সামাজিকভাবে ন্যায্যতা দেয়াতেই বেড়েছে ধর্ষণ ওনিপীড়নের ঘটনা, অভিমত মানবাধিকার কর্মিদের

আমাদের নতুন সময় : 11/05/2019

তাপসী রাবেয়া :  গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে গত পাঁচ বছরে ৩৫৮৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৭৮ জন। ধর্ষণের এসব ঘটনার ৮৬ শতাংশই শিশু। ৬-১২ বছরের শিশু কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে এই এপ্রিলের প্রথম ৯ দিনে ধর্ষণের শিকার ৪১ শিশু, যার মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারী মাসের ১৮ দিনে ঘটেছে ২৩ টি ধর্ষণের ঘটনা। গতমাসে যৌন নির্যাতনের শিকার তার প্রতিবাদ করায় কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয় নুসরাত রাফিকে। সারাদেশে এই ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারো গণপরিবহনে ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে ইবনে সিনার নার্স তানিয়াকে।

ধর্ষণের এসব ঘটনা কেন বাড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মি সুলতানা কামাল এ প্রতিবেদককে বলেন , ধর্ষণ যে অপরাধ সেটাই পুরষতান্ত্রিক সমাজ মনে করে না। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে ধর্ষণের মত ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মের নামে নারীর দৃশ্যমান হওয়াকে সহজলভ্যতা বলা হচ্ছে। সামাজিক ভাবে ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনাকে ন্যাযতা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এসব কারণেই নারী ও শিশুরা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। ধর্ষণ ও নির্যাতনের এসব ঘটনার তদন্তেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রয়োজন হয় বলেও সমালোচনা করেন  তিনি।

খুশি কবীর বলেন, খুবই দুর্বলভাবে ধর্ষণের মামলাগুলো ফাইল হয় যা শাস্তির মুখ দেখে না। শাস্তি না হওয়া, পালিয়ে যাওযা, আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে পার পেয়ে যাওযার ঘটনাকে দায়ী করেন তিনি। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় নারীকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয় না বলে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনাকে অপরাধ মনে করা হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ওয়াজ মাহফিলে নারী বিদ্বেষ উস্কে দেয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, আইসিটি অ্যাক্টও ব্যবহার করা হয় না এসব বন্ধে। নারীর প্রতি এসব বিরুপ প্রচারনাকে দায়ী করেছেন তিনি। যে পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে তাতে সরকার এখনই পদক্ষেপ না নিলে আরো অবনতি ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।

জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, নীতি- নির্ধারণী পর্যায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা না নিলে এসব ঘটনা থামানো যাবে না। শুধু শাস্তি না তিনি মনে করেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]