তীব্র গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন, তাপপ্রবাহ চলবে পুরো মে মাস হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা

আমাদের নতুন সময় : 12/05/2019

স্বপ্না চক্রবর্তী : তীব্র তাপদাহের মধ্যে বৈশাখের শুরু হলেও মাঝে ঘূর্ণিঝড় ফনীর প্রভাবে দুই দিনের জন্য স্বস্তি মিলে নগরবাসীর। কিন্তু ফণীর প্রভাব কমতে না কমতেই সূর্যের তেজে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে নগরজীবন। শুধু রাজধানীই নয় সারা দেশেই তীব্র গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কিন্তু কোনো সুখবর পাওয়া যায় নি আবহাওয়া অফিস থেকেও। আবহাওয়া অফিস দাবি করছে পুরো মে মাসটাতেই সাধারণ মানুষকে পুড়তে হবে এরকম তীব্র দাবদাহে। এতে করে দেহের ভেতর তৈরি হওয়া পানিশূন্যতায় হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে আমাশয়, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দীন আহমেদ বলেন, পুরো মে মাস তাপপ্রবাহ একই রকম থাকবে। মাঝে দুই এক বার বৃষ্টি হলেও তা খুবই সাময়িক হবে। সূর্যের ত্যাজ আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আবহাওয়া অফিসের হিসাবে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি না পেরুলেও গরম অনুভূত হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে ওপরে সূর্যের খরতাপ আর নিচে দালানকোঠা ও পিচঢালা রাজপথের উত্তাপে রাজধানীতে নগরজীবন প্রায় অচল অবস্থা। তবে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। প্রচন্ড গরমে দেশজুড়ে ডায়রিয়া, আমাশয়ের মতো পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে আশংকাজনক হারে। বিশেষ করে নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য এই গরম অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা রফিক উদ্দিন বলেন, সকাল বেলা আবহাওয়া কিছুটা সহনীয় থাকলেও বেলা ১১টার পর থেকেই রোদের তাপ আর সহ্য করা যায় না। তখন মনে হয় ব্যবসা-বাণিজ্য বাদ দিয়ে পুকুরে গিয়া ডুবে থাকি। কিন্তু পেটের ধান্ধাও তো করতে হবে। না হলে বউ-বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে যে। পবিত্র রমজান মাস হওয়ায় ভোগান্তি হচ্ছে রোজাদারদেরও। এই গরমে মরার উপর খড়ার ঘাঁ হিসেবে রয়েছে  রাজধানীর তীব্র যানজট। অফিস শুরু এবং শেষের সময়টাতে যানজটের কবলে পড়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের তুলনায় ১ থেকে দেড় ঘন্টা বেশি লাগছে। অনেককে তাই বাধ্য হয়ে রাস্তাতেই ইফতার করতে হচ্ছে। মতিঝিল থেকে মিরপুরগামী নিউ ভিশন গাড়ীর যাত্রী শহিদুল ইসলাম বলেন, রোজা রেখে এরকম চিমসা মার্কা গরমে ঘন্টার ঘন্টা যানজটে বসে থাকতে থাকতে বেঁচে থাকাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস থেকে সময় মতো বাসায় পৌঁছাতে না পেরে বাধ্য হয়ে রাস্তার লেবুর শরবত আর বুট-মুড়ি দিয়েই ইফতার করতে হচ্ছে। এতে করে গত দুই দিন তাকে পেটের পীড়ায় ভুগতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর মহাখালীর কলেরা হাসপাতাল থেকে শুরু করে ঢাকা মেডিকেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়েছে ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগীর সংখ্যা। এভাবে গরম চলতে থাকলে পানিবাহিত রোগ মহামারি আকারে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন চিকিৎসকরা। তাই এ সময়টাতে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি আর স্যালাইন খাবার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়–য়া বলেন, তীব্র গরমে আমাদের শরীর প্রচুর ঘামে। এতে করে পানিশূণ্যতা তৈরি হয়। এসময় দূষিত পানি পানের মাধ্যমে ডায়রিয়া, আমাশয়ের মতো পানিবাহিত রোগগুলো শরীরে বাসা বাঁধে। তাই এ সময়টাতে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত পান করতে হবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]y.com