একদিন বাঙালি ছিলাম রে!

আমাদের নতুন সময় : 12/05/2019

রিতা রায় মিঠু

আজ মিথীলা বাড়ি এসেছে। ওর বাক্স পেঁটরা ঘেঁটে একটা টি-শার্ট আমাকে দেখিয়ে খুব উৎসাহের সঙ্গে বললো, ‘মা, এই টি-শার্টটা দেখো, আমাদের বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সবাইকে দেয়া হয়েছে। মা দেখো, টি-শার্টের পেছনে বাংলায় লেখা, সোনার বাংলা। শার্টের সামনের দিকেও একটা বাংলায় লেখা লোগো ছিলো, সেটা এবার নেই। কেন, নেই কেন? সেই লোগোটা নাকি আওয়ামী লীগের পক্ষের ছিলো। আমাদের স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনে অনেকের বাবা-মা নাকি বিএনপির মানুষ। ওই লোগো থাকলে ওরা নাকি টি-শার্টগুলো বাড়িতে নিয়ে পরতে পারবে না। এজন্য এবারের টি-শার্টে নতুন লোগো দিয়েছে যেন সবাই পরতে পারে। মিথীলার মুখে এমন কথা শুনে আমি থ হয়ে গেছি!
বলে রাখি, মিথীলা দুই বছর বয়সে আমেরিকায় এসেছে। ও জানে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি নামে দুটো দল আছে, যারা সবসময় ফাইট করে। ও জানে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা প্রাইম মিনিস্টার এবং বেগম খালেদা জিয়াও একসময় প্রাইম মিনিস্টার ছিলো। ও বুঝে, ওর মা আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করে, কিন্তু ও জানে না আওয়ামী লীগ ভালো নাকি বিএনপি ভালো। কারণ ওর মা ওর সঙ্গে আওয়ামী লীগ বিএনপি নিয়ে কথা বলে না। তবে ওর মা ওকে বঙ্গবন্ধু চিনিয়েছে, বাংলাদেশ চিনিয়েছে, বাংলায় কথা বলা শিখিয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে ফোন করে বলেছিলো, ও নাকি ওদের ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছে। চেহারা দেখে নয়, রীতিমতো বক্তৃতা দিয়ে তবেই জেনারেল সেক্রেটারির পদ পেয়েছে! জিজ্ঞেস করেছিলাম, বক্তৃতা কি বাংলায় দিয়েছো? না না, ইংলিশে। ইংলিশে বক্তৃতা দিয়ে বাঙালি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি হয়েছো? কি করবো, আমি তো তবুও বাংলা বলতে পারি, বাংলাদেশের স্টুডেন্টদের বেশিরভাগই তো বাংলা ভালো বলতে পারে না! তাদের জন্য তো ইংলিশেই বক্তৃতা দিতে হবে।
মিথীলা, তুমি তো আগামী সেশনের জন্য জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছো। তুমি কি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশানে বাংলায় কথা বলতে উৎসাহ দেবে? বাংলায় বক্তৃতা দিতে? বাংলা কবিতা আবৃত্তি করতে? উচ্চারণ যেমনই হোক, প্রথম প্রথম অস্পষ্ট হবে, পরে স্পষ্ট হবে। তুমি তোমার কথা বলবে। তুমি দুই বছর বয়সে আমেরিকায় এসেছো, কোথাও বাঙালি পাওনি। শুধু ঘরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে বলতেই বাংলা শিখে গেছো। তুমি বাংলা অল্প অল্প পড়তে পারো, লিখতে পারো। ওরাও পারবে।
আরেকটা কথা, আওয়ামী লীগ-বিএনপি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, আমেরিকায় বসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের পরিচিতি নিয়ে বাবা-মায়েরা মাথা ঘামালেও তোমরা ঘামাবে না। এই নতুন বিষয়গুলো অ্যাড করার চেষ্টা করে দেখো। জানি না মা, ওরা কি আমার কথা শুনবে? নিশ্চয়ই শুনবে। তুমি সেক্রেটারি, তোমার কথা শুনতেই হবে, নইলে চলবে কেন! তুমি বুঝিয়ে বলবে, আমেরিকায় আমরা সর্বত্রই তো ইংলিশ বলি, আসো আমাদের নিজেদের মধ্যে আমরা মাতৃভাষায় কথা বলি। সুন্দর করে গুছিয়ে বললে সবাই তোমার কথায় রাজি হবে। আচ্ছা মা, আমি চেষ্টা করে দেখবো। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]