রোগী মানেই আমার কাছে ভিআইপি

আমাদের নতুন সময় : 11/05/2019

নুরুল মোমিন খান

সরকারি চাকরি করিনি। চাকরি জীবনের প্রায় পুরোটা সময় কেটেছে অ্যাপোলো হাসপাতাল এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে, এর আগে কিছুদিন বারডেম হাসপাতালে। পাস করার পর এখন অবধি কাজ করছি আইসিইউতে। সব সময় মরণাপন্ন রোগীদের নিয়েই কাজ। এখন কাজ করি শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটে। এক বছর হয়ে গেলো। অনেকেই জিজ্ঞেস করে ঢাকার কর্পোরেট হাসপাতাল ছেড়ে এই মফস্বলে কেন এলাম।
উল্লেখ্য, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল হাসপাতাল গাজীপুরের ইপিজেড এলাকায় অবিস্থিত। এটি সরকারের পিপিপি প্রজেক্টের হাসপাতাল, যেখানে প্রাইভেট পার্টনার হিসেবে আছে মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত স্বাস্থ্যসেবা গ্রæপ কেপিজে। গুলশান থেকে এখানে আসতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা এবং এখান থেকে বাসায় ফিরতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। নিজেকে জিজ্ঞেস করি, কেন এলাম এখানে, এতোদূরে? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর আছে। এতোদিন কাজ করেছি সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির সঙ্গে। তাদের অগাধ টাকা, তারা কথা বলেন টাকার ভাষায়। জানেন নিশ্চয়, টাকার নিজস্ব একটা ভাষা আছে।
সর্বদা চেষ্টা করে গেছি, রোগী যে শ্রেণির হোক, রোগী মানেই সে আমার কাছে ভিআইপি। কিন্তু উচ্চবিত্তরা চায় অতিরিক্ত সম্মান। তাদের বাবা-মা বাঁচলো না মরলো এটা তাদের কাছে কোনো ইস্যু নয়, তাদের কতোটুকু সম্মান করা হলো সেটাই তাদের কাছে মুখ্য। কিন্তু শেখ ফজিলাতুন্নেসা হাসপাতালে যেসব রোগীরা আসেন, তারা প্রায় সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের সঙ্গে একটু ভালো করে কথা বললেই তারা আমাকে মাথায় করে রাখে। একটু হাসিমুখের কথা তাদের জন্য মহার্ঘ্য। তারা এখনও বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তার পরই চিকিৎসক। এই এক বছরেই অনেক রোগী আমাকে তাদের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। এটুকুর লোভেই আমার এখানে আসা। লোভ আরেকটি আছে। আমি সামান্য লেখালেখি করি। এই গ্রামীণ পরিবেশ আমাকে অনেক শান্তি দেয়, লেখার রসদ জোগান দেয়। এখানে থেকে যাই মাঝে মধ্যে… ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]