নিমোর মেমোরি ও মা

আমাদের নতুন সময় : 11/05/2019

আলফা আরজু

কাব্যের (পুত্র) স্কুলে ড্রপ করতে বের হয়েছিÑমিনিটখানিক যাওয়ার পর হঠাৎ করে কাব্য চিৎকার দিয়ে উঠেছে ‘ওহÑকীভাবে আমি এতো বড় একটা ভুল করলাম!’ বলতেই ওর দিকে তাকিয়ে দেখি চোখ দুটো জলে ভরা। তারপর ৫/৬ মিনিট গাড়িতে বসে এদিক-ওদিক খুব অসহায় হয়ে তাকায় আর চোখের জল মুছে। আমি অনেক কিছু বলে জানতে চাইলাম ‘কি হয়েছে? বাসায় কোনো খেলনা ফেলে এসেছো, আবার বাসায় যাবো? ইত্যাদি অনেক রকম কথা বলে একটু কমফোর্ট করতে চাইলাম। কিন্তু কিসের কি? তার ছল ছল নয়ন অঝোরধারে অশ্রæ বর্ষণ করতে থাকলো। এই করে স্কুলে পৌঁছে গেলাম আমরা। এবার মুখটা উপরে তুলে বললো ‘আজকে আমাদের স্কুলে মা দিবসের স্টল বসবে। আমি ১০ ডলার জমিয়েছিলামÑতোমাকে সারপ্রাইজ গিফট দেবো বলে। সেই ডলার ভুল করে বাসায় রেখে চলে এসেছি।’
আমি বললামÑআমি তোমাকে ঋণ দিই? কিন্তু তাতে তার মন সায় দিচ্ছে না। কারণ তার সকল পরিকল্পনা ভেস্তে গেলো। আমাকে সারপ্রাইজ দিতে না পারার কষ্টে। আমি তখন বললাম, ‘বাবা আমি আজ নিমোর মেমোরি নিয়ে বের হয়েছি। বিশ্বাস করোÑআমি সকাল থেকে যা যা হয়েছে। সব ভুলে গেছি। তাই নিশ্চিন্তে টাকাটা ঋণ নাও ও গিফট কেনো। নিশ্চিত থাকোÑতুমি যখন ওই গিফট দেবেÑআমি খুবই অবাক ও খুশি হবো।’ পটানো গেলো বটে। কিন্তু আমার কি আর কিছু আসলেই লাগবে মা দিবসে। কি যে ফুরফুরা মনে ওরে বুকে নিলাম আর বললাম, ‘বাবাÑআমি পৃথিবীর সব কিছু তুচ্ছ করতে পারিÑতোমার ও আপ্পির জন্য।’
আমি জানি সকল মা’ই এমন। পৃথিবীর কতোশত চাওয়া-পাওয়া তুড়ি মেরে সন্তানদেরকে বুকে আগলে রাখে। যেসব মা একা সন্তানদেরে লালন-পালন করেনÑতাদের হাহাকার-দুর্ভোগ-কষ্ট-স্ট্রাগল-বেদনা আরও ভয়ংকর। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]