• প্রচ্ছদ » » বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং : শিক্ষকদের গবেষণা করার সময় কোথায়!


বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং : শিক্ষকদের গবেষণা করার সময় কোথায়!

আমাদের নতুন সময় : 11/05/2019

 আলাউদ্দিন আল আজাদ

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে এশিয়ার ৪০০ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের একটিও নেই। নেপালের মতো গরিব রাষ্ট্র আর পাকিস্তানের মতো জঙ্গি রাষ্ট্রের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে। এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্ত চিন্তার, অবাধ জ্ঞান চর্চার সর্বোচ্চ পাদপীঠ। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রতিটি শিক্ষার্থী হবে প্রগতিশীল, বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক ধ্যান-ধারণার অধিকারী, মুক্তচিন্তক, সংস্কৃতিমনা। এখানে ধর্মান্ধতা, অন্ধ বিশ্বাস, গোঁড়ামি, কুসংস্কার, সংকীর্ণতা, সাম্প্রদায়িকতা, পশচাৎপদতার স্থান নেই। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্কুলার জারি হয়েছে যে, কেউ ধর্ম নিয়ে পোস্ট দিলে পুলিশে দেয়া হবে। এই যদি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা সেখানে প্রগতিশীল ধ্যান-ধারণা কীভাবে সৃষ্টি হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে গেলে মেয়েদের মাথায় ১২ হাত ত্যানা পেঁচানো আর কালো বোরকা দেখলে মনে হয় ভুলক্রমে মাদ্রাসায় ঢুকে পড়েছি। নৃবিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, দর্শন, অপরাধ বিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক যদি বলেন, এখানে যা পড়ছো তা শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য বিশ্বাস করার দরকার নেই। আর ছাত্রছাত্রীরা শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য একটা সনদের জন্য পড়ছে। পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান আর মেডিকেল সায়েন্স পড়ে যদি জঙ্গির খাতায় নাম লেখায় তাদের দিয়ে আর কি হবে। এর ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, ধ্যান-ধারণা, চিন্তা চেতনা পরিবর্তন হচ্ছে না, তাহলে পড়াশোনার মান কি রকম হতে পারে সহজেই অনুমেয় আর কিছু ছাত্র চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, পরীক্ষার প্রশ্ন আউট, রাজনৈতিক দলের লেজুড় বৃত্তিতে ব্যস্ত। হুমায়ুন আজাদ, আহমদ শরীফ, সরদার ফজলুল করিম, কবির চৌধুরী, মুনীর চৌধুরী, জুয়েল আইচ, খান আতা, আমজাদ হোসেনের মতো প্রতিভা এখন আর ঢাবিতে তৈরি হয় না। আর শিক্ষকরা ব্যস্ত দলাদলিতে, প্রজেক্ট নিয়ে, সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে। তাদের গবেষণা করার সময় কোথায়? ব্রিটিশ আমলেও এই উপমহাদেশে মুসলমানের চেয়ে হিন্দুরা শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে ছিলো। মুসলমানরা শুধু ধর্মান্ধতার কারণে পিছিয়ে ছিলো।
বাংলাদেশসহ এশিয়ার কিছু দেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশ এখন ধর্মকে ইহজগত, সমাজ, রাষ্ট্র থেকে দূরে সরিয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান আর প্রযক্তিতে চরম উন্নতির শিখরে আরোহণ করেছে আর আমরা হাজার হাজার মাদ্রাসা সৃষ্টি করছি, গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে ওয়াজ মাহফিলের নামে মৌলবাদী ধ্যান-ধারণা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছি। উন্নত দেশগুলোতে যখন একটা বাচ্চার হাতে কম্পিউটারের মাউস ধরিয়ে দেয়া হয় সেখানে আমরা ধরিয়ে দিই আলেফ, বা, তে, ছা শেখার কায়দা। ছোটবেলায় দেখতাম গ্রামে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বার্ষিক নাটক মঞ্চস্থ করতো, বিচিত্রা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতো আর এখন আয়োজন করে ৩ দিনব্যাপী বিরাট ওয়াজ মাহফিল। এসব ওয়াজ মাহফিলে কি বয়ান করা হয় তা সবারই জানা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]