আজ মা দিবস , জন্মের ৮১ বছর পর মা-মেয়ের প্রথম দেখা হলো গতকাল

আমাদের নতুন সময় : 12/05/2019

দেবদুলাল মুন্না : আজ বিশ্ব মা দিবস। বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাস শতবর্ষের পুরনো। যুক্তরাষ্ট্রে আনা জারভিস নামের এক নারী মায়েদের অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। এ কাজের মধ্য দিয়ে তিনি মায়েদের কর্মদিবসের সূচনা করেন। ১৯০৫ সালে আনা জারভিস মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে। ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদী সমাজে বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় এদিন বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। এবছর মা দিবসের ঠিক আগের দিন আয়ারল্যান্ডের ৮১ বছর বয়সী এইলিন ম্যাককেন প্রথমবারের  মতো দেখা পেলেন তার মায়ের। জন্মের পরই তার মা আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের একটি এতিমখানায় রেখে আসেন এইলিনকে।এতিমখানায় বড় হওয়া এইলিনের বয়স যখন ১৯ তখন থেকেই তার মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। খবর বিবিসির। গত বছর আইরিশ রেডিও চ্যানেল আরটিইর লাইভলাইন নামের একটি অনুষ্ঠানে মাকে খুঁজে পাওয়ার আবেদন জানান এইলিন। এরপর ওই অনুষ্ঠান দেখে এক চিকিৎসক জানান, এইলিনের মাকে তিনি স্কটল্যান্ডে দেখেছেন। মায়ের খোঁজ পেয়ে গত মাসেই স্কটল্যান্ডে যান এইলিন। শেষ পর্যন্ত মা-মেয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেখা হয় তাদের। গত শনিবার ছিল তার মা এলিজাবেথের ১০৪তম জন্মদিন। এইলিন জানান, স্কটল্যান্ডে গিয়ে যখন প্রথম তার মা এলিজাবেথকে দেখেন, তখন তার মা খবরের কাগজ পড়ছিলেন। এইলিন গিয়ে তাকে বলেন,‘আমি আয়ারল্যান্ড থেকে এসেছি।’তখন তার মা তাকে বলেন, ‘আমার জন্ম হয়েছিল আয়ারল্যান্ডে।’ এইলিনের ভাষায়, আমি তাকে বলি, ‘তুমি কি জান আমি তোমার মেয়ে?’ একথা শুনে মা পত্রিকা রেখে আমার হাত দুটো ধরে এবং আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।’

এইলিন জানান, আমার মা’কে আমি সবকিছু খুলে বলি। তিনি অনেকক্ষণ আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং এতিমখানায় নিজের অনিচ্ছাসত্ত্বেও রেখে আসার জন্য অপরাধবোধে যে ভুগছিলেন সেটি স্বীকার করেন। তখন আমি তাকে বলি, আমিও এখন মা। মা হওয়ার সব অনুভুতি আমার রয়েছে। আমরা কিছুদিন একসাথে কাটাবো। মা দিবসে মাকে ভাল রেস্টুরেন্টে খাওয়াবো। ঘুরব। গিফট দিবো। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]