বিএনপিতে চলছে দু’কূল ভাঙার খেলা…

আমাদের নতুন সময় : 12/05/2019

বিভুরঞ্জন সরকার : রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএনপিকে ঘিরে যে চক্র বা জোট গড়ে উঠেছিলো সেগুলোতে ভাঙনের শানাই বাজতে শুরু করেছে। বিএনপির পুরনো মিত্র ২০ দলীয় জোট এবং নতুন মিত্র জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অবস্থা এখন ‘ঠেলাঠেলির ঘর, খোদায় রক্ষা কর’। ২০ দলীয় জোটের ঐক্য যেমন রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি ঐক্যফ্রন্টেও অনৈক্যের সুর বাজছে। ক্ষমতা খুব কাছাকাছি ভেবে যারা বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়েছিলো, তারা এখন ক্লান্তবোধ করছে। আগামী পাঁচ বছরে বিএনপি যে আর ক্ষমতার ধারেকাছেও যেতে পারবে না, এটা মোটামুটি সবাই বুঝে নিয়েছে।

এমনকি পরেরবারেও যে বিএনপির ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে, তেমন সম্ভাবনাও অনেকেই দেখছেন না। তাই এতোদিন যারা বিএনপির বড়ভাই সুলভ ভাবভঙ্গি মেনে নিয়েছে, এখন তারা মান-অভিমান-জ্বালা-যন্ত্রণা এবং চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে শুরু করেছে। কেউ ২০ দলীয় জোট ছাড়ছে, কেউ ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। যারা বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছে তারা কি আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকবে, নাকি আবার একটি বিকল্প জোট গঠনের দিকে যাবে, এসব বিষয় স্পষ্ট হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটা এখন স্পষ্ট যে, বিএনপিকে সামনে রেখে যারা ক্ষমতার মোয়া তৈরির জন্য গুড় জ্বাল দেয়া শুরু করেছিলেন, তারা এখন হতাশ।

একূল ভেঙে ওকূল গড়া নদীর খেলা হলেও বিএনপিতে চলছে দু’কূল ভাঙার খেলা। গড়ার কোনো লক্ষণ আপাতত নেই। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত বিএনপিকে একবারে নিঃস্ব করে ফেলেছে। বিএনপির পক্ষে কথা বলার মতো লোকের অভাব প্রচ-। বিএনপি কোন পথে হাঁটবে, কার সঙ্গে চলবে তা ঠিক করার দায়িত্ব যাদের তারা এখন দলটিকে কি পরামর্শ দেবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। কেউ কেউ বরং বিএনপিকে ক্ষমতার রাজনীতির হিসাব থেকেও বাদ দেয়ার পক্ষে। বিএনপি নিয়ে এতো হতাশার কারণ, এই দলের রয়েছে বিপুল সমর্থকগোষ্ঠী। তারা এখন কি করবে? বিএনপি যদি সত্যি ভঙ্গুরদশা কাটাতে না পারে তাহলে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির পেছনে দাঁড়াবে আওয়ামী লীগবিরোধী, ভারতবিরোধী ছদ্মবেশী অসাম্প্রদায়িক ভদ্রলোকেরা? বাংলাদেশে তাই একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির অভ্যুদয়ের সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অবশ্য ভুলত্রুটি স্বীকার করে, নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে বিএনপি যদি নতুন করে পুনগর্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করে তাহলে দলটি হয়তো বিপদমুক্ত হলেও হতে পারে।

বিএনপির শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যেও এই ভাবনা দৃঢ়মূল হচ্ছে যে, তারেক রহমান বিএনপির চালকের আসনে থাকলে দলটি কখনই সঠিক পথে চলতে পারবে না। কারণ তারেকের চিন্তা-পদ্ধতির মধ্যেই গলদ আছে। তিনি রাজনীতিটাকে ‘বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র’ ছাড়া আর কিছু ভাবতে অভ্যস্ত নন। বিএনপির নেতৃত্ব তারেকের হাতে যতোদিন থাকবে ততোদিন দলটির বিপদ যে বাড়াতেই থাকবে, সেটা বিএনপি বুঝতে না চাইলে তাদের বোঝায় কে? বিএনপি তাদের এতোদিনের অনুসৃত নীতির একটি বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা করে এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি নতুন যাত্রা শুরু করে তাহলে সুফল না পাওয়ার কথা নয়। এখন বিএনপি সংসদে যোগদানের সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে যদি ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে থাকে তাহলে তো প্লাসে মাইনাসে আবার মাইনাস হয়ে যাবে। বিএনপিকে অস্থিরতা পরিহার করতে হবে, হঠকারিতা থেকে দূরে থাকতে হবে। একইসঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

আর যদি তারা পুরাতন ধারায় চলতে থাকে, তারেক রহমানকে মাথার মুকুট করে রাখার জেদ অব্যাহত রাখে তাহলে বিএনপির অব্যাহত পতন-যাত্রা রোধ করা সহজ নাও হতে পারে।

লেখক : যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]