ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত ১৫ জনের বাড়ি সিলেটে ইউরোপ যেতে ৮ লাখ টাকার চুক্তিতে দেশ ছেড়েছিলেন তারা

আমাদের নতুন সময় : 12/05/2019

 

আশরাফ রাজু : স্বপ্ন নিয়ে তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন একরকম অজানাপথে। গন্তব্য মোটামুটি স্থির থাকলেও ছিল অনিশ্চয়তা। প্রতিমুহুর্তে মৃত্যুর ভয়। স্বপ্ন এবং মৃত্যুর মাঝখানে থেকে তারা আপন দেশের মাটি ছেড়েছিলেন। ছেড়েছিলেন স্বজনদের সাহাচার্য। কিন্তু মৃত্যু তাদের ছাড়েনি। সাগরপথে লিবিয়া থেকে ইটালি যাওয়ার পথে ট্রলার ডুবিতে তারা মৃত্যুবরণ করেন। এরমাধ্যমে সাগরেই সলিল সমাধি হয় স্বপ্নের। গত বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে নিহত হন প্রায় ৬০ জন অভিবাসী। যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশী নাগরিক। আর এদের মধ্যে ১৫জন সিলেটের বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিলেটের ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।

ছয় জনের মধ্যে চার জনেরই বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। তারা হচ্ছেন উপজেলার সেনেরবাজার কটালপুর এলাকার মুহিদপুর গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে আহমদ হোসেন (২৪), একই গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে আব্দুল আজিজ (২৫), সিরাজ মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (২৪) ও মানিকোনা গ্রামের মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে আফজাল মোহাম্মদ (২৫)।

লিটন মিয়ার পিতা সিরাজ মিয়া জানান, ৮ লাখ টাকার চুক্তিতে ইটালি যাওয়ার কথা ছিল লিটন মিয়ার। সিলেটের রাজা ম্যানশনের ইয়াহইয়া ওভারসীজ নামক এজেন্সির সাথে এমন চুক্তি হয়েছিলো তাদের। এলাকার পরিচয়ের সুবাদেই এ চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তারা। ফেঞ্চুগঞ্জের আরো কয়েকজন এই এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। সিরাজ মিয়ার চার ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় লিটন মিয়া (২৪) সদ্য লেখাপড়া শেষ করেছিল। এছাড়া এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের ছোট ভাই কুলাউড়ার ভুকশিমাইলের আহসান হাবিব শামীম এবং তার শ্যালক গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছোট ছেলে কামরান আহমদ মারুফ। এই ট্রলারে মারুফের বড় ভাই মাছুম আহমদও (২৫) ছিলেন। কিন্তু এ সময় জেলেরা ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে। এই উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে মাছুম আহমেদও রয়েছে।

এজেন্সিটির মালিক এনাম আহমদের বাড়িও ফেঞ্চুগেঞ্জে। গতকাল রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একাধিকবার গিয়েও এজেন্সিটি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। আর তাদের ব্যবহৃত সবকটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ। মৃতের স্বজনরা জানিয়েছেন- ঘটনার পর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি এনাম আহমদের। তাদের দাবি তিনি পলাতক।

বেঁচে যাওয়া লোকজন তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টক জানিয়েছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লিবিয়ার উপকুল থেকে ৭৫ জন অভিবাসী একটি বড় নৌকায় করে ইটালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। গভীর সাগরে তাদের বড় নৌকাটি থেকে অপেক্ষাকৃত ছোটো একটি নৌকায় তোলা হলে কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি ডুবে যায়।

ত্রিপলিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলী বলেন, তারা দুর্ঘটনার কথা জানেন এবং তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের যোগাযোগ চলছে। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব তারা জারযিজে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, লিড়াই চলার কারণে সড়কপথে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা বলে তাদের আকাশপথে যেতে হবে।

অভিবাসীদের ভাষ্যমতে, নৌকাটিতে ৫১জন বাংলাদেশী ছাড়াও তিনজন মিশরীয় এবং মরক্কো, শাদ এবং আফ্রিকার অন্যান্য কয়েকটি দেশের নাগরিক ছিল। এ বছরের প্রথম চার মাসে লিবিয়া থেকে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকা ডুবে কমপক্ষে ১৬৪ জন মারা গেছে বলে জাতিসংঘ বলছে। সম্পাদনা : ওমর ফারুক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]