বাঁচার জন্য খাই, না মরার জন্য ?

আমাদের নতুন সময় : 10/05/2019

বিভুরঞ্জন সরকার :প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজে চোখ রাখলেই মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ভালো খবরের চাইতে খারাপ খবর বেশি। বেশি যদি না-ও হয়, তবু সেগুলোর প্রভাব বেশি। ধর্ষণের খবর, হত্যার খবর, মৃত্যুর খবর, খাদ্যে ভেজাল মেশানোর খবর, জঙ্গি আনাগোনার খবর, সড়ক দুর্ঘটনার খবর, বঞ্চনার খবর, বৈষম্যের খবর- আরো কতো কতো খবর। রাজনীতিতেও নেই তেমন কোনো সুখবর। সেখানে এখন চলছে প্রচ- খরা। রাজনীতি হয়ে পড়েছে  একমুখী । সরকারবিরোধী রাজনীতিতে এতোটা দুঃসময় সম্ভবত বাংলাদেশ ভূখন্ডে আগে কখনো দেখা যায়নি। কতোদিন দেশ এভাবে চলবে, কবে রাজনীতির আকাশ থেকে কেটে যাবে কালো মেঘের আনাগোনা- কেউ তা বলতে পারে না।

এই যে বাংলাদেশে হঠাৎ করে একশ্রেণির মানুষ এতোটা  ধর্ষণপ্রবণ হয়ে উঠলো তার জন্য দায়ী কি বা কে? মানুষের মধ্যে ধর্ষণপ্রবণতা আগে ছিলো না, এমন হয়তো নয়। কিন্তু ইদানীং এটা বেড়েছে। আশঙ্কাজনকভাবেই বেড়েছে। চলন্ত বাসে একাকী এক নারী যাত্রীকে চালক ও তার সহযোগী মিলে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে। কি ভয়ঙ্কর ঘটনা! শিক্ষক ধর্ষণ করছেন তার কন্যাসম ছাত্রীকে। কেন এই বিকার? এর জন্য দায়ী করবো কাকে? রাজনীতিতে আদর্শহীনতা, নীতিহীনতা এবং সুবিধাবাদিতার কুপ্রভাব সমাজে বিস্তার ঘটছে কি?

সময় এসেছে, সবকিছু নিয়ে গভীরভাবে ভাবার। সমস্যা চোখের সামনে এসে ডোরবেল না বাজালে আমরা যে সতর্ক হই না, এটা সত্য । এই অবস্থাটা দূর করা দরকার। দুধ,দই, ডিম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে এতোদিন জেনে এসেছি। এখন এসব খাবারও আর বিষমুক্ত নেই।  পানির অপর নাম নাকি জীবন। অথচ বিশুদ্ধ পানিরও তীব্র সংকট চলছে । তাই প্রশ্ন আসছে, আমরা কি এখন বাঁচার জন্য খাই, নাকি মৃত্যুকে বরণ করার জন্য খাই? ভেজাল খাবার, বিষ মেশানো খাবার, নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে খাবার বিক্রি করে যারা মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুপথে ঠেলে দিচ্ছে তাদের এখনই থামাতে না পারলে আমাদের অকাল মৃত্যুর মিছিল কেউ ছোট করতে পারবে না।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

 

 

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]