ভারতের প্রধানমন্ত্রিত্বের আসনে এবার কে বসছেন?

আমাদের নতুন সময় : 10/05/2019

অনিন্দ্র মাঝি, কলকাতা ও সন্তোষ ভট্টচার্য আগরতলা, সহযোগিতায় অসীম সাহা

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের  ৫ম পর্বের ভোটশেষে সকলের মনেই প্রশ্ন,  ভারতের প্রধানমন্ত্রিত্বের আসনে এবার কে বসছেন? বিশেষজ্ঞ, জনজরিপ এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নানারকম মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে এটাই এখন কোটি মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, দিল্লির মসনদে কাকে দেখা যাবে? বিজেপি না কংগ্রেস? কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এবার তারাই ক্ষমতায় আসছেন। আর বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ তো ১৮২ আসনের ‘ ম্যাজিক ফিগার’ নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসছেন বলে দাবিই করেছেন। এখন চূড়ান্ত ফলাফল দেখার জন্য সারা পৃথিবীকে আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

তবে ভারতীয় বিভিন্ন মিডিয়ার পূর্ববর্তী সমীক্ষায় যা প্রতিফলিত হয়েছে, সেদিকে একবার চোখ ফেরানো যাক। প্রায় ৯০ কোটি ভারতীয় ভোটারের রায়ে  পূর্ববর্তী সমীক্ষাগুলোতে যে ট্রেন্ডগুলো উঠে এসেছিলো, তা এরকম :

ইন্ডিয়া টিভি-বিজেপি/এন ডি এ-২৮৫, কংগ্রেস-১২৬, অন্যান্য-১৩২। নিউজ নেশন-যথাক্রমে, ২৭৩-১৫৩-১৩৭। এবিপি- যথাক্রমে ২৬৪-১৪১-১৩৮। টাইমস নাউ, যথাক্রমে, ২৮৩ -১৩৫ -১২৫

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার সমীক্ষায় সবচেয়ে যে চাঞ্চল্যকর খবর যেটা উঠে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, আবারও প্রধানমন্ত্রীর আসনে ৮০% মানুষ ফের নরেন্দ্র মোদীকেই চাইছেন। রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চাইছেন, ৮.৩৩% মানুষ, এবং মায়াবতীসহ অন্যান্য মুখকে চাইছেন যথাক্রমে ০.৪৩% ও ৫.৯% মানুষ।

ভারতের এনডিটিভি-হংসর সমীক্ষারিপোর্ট অনুযায়ী যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস ও তার মিত্রদের জন্য আশাবাদী হওয়ার মতো ফল দেখা যাচ্ছে না। ১২টি রাজ্যের ৩১৯টি লোকসভা আসনে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, বিজেপি ও সহযোগী দলগুলো পেতে পারে ১৬৬টি আসন। কংগ্রেস তথা ইউপিএকে ৫২টি আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গুজরাট, রাজস্থান, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে ধরাশায়ী হবে কংগ্রেস। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হবে গুজরাটে। এখানে ২৬টি লোকসভা আসন রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি আসনই পাবে বিজেপি। ৩টি পাবে কংগ্রেস। বোঝা যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদীর দেশ পরিচালনা নিয়ে যতোই সমালোচনা করা হোক, সাধারণ মানুষ তাতে কান দিতে নারাজ। মহারাষ্ট্রেও হাওয়ার টান প্রবলভাবে বিজেপির দিকেই।

