বিএসটিআই অনুমোদিত খাদ্যপণ্যেওভেজাল, শক্তিশালী আইন থাকলেও প্রয়োগ কম

আমাদের নতুন সময় : 11/05/2019

তাপসী রাবেয়া : ভেজাল বিরোধী অভিযানে বেড়িয়ে এসেছে সারা দেশে খাদ্যে ভেজাল, বিষাক্ত, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, অস্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহে নামিদামি প্রতিষ্ঠানও জড়িত। হোটেল রেস্তোরার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডের খাবার দোকানগুলোতেও নিশ্চিত হচ্ছে না খাবারের মান। এক রেস্টুরেন্টে পঁচা, বাসি খাবার তো আরেক জায়গায় খাদ্যের মূল উপাদানই বিষাক্ত। জনমনে  এখন প্রশ্ন বাঁচার জন্য খাবার না মরার জন্য খাবার।

গেলো ৯ মে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বিএসটিআইয়ের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কাউন্সিলের কার্যক্রমেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আদালত। এসময় আদালত শংকিত প্রশ্ন তোলেন, আমরা কোথায় আছি। উল্লেখ্য, সরবারাহ করা দুধের নমুনার ৯৬টির মধ্যে ৯৩টি নমুনায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সীসা ও রাসায়নিক বিদ্যমান বলে প্রমানিত হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন থাকলেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি কেন তাও জানতে চান আদালত। হলুদ,মরিচ, তেল, লবন সরবরাহকারী ৫২ টি প্রতিষ্ঠানের পণ্যই ভেজাল হওয়ায় অসন্তোষও প্রকাশ করা হয় আদালতে।

ধান, চাল,গম, সবজি, ফল, মাংস, মাছ উৎপাদনে ব্যহৃত হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক।  রাজধানীর একটি সুপারশপে বাজার করতে আসা ক্রেতা ইসিকা জামান বলেন, হাত পা বাধা ক্রেতাদের, জেনেশুনে বিষপান করলেও নিরুপায় ক্রেতারা। একটা দুষ্টচক্রে বাধা পড়ে আছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুপারশপের পাশেই নামিদামি খাবারের দোকানে খেতে আসা বায়েজিদ মিয়া বলেন, সব কিছু এখন আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার খবর কি মন্ত্রীর পড়েন না।

ঢাকা সিটি কলেজের ছাত্রী তাবাসসুম আইরিন বলেন, বিএসটিআই অনুমোদিত পণ্যেও বিষাক্ত রাসায়নিক থাকলে চোখ বন্ধ করে খাওয়া ছাড়া আর কি করার আছে।

মেয়াদোর্ত্তীন,অস্বাস্থ্যকর, ভেজাল খাবার ও খাবারের বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার ভোক্তারা কি করবেন আর এই অসাধু ব্যবসা কিভাবে বন্ধ করা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমানে কনজিউমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, মানুষের মানবিকতা বাড়াতে হবে। জনগনকে সচেতন হতে হবে পাশাপাশি প্রচলিত জরিমানা আরো চারগুণ বাড়ানো উচিত। অতিরিক্ত মুনাফা করে করে মনুষ্যত্ব নষ্ট হয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, কর্মীদের নয় মালিকদের জেল ও জরিমানা করা উচিত। শাস্তি আরো কঠোর করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম বলেন, যেনতেনো ভাবে মুনাফা লাভের প্রবণতা বাড়ছে। দেশপ্রেম মানবপ্রেম ভুলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, এসব রোধে আইন থাকলেও এখনও প্রয়োগে ঘাটতির কথা স্বীকার করেন তিনি।

তিনি বলেন, ভেজাল খাদ্য, বিষাক্ত খাদ্য, খাবারে ক্ষতিকর রং ব্যবহার বন্ধ করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে। খাদ্য উৎপাদনের বীজ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে খাবার উপযোগি পর্যায় পর্যন্ত সরকারি মনিটরিং থাকা দরকার বলেও মনে  করেন তিনি। শুধু অভিযান পরিচালনা করে লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত হতে হবে এই কাজে। শুধু আইনের প্রয়োগ করে এ সংকট নিরসন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]