• প্রচ্ছদ » আমাদের বিশ্ব » পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করলো ইউরোপ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ


পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানের আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করলো ইউরোপ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ

আমাদের নতুন সময় : 10/05/2019

লিহান লিমা : ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির কিছু শর্ত থেকে ইরানের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণার আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপিয় ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার তারা বলছে, তারা ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিন্তু তারা কোন ধরনের আলটিমেটাম গ্রহণ করবেন না। ইইউ’র বিবৃতির পর ইরানের পরমাণু শক্তি কমিশনের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য পরমাণু চুক্তি শক্তিশালী করা ও এটিকে সঠিক পথে নিয়ে আসা।’ ডয়েচে ভেলে, সিএনবিসি, বিবিসি

যৌথ বিবৃতিতে ইইউ’র বৈদেশিক নীতি বিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনি এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, ‘আমরা যৌথ পরমাণু চুক্তির প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু আমরা যে কোন ধরনের আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করছি ও ইরানকে পরমাণু চুক্তির প্রতি পূর্ণাঙ্গ দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান করছি। সেই সঙ্গে আমরা যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’ বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও কপারের ওপর নিষেধাজ্ঞারোপ করে। এর আগে দেশটির পেট্রোলিয়ামের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো ওয়াশিংটন। এর আওতায় ৯০ দিন পর থেকে ইরানের কাছ থেকে এই সব পণ্য কিনলে যে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে ওয়াশিংটন। সেইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসন আরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে।

বুধবার টেলিভিশন ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, বিশ্বশক্তিগুলো যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তাহলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রক্রিয়া আবার শুরু করবে ইরান। তবে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে যারা এখনো চুক্তির পক্ষে রয়েছেন, অর্থাৎ জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন এবং রাশিয়া ইরানের তেল এবং ব্যাংকিংখাত রক্ষায় তাদের প্রতিশ্রতি পূরণে আর ৬০ দিন সময় পাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী পাঠানোর পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটি। তেহরানকে ‘পরিষ্কার এবং সন্দেহাতীত’ বার্তা দিতে রণতরীর এই বহর পাঠানো হয়েছে বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইরান শুধু পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাতে পারবে না। তবে আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি চালু রাখার অধিকার সে দেশের রয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসার মতো ক্ষেত্রে পরমাণু শক্তি কাজে লাগানো যেতে পারে। এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা বলেন। সাম্প্রকি মাসগুলোতে ওয়াশিংটনের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় আঘাত হানছে ইরানের অর্থনীতিতে, দেশটির মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে চারগুণ, কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ ।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]