• প্রচ্ছদ » » সাতাশি সালে ক্যামেরা দেখে টিউলিপ বলেছিলো, ও আপনারা ছবি তুলবেন তো!


সাতাশি সালে ক্যামেরা দেখে টিউলিপ বলেছিলো, ও আপনারা ছবি তুলবেন তো!

আমাদের নতুন সময় : 11/05/2019

আলম রায়হান

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে চমক দেখিয়ে প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েই এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি, শেখ রেহানার মেয়ে। বিশ্ব মিডিয়ায় অলোচিত নাম টিউলিপ, ছবি তোলার জন্য অসংখ্য ক্যামেরার ঝলকানি তাকে ঘিরে। এই হচ্ছেন আজকের টিউলিপ সিদ্দিক। এই টিউলিপ ৮৭ সালে ক্যামেরা দেখে বলেছিলো, ও! আপনারা ছবি তুলবেন।
তখন আমি সাপ্তাহিক স›দ্বীপে কাজ করি। আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হলো শেখ রেহানার সাক্ষাৎকারভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি করার। ‘কখনো রাজনীতি করবো নাÑশেখ রেহানা’ এই শিরোনামে শেখ রেহানার সাক্ষাৎকারভিত্তিক আমার প্রচ্ছদ রিপোর্টটি ছাপা হয়েছিলো ১৯৮৭ সালের ১৬ মার্চ সাপ্তাহিক স›দ্বীপে। তখন পত্রিকাটির বয়স দেড় বছরের একটু বেশি। সাক্ষাৎকারের জন্য আমি শেখ রেহানাকে ফোন করি ১ মাচর্ (১৯৮৭)। তিনি প্রথমে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হলেন না। কিন্তু আমার আজও মনে আছে, সাপ্তাহিক পত্রিকার অজানা সাংবাদিক হওয়া সত্তে¡ও তিনি সামান্যতম অবজ্ঞা করেননি। সেসময় আমার মূর্খ সাহস অথবা শেখ রেহানার নরম আচরণের কারণেই হোক, আমি তাকে নাছোড়বান্দার মতো অনুরোধ করলাম। রিপোর্টারের কৌশল হিসেবে প্রকারান্তরে এমনও ধারণা দিলাম, তার সাক্ষাৎকার দেয়া না দেয়ার উপর আমার চাকরি থাকা-না থাকা অনেকখানি নির্ভর করে। সম্ভবত আমার ক্ষতি হবার কথা বিবেচনা করেই তিনি সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হলেন। তবে শর্ত দিলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রশ্ন করা যাবে না। আমি তাতেই রাজি। শেখ রেহানার কাছ পর্যন্ত পৌঁছানো ছিলো আমার জন্য কঠিন কাজ। এরপর লক্ষ্যে কীভাবে পৌঁছতে হয় তার ট্রেনিং তখনই মোটামুটি হয়ে গিয়েছিলো। শেখ রেহানার মুখোমুখি হবার পর্বটি সাপ্তাহিক স›দ্বীপ থেকেই উদ্ধৃত করি, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুসারে তার বাসায় যাই ৩ মার্চ সন্ধ্যা সাতটায়। দোতলায় উঠে দরজার বেল বাজাবার পর একজন এসে আমাদের পরিচয় জেনে ভেতরে গেলো। এ সময় চার-পাঁচ বছরের একটি ফুটফুটে মেয়ে এসে দাঁড়ালো নেটঘেরা দরজার ওপারে। ক্যামেরা দেখে বললো, ও আপনারা ছবি তুলবেন তো। ক্যামেরাম্যান ছিলেন ফরিদ বাশার। ফুটফুটে মেয়েটিকে প্রশ্ন করলাম, তোমার নাম কি? টিউলিপ। কি? টিউলিপ, টিউলিপ!
এ সময় এলো ওর বড় ভাই ববি। টিউলিপের চেয়ে বছর দুয়েকের বড় হবে। ববি দরজা খুলে দিলো। এর মধ্যে শেখ রেহানা চলে এলেন। প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যার মুখোমুখি হলাম। তিনি আমাদের নিয়ে গেলেন বসার ঘরে। একটু বসুন আসছিÑবলে বসার ঘর থেকে বের হতে গিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ালেন। বললেন, কোন রাজনৈতিক কথা কিন্তু হবে না। ঠিক আছে কোনো রাজনৈতিক কথা হবে না।
বলাবাহুল্য, সেদিন শেখ রেহানার সঙ্গে রাজনৈতিক অনেক কথা হয়েছে। আজকের আলোচ্য বিষয় শেখ রেহানা নন। প্রসঙ্গ হচ্ছে টিউলিপ। ৮৭ সালে যে শিশু টিউলিপকে দেখেছি সে এখন বিশ্ব ব্যক্তিত্ব। এর মধ্যে তার খালা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করছেন তৃতীয় মেয়াদে। মাঝখানে স্বল্প মেয়াদে নির্বাচনকালীন সরকারেও প্রধান ছিলেন শেখ হাসিনা। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি, শেখ রেহানার মেয়ে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নিÑএর ধারাহিকতায় কতোভাবেই টিউলিপকে চিনতে পারতো দেশের মানুষ। যেমনটি হয় আমাদের দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তানদের। কিন্তু হতাশার এই ধারার বিপরিতে দাঁড়িয়ে টিউলিপ সিদ্দিক এখন বিশ্বনন্দিত নাম। বিঃদ্রঃ এ থেকে কী শিক্ষা নেয়া উচিত নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক পরিবারগুলোর। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]