রৌশন আরা বলেছিলেন, ‘বেঁচে থাকা অনিবার্য নয়, মৃত্যু অনিবার্য

আমাদের নতুন সময় : 11/05/2019

দেবদুলাল মুন্না: রৌশন আরা বেগম ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি)। রৌশন আরা বেগম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা  মিশন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং মেডেল প্যারেডে অংশ নিতে ৫ মে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় দায়িত্ব পালনকালে সন্ধ্যায় তাকে বহনকারী গাড়িকে একটি লরি এসে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। তার মরদেহ বহনকারী বিমান বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরের পরপর রৌশন আরাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে। এ খবর জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। দেশে হাতে গোনা যে কিছু সংখ্যক নারী সরকারি চাকরিতে উচ্চপদে বহাল আছেন এদের মধ্যে তিনি ছিলেন অনন্য। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক নারী পুলিশ সংস্থা থেকে বৃত্তি পদক পাওয়ার পর তিনি বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমার শৈশবেই ভাবতাম যে কাজ পুরুষ করতে পারে সে কাজ নারী করতে পারবে না কেন? আমি কৈশোরে চাঁদপুরের চ-িগ্রামে বাবা’র বাড়িতে গিয়ে বিকালে তিনজন মেয়ের সাথে গড়িয়া মাঠে ফুটবলও খেলেছি। তখন অনেক মানুষ ভীড় করেছিল। তখন আমার বাবা এসে আমাকে নিয়ে যান।

আমি মনে করি আন্তরিকতা ও প্রতিযোগিতামুলক মনোভাব থাকলে যেকোনো কাজেই সফল হওয়া সম্ভব। আমি অনেক হুমকি পেয়েছি পেশাগত দায়িত্বপালন কালে। কিন্তু ভয় পাইনি। কারণ বেঁচে থাকা অনিবার্য নয়। মৃত্যু  অনিবার্য।’

তিনি ঢাকার একটি দৈনিকে ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও সফল নারীদের ভাবনা’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে বলেছিলেন, ‘আমি কতোবার হেরেছি এরচেয়ে বেশি ভাবি কেনো এতোবার জিততে পারিনি এবং ব্যর্থতাসমূহ বিশ্লেষণ করি। এটি আমাকে আরো কৌশলী করে কর্মক্ষেত্রে।’ রৌশন আরা বেগম ১৯৬২ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের শেখ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা আমেনা বেগম। জন্মস্থান চাঁদপুরে হলেও ঢাকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী মো. শফিকুল আলম চৌধুরী ব্যবসায়ী ও তার শ্বশুর নুরুল্লা চৌধুরী মহাখালী কলেরা হাসপাতালের প্রাক্তন প্রধান অণুজীববিজ্ঞানী ছিলেন। তার একমাত্র মেয়ে সন্তানের নাম, আরা মুনাহা চৌধুরী।তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে জটিল রোগে ভুগছেন।

রৌশন আরা বেগম ১৯৮৮ সালে  বিসিএস ৭ম ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন।এসময় পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন একই ব্যাচে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘রৌশন আরা অনেক চৌকষ ও মেধাবী ছিলেন। তিনি সিআইডিতে চাকরিকালে আমাকে পেশাগত অনেক চমকপ্রদ গল্প শোনাতেন যখন দেখা হতো।’ বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীতে রৌশন আরা বেগমের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দু’বার আইজিপি ব্যাচপ্রাপ্ত  হন এবং সাহসী দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম), এবং ‘অনন্যা শীর্ষ দশ-১৯৯৮’ পুরস্কারে ভুষিত হন। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]