জলবায়ু হুমকিতে বাংলাদেশের উপকূলের মানুষের সংগ্রামী জীবন, মিরর প্রতিবেদন

আমাদের নতুন সময় : 12/05/2019

রাশিদ রিয়াজ : ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে যে জলোচ্ছ্বাস ফুঁসে ওঠে তার উঁচু ঢেউ  ফাতেমা বেগমের ৮ বছরের সন্তান মারুফকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তারপরও সন্তানহারা ফাতেমা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আকুল আবেদন জানান, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের। ফাতেমার এই আবেদনের সঙ্গে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গত সপ্তাহে আইনপ্রণেতারা যে উদ্যোগ জরুরি বলে জানান তা হুবহু মিলে যায়। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিররের শীর্ষ এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উপকূলের লাখো মানুষের প্রতিনিয়ত জীবন সংগ্রামের এ কাহিনী। ফাতেমার জন্যে জলবায়ু পরিবর্তন এক ভয়ঙ্কর বাস্তব, এক নৃশংস শক্তি যা তার সন্তানের জীবন কেড়ে নিয়েছে। যখন ওয়েস্টমিনিস্টারে রাজনীতিকরা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস নিয়ে কঠিন বিতর্ক করেন তখন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে একই কারণে সৃষ্ট বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষ জীবন সংগ্রামে প্রতিবছর বিপর্যয় মোকাবেলা করে। কুয়াকাটার ফাতেমা তাদেরই একজন। আর ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশের অন্তত ১৭ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। মিরর।

৩৩ বছরের ফাতেমা এখনো তার সন্তানের শোকে মুহ্যমান। কাঠের ঘরে আলো আধারিতে সন্তান হারা ফাতেমা এখনো ভীত বিহ্বল হয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকেন। গত বছরও এক ভয়াবহ বন্যায় সর্বশান্ত হতে হয়েছে ফাতেমাকে। এবার ফণী আঘাত হানার পর পানি বাড়তে থাকে এবং প্রতিবেশির ঘরে তারা আশ্রয় নেয়। মারুফ যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল হঠাৎ সেখানে এক ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে এবং পরক্ষণেই মারুফকে আর দেখা যায়নি। কারণ জলোচ্ছ্বাসের এত প্রবল বেগে আসে যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারুফকে হারিয়ে ফেলে ফাতেমা। স্বামীর সঙ্গে আধ ঘন্টা এদিক ওদিক খুঁজে না পেয়ে একসময় মারুফের লাস ভাসতে দেখেন তারা। তখন তারা তাদের বাকি তিনটি সন্তানকে রক্ষায় এগিয়ে যায়। এবং শুধু তারা তাদের এই তিন সন্তানকেই রক্ষা করতে পেরেছেন।

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে গড়ে ওঠা ফাতেমাদের গ্রামে ফিবছর যে দুর্যোগ এসে হামলে পড়ছে তার একটি কারণ সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া। জলবায়ুর এ পরিবর্তন উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলেছে। সেখানকার তাপমাত্রা উঠেছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে যা এর আগে মওসুমের এ পর্যায়ে এতটা ওঠেনি। ঘনবসতি এবং নি¤œভূমির বাংলাদেশের জন্যে জলবায়ু পরিবর্তন নিত্যনৈমিত্তিক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাতেমাদের গ্রামে মাইলের পর মাইল ধান ক্ষেত লোনা জলে তলিয়ে গেছে। বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ তৈরি করে তা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

এগ্রামেরই ১৯ বছরের এক যুবক জুনায়েদ হাওলাদার জানান, গত পাঁচ বছরে অন্তত দুই মাইল সাগর গর্ভে তলিয়ে গেছে। আমার বাবা বলতেন ২০ বছর আগে আমাদের বাড়ি থেকে সাগরে যেতে দুই ঘন্টা সময় লাগত। এখন কয়েক মিটার দূরে সাগরের গর্জন আমাদের তটস্থ করে রাখে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ৬০ বছরের শামসুল আলম জানান, ২০০৭ সালে সিডর উপকূলের ১০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয়। দুর্যোগে বেঁচে থাকার জন্যে গাছে আশ্রয় নিতে হয়। অনেকবার বাঁধ মেরামত ও পুনরায় নির্মাণ করতে হয়। এখন ফসল চাষ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রাম থেকে দেড়’শ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। সরকারের কাছ থেকে কোনো সাহায্য কেউ পায়নি। (সংক্ষেপিত)




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]