এখানে ৪০টি আসনের মধ্যে বিজেপি জোট পেতে চলেছে ৩৩টি আসন। বাকি ১৪টি পেতে পারে কংগ্রেস-এনসিপি জোট। রাজ ঠাকরের এমএনএস পেতে পারে ১টি আসন। কর্নাটকেও ২৮টি আসনের মধ্যে ২১টি বিজেপি পাবে বলে দাবি করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ এবং বিহারেও ভালো অবস্থান বিজেপির। মধ্যপ্রদেশের ২৯টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৪টি পেতে পারে তারা। মধ্যপ্রদেশে এখন বিজেপি সরকার রয়েছে। একইভাবে বিহারে বিজেপি-এলজেপি জোট পেতে চলেছে অন্তত ২৩টি লোকসভা আসন। বাকি ১৭টি পাবে কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল। আর নীতিশকুমারের সংযুক্ত জনতা দল পেতে পারে মাত্র ৫টি আসন। শোনা যাচ্ছে উন্নয়ন নিয়ে গলা ফাটালেও নীতিশকুমারের ওপর মানুষ নানা কারণে ক্ষুব্ধ। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই প্রকাশ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদীই কেন? কেন ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের আশি শতাংশ মানুষ ফের মোদীকেই প্রধানমন্ত্রীর আসনে দেখতে চাইছেন, যখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নেহায়েত কম নয়। বাজার চলতি পাঁচশো ও হাজার টাকার নোট রাতারাতি বাতিল বলে ঘোষণা করা, যা ভারতে নোটবন্দি নামে ঘোষিত, ব?্যাপক দুর্নীতি, বিজয় মালিয়া, নীরব মোদীর অর্থ আত্মসাতের কারণে দেশত?্যাগ, কালো টাকা দেশে ফেরাতে অপারগতা, সীমান্তসন্ত্রাস বন্ধ করতে ও বন্ধে যথাযথ ব?্যবস্থা নিতে না পারা, কৃষি ও শিল্পের যথাযথ উন্নতি সাধনে ব?্যর্থ হওয়া, আদানি ও অন?্যান?্য শিল্পপতিকে অন্যায?্য সুবিধা প্রদান প্রভৃতি নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পরেও অন্য কেউ নয়, নরেন্দ্র মোদীই কেন?

তার কারণ, মানুষ বিশ্বাস করে, বিরোধী রাজনীতিকরাই মোদীকে বিপদে ফেলার জন্য সুচতুরভাবে এসব তৈরি করেছে।

নোটবন্দিতে কিছু মিডিয়া এবং বিরোধী রাজনীতিকের একটাই প্রচার ছিলো, সাধারণ মানুষ অসুবিধায় আছেন। তাঁরা যা বলেননি, তা হলো, এক একটা আঞ্চলিক দল ও উগ্রবাদী জঙ্গি দলের কাছে বেহিসেবি কোটি কোটি টাকার সঞ্চয়, নোটবন্দি করে মোদী তাদের লাগাম একেবারে টেনে ধরেছিলো। ফলে আর্থিকভাবে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিলো।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব?্যাঙ্কের সামনে লম্বা লাইন, বিরোধী রাজনীতিকদের মিডিয়াকে ডেকে দেখানো মানুষের অসুবিধা এবং নিজেদের কালো টাকা বিভিন্ন লোক মারফৎ ব?্যাঙ্কে জমা করানোর জন?্য নিজেদেরই লোককে লাইনে দাঁড় করানো, ব?্যাঙ্ক ম?্যানেজমেন্টের সাথে যোগসাজশে কমিশনের ভিত্তিতে কালোকে সাদা করা প্রভৃতি বিষয় সাধারণ মানুষ বুঝে ফেলাতে বিরোধীরা  বেকায়দায় আছেন। সমস্ত বিরোধী রাজনীতিকের একটাই লক্ষ্য, যে করেই হোক নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো। আর এই একমুখী প্রচেষ্টার যারা মুখ ও মূল হোতা, দীর্ঘদিনের রাজনীতির সুবাদে এই মুখগুলোকে জনগণ ভালোর করেই চেনেন।

সাধারণ মানুষের মনে তাই প্রশ্ন, সবাই মিলে নরেন্দ্র মোদীকে সরানোর এই একমুখী প্রচেষ্টা কেন? তবে কি সাধারণ মানুষ যা ভাবছেন সেটাই ঠিক? নরেন্দ্র মোদীর সময়কালে রাজনীতির কারবারিদের অনৈতিক অর্থোপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াটাই কি নরেন্দ্র মোদীকে সকলের চক্ষুশূল করে তুলেছে?

ব?্যাক্তি নরেন্দ্র মোদীর গায়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আর্থিক কলংকের দাগ না থাকাও তাঁকে

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]