির অনেকেই সন্দেহ পোষণ করছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের আগের দিন ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠলেও ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা হয়ে তিনি এর প্রতিবাদে কোনো উদ্যোগই নেননি। নির্বাচনে যাওয়া, বিএনপিকে নির্বাচনে রাখা এবং গণফোরামের দুই এমপির শপথের বিষয়টি একই সূত্রে গাঁথা। গণফোরামের দুই এমপি শপথ নিয়ে বলেছিলেন ড. কামাল হোসেন এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। তাদের এই বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ বা এনিয়ে আজ পর্যন্ত টু শব্দটিও করেননি তিনি । এমনকি কোনো অনুষ্ঠানে ড. কামাল নিজ উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি বা জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ করেননি। এছাড়া আরো কিছু বিষয়ে বিএনপির ভেতরে বড় একটা অংশ ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ। এসব কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত অনেকেই।
ড. কামাল হোসেনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। এরআগে বিএনপির নীতির্নিধারকদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কেনো আমরা ড. কামাল হোসেনকে নেতা মানলাম বলতে পারবো না। আমাদের কি নেতা বা নেতৃত্বের অভাব আছে? সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]