অযোধ্যা মামলায় মধ্যস্থতাকারীদের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট

আমাদের নতুন সময় : 11/05/2019

রাশিদ রিয়াজ : ভারতের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন, বাবরী মসজিদ নিয়ে অযোধ্যা মামলায় মধ্যস্থতার প্রক্রিয়ায় কোনও শর্ট-কাট করতে চায় না আদালত। গতকাল শুক্রবার আদালতে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। তাই অযোধ্যা মামলায় মধ্যস্থতাকারীদের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মধ্যস্থতাকারীরা বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি সমাধান সূত্র খুঁজতে ওই দিন পর্যন্ত সময় চান আদালতের কাছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মাস দুয়েক আগে বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি মামলার জন্য মধ্যস্থতার ব্যবস্থা করেছিল সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। সেই মধ্যস্থতায় কতদূর পৌঁছনো গেল, তাই জানানোর কথা ছিল শুক্রবারের শুনানিতে। শুক্রবার আদালতে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী জুন মাসে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে।

সে জন্য মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য আদালতের কাছে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় চান মধ্যস্থতাকারীরা। সেই আরজি মেনে নিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে, ‘মধ্যস্থতাকারীদের প্যানেল যদি ফলের ব্যাপারে আশাবাদী থাকে এবং ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় চায়, তাহলে তা দিতে ক্ষতি কী? এই বিষয়টিতো বহু বছর ধরে আটকে রয়েছে। কমিটি তার রিপোর্ট পেশ করেছে। কিন্তু প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে, তা প্রকাশ করা হবে না। এটা গোপনীয়। ‘

বাবরি মসজিদের চত্বরে রাম মন্দিরের নির্মাণের দাবি যে শুধু অযোধ্যার বাসিন্দাদের একাংশের আবেগের বিষয় নয়, এর ভিত্তিতে যে গোটা ভারত জুড়ে হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের আবহাওয়া তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে তা বিলক্ষণ জানেন বিচারপতিরা। সেই জন্যই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এক তিন সদস্যের মধ্যস্থতাকারী প্যানেলের ব্যবস্থা করেন। তাতে ছিলেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এফএমআই খলিফুল্লা, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর এবং বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্রীরাম পাঁচু। সে জন্য আট সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল তাদের। তবে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও অবস্থাতেই মধ্যস্থতার কথা প্রকাশ করতে পারবে না সংবাদমাধ্যম। সম্পূর্ণ ভাবে গোপন রাখতে হবে তা। সেই প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল ৩ মে। অযোধ্যার লাগোয়া ফৈজাবাদে প্রক্রিয়াটি চলেছে।

কিন্তু প্রথম থেকেই নির্মোহী আখড়া বাদে সমস্ত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এই মধ্যস্থতার বিরোধিতা করে এসেছে। যদিও মুসলিম সংগঠনগুলি এই মধ্যস্থতার পক্ষেই কথা বলেছিল। রাম লালা বিরাজমানের তরফে যেই আইনজীবী দাঁড়িয়েছিলেন, সেই সি এস বৈদ্যনাথন এ-ও বলেন, ‘আমরা অনুদান দিয়ে অন্য কোথাও মসজিদ বানিয়ে দিতে রাজি আছি। কিন্তু রামের জন্মস্থান নিয়ে কোনও দরকষাকষি হবে না। মধ্যস্থতায় লাভ হবে না।’ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ অবশ্য জানিয়ে দেয়, ১৫০০ বর্গফুটের ওই জমি শুধু একটি জমির মামলা নয়, ধর্মীয় ভাবাবেগের বিষয়। আর তাই মধ্যস্থতার পথই ধরা হয়। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]