মা : দিবস ও দিবসহীনতার জননীঅজয় দাশগুপ্ত, অস্ট্রেলিয়া থেকে

আমাদের নতুন সময় : 12/05/2019

মা কোন দিবসবন্দি হতে পারে না। মা  মানেই এক সার্বজনীন মুখ। যার ভেতর আনন্দ ভালোবাসা আর দায়িত্ব থাকে পাঁপড়ির মতো। মা সেই গোলাপ যা না থাকলে সংসার বাগান সৌন্দর্যহীন। সে মাকে দিবসবন্দি করা অনুচিত হলেও আজ সেটা সত্য। বাইরের দেশগুলোতে এর দরকার অস্বীকার না করলেও পুঁজিবাদ মানুষকে এমন করে ফেলে যে দিবস পালন না হলেও কিছু করার থাকে না । তারপর ও মা এসব কিছুর ঊর্ধ্বে এক জননী ।

আমার মতো যাদের মা নেই তারা খুব ভালো জানি মা না থাকা মানে মাথার উপর আকাশ না থাকা। বাবা মারা যাবার পর মনে হয়েছিলো মাথার উপর থেকে ছাদ সরে গেছে। আর মা মারা যাবার পর খেয়াল করলাম আকাশটাই নাই হয়ে গেছে। মায়ের সঙ্গে বিজ্ঞানসম্মত কারণে সম্পর্ক যতোটা নিবিড় স্নেহজ কারণে ততোটাই গভীর। আমরা বিষয়টাকে কেবল স্পর্শাতীত ভাবলে ভুল করবো। মা আমাদের আশ্রয় । এটা শুরু হয় শৈশবে। যখন সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত একমাত্র মাই সন্তানকে সময় দেন। তার হাঁটার শুরু তার কথা বলার শুরু তার খাবার-দাবার পোশাকের শুরুটাও হয় মায়ের কাছে। বড় হতে হতে প্রকৃতির নিয়মে আমরা দূরত্বে যেতে থাকি।

দোলনা থেকে মৃত্যু অবধি যার ঋণ শোধ করা অসম্ভব তাকে কোনোভাবে বৃত্তাবন্দি বা ফ্রেমবন্দি করার নাম অপরাধ। আমার কাছে মায়ের নাম একটাই জননী। তিনি যার হোক, যে দেশের হোক, তরুণী মা হোক আর বয়সী মা হোক তিনিই জননী। আজকাল বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিও কমে আসছে বৈকি। অনেক কিছু ভালো দেখি না। কিন্তু এখনো এটাই আমার দেখা সেরা ছবি যখন আমি ব্যালকনিতে বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি ছোট শিশুর হাত ধরে দ্রুত চলে যাচ্ছে কোনো মা। শিশুটি নিজের মনে বকবক করে চলেছে। আর মা একদিকে তার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন আরেকদিকে কীভাবে তাকে নিরাপদ রাখা যায় তার চেষ্টা করে চলেছেন।

ফিরে আসতে থাকে। তখন আমার মাও আমার কাছে ফিরে আসতে থাকেন। তিনি কীভাবে কীভাবে যেন ফিরে আসতে জানেন। রোগশয্যায় সেবার হাত হয়ে দুর্দিনে কপালে হাত রেখে শ্রান্ত হয়ে গেলে আঁচলে মুখ মুছিয়ে কাছে আসা দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান মা কখনো হারায় না। লেখক : কলামিস্ট ও বিশ^বিদ্যালয় পরীক্ষক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]