অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আমাদের নতুন সময় : 11/05/2019

স্বপ্না চক্রবর্তী : মিয়ানমারে ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ দুর্ঘটনায় পড়ার পর উড়োজাহাজ সঙ্কটে জটিলতায় পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এতে জাতীয় পতাকাবাহী এই বিমানটি এখন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটের ৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বিমানের জনসংযোগ শাখার জিএম শাকিল মেরাজ জানান, হঠাৎ করে একটি উড়োজাহাজ বিকল হওয়ায় সোমবার পর্যন্ত ঢাকা থৈকে সৈয়দপুর, সিলেট, যশোর ও রাজশাহী রুটে সাতটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারে ১টি, শুক্রবারে ৩টি এবং আগামী ১২ মে ৩টি অগ্রীম বুকিং করা ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। এমনিতে প্রতি বছর ঈদের সময় অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে বাড়তি ফ্লাইট পরিচালনা করলেও এ বছর তা নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ১২ তারিখের পর শিডিউল সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছেন শাকিল মেরাজ। এর আগে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে নতুন করে একটি বিমান যুক্ত হচ্ছে জানালেও গতকাল শুক্রবার জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে দুটো উড়োজাহাজ ভাড়া আনা হচ্ছে। কাতারের আলাফ কো. এভিয়েশন লিজ অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির কাছ থেকে ছয় বছরের জন্য দুটি বোয়িং ৭৩৭ এয়ারক্রাফট লিজ নেওয়া হচ্ছে। এর একটি শুক্রবারই বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। ১০ জুন হবে আরেকটি। তিনি বলেন, এ দুটো উড়োজাহাজ দিয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও যশোরে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তখন এয়ারক্রাফটের সঙ্কট আর থাকবে না, যাত্রীদেরও অসুবিধা হবে না।

বিমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা বিদেশি এবং প্রবাসী যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। আমেরিকা প্রবাসী নিতাই বাগচি জানান, শুক্রবার আমেরিকা থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। আগামী ১২ তারিখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-সৈয়দপুরগামী বিমানের টিকেট আগেই কেটে রেখেছেন। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কি করবেন বুঝতে পারছেন না। তবে বিমান বাংলাদেশ বলছে তারা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে। কিন্তু কি ব্যবস্থা করবে সেটাই বুঝতে পারছি না।

বিমানের একটি উড়োজাহাজ ৩৫ জন আরোহী নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে মিয়ানমারের ইয়াংগন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু না হলেও ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।  মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কানাডার কোম্পানি বম্বার্ডিয়ারের তৈরি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজটি। এভিয়েশন সেইফটি নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ওই বিমানে আগুন না ধরলেও ফিউজিলাজ ভেঙে তিন টুকরো হয়েছে। ফরোয়ার্ড প্যাসেঞ্জার ডোরের পেছনে এবং রিয়ার সার্ভিস ডোরের ঠিক পেছনের কাঠামো ভেঙে গেছে। উড়োজাহাজের তলাও ফেটে গেছে। ডান পাশের ডানও জোড়া থেকে ভেঙে গেছে।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানের বহরে বর্তমানে ১৩টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০, চারটি ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি ড্যাশ-৮।  এর মধ্যে একটি বোয়িং ৭৩৭ মেরামতের জন্য গ্রাউন্ডেড। আর মিয়ানমারে দুর্ঘটনায় একটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ অকেজো হয়ে গেছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]