• প্রচ্ছদ » » মোদি বিকল্প দর্শন ভারতকে দিতে চান কিন্তু সেটা কি?


মোদি বিকল্প দর্শন ভারতকে দিতে চান কিন্তু সেটা কি?

আমাদের নতুন সময় : 12/05/2019

বিপ্লব পাল

আতীশ তাসির, টাইমস ম্যাগাজিনে কিলোটনের বোমা ফেলেছেন! ভারতসহ পৃথিবীর প্রায় সব মিডিয়াতে সেটাই খবরÑমোদি সেখানে ‘বিভাজনের সারথি’ উপাধিতে বিভ‚ষিত। দুর্ভাগ্য এই যে, রেটোরিকের মধ্যে আতীশের মূল থিসিসটা নিয়ে কোথাও আলোচনা নেই। অথচ ওটাই ছিলো মুখ্য। আতীশ তাসির কিন্তু কংগ্রেসকেও ব্যঙ্করাপ্ট হিসাবেই গালাগাল করেছেন। সেটা নিয়ে কেউ কিছু বলছে না! আমি লেখাটা এজন্যই লিখছি যাতে আতীশের মূল প্রশ্নটা সামনে আসে। কারণ এই প্রশ্নটা দুদিন আগে যুভাল নোভা হারারিও করেছেন। আমি যা বুঝলাম, উনার থিসিসের বক্তব্য
‘ভারতের লিব্যারাল এলিটÑযারা মুখ্যত কংগ্রেসের বেশে, পাশ্চাত্য আধুনিকতায় এবং শিক্ষায় ভারত শাসন করেছে দীর্ঘকালÑতারা জনসাধারণ বিচ্ছিন্ন। বেশ ভালোÑকারণ এটা সত্য। মোদি এবং তার ভক্তরা… প্রাচীন ভারতের দর্শনে ধর্মে ফিরতে চান। পাশ্চাত্য লিব্যারালিজম ছেড়ে সংস্কারী হতে চান। কারণ ভারতের অধিকাংশ লোকই তাই। তাও বেশ বোঝা গেলো।’ কিন্তু এর পরের প্রশ্নটাই আসল। সেটা হচ্ছে মোদির হাতে বিকল্প সেই আদর্শ কি? বেদ উপনিষদ নিজেকে জানার শিক্ষা। তাই দিয়েত স্যাটেলাইট উড়বে না, সফটওয়ার চলবে না, কারখানা চলবে না, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও আসবে না।
মোদি এলিটদের ছুড়ে ফেলতে চান। ভালো কথা। কিন্তু বর্তমানের ফাইন্যান্স, শিল্প, শিক্ষা চালাতে গেলে তো সেই এলিট ক্লাস ছাড়া উপায় নেই। এখানে যেটা আতীশ লেখেননি। কংগ্রেসের ডাইনাস্টি কিন্তু নিজেদের অকাত বোঝে। ফলে তারা ফাইন্যান্সে মনমোহন সিং, রঘুরাম রাজন, নিলকার্নী, স্যাম পিদ্রডা ইত্যাদি টেকনোক্রাটদের দিয়েই দেশ চালান। এরাই কিন্তু ১৯৮৪ সাল থেকে দেশটাকে টেনেছেন। রাজীব বা সোনিয়া শুধু এদের সাপোর্ট দিয়ে গেছেন।
মোদি নিজে চালাতে গিয়েছিলেন। সে যোগ্যতা তার ছিলো না। তিনি ভালো বক্তা। মজাতে পারেন। কিন্তু তাকেই দেশ চালাতে হবে, এই গ্যারান্টি কে দিয়েছিলো? তিনি যোগ্য লোকেদের ফাইন্যান্সে, শিল্পে শিক্ষায় আনতে পারতেন। তার বদলে শিক্ষায় নিয়ে এলেন অভিনেত্রীকে! উল্টো ভালো লোকদের তাড়িয়েছেন। সে কংগ্রেসের লোকেদের তাড়াতেই পারেন। কিন্তু বিজেপির মধ্যেও তো স্যাম পিদ্রোদা, মনমোহন ছিলো। তাদের না তুলে, নিজেই সব কিছু করতে গিয়ে আল্টিমেট লেভেল ছড়িয়েছেন। যারা জিএসটি এবং ডিমনেটাইজশনের ভুক্তভোগী, তারা মানবেন। আতীশের এই প্রশ্ন দিয়েই কিন্তু প্রবন্ধটা শেষ হয়েছে? মোদি বিকল্প দর্শন ভারতকে দিতে চানÑকিন্তু সেটা কি? হিন্দু খতরে মে হ্যায় বলে ভোট পেতে পারেন, কিন্তু দেশ চালাতে গেলে তো দক্ষ এক্সিকিউটিভের দরকার।
আমার যেটা মনে হয়েছে বিজেপি ২০১৪ সালের বিশাল জনাদেশকে ফর্দাফাই করেছে। প্রতিপক্ষ এখনো দুর্বল। বিবদমান। ২০১৯ সালে তারা নীতিন গাদকারীকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ করলে, কিছুটা ফল ভালো হতো। ইনফ্যাক্ট বিজেপির মধ্যে ওই লোকটাই কাজের। বাকিরা বকে বেশি, কাজে কম। আবার আমার প্রিয় গ্রন্থ প্লেটোর পলিটিকোতেই ফিরে যায়। যেখানে সক্রেটিস বলছেন, জাহাজে উঠলে ভালো নাবিকের খোঁজ করো। কারণ তুমি জানো সেই তোমাকে বাঁচাবে সামুদ্রিক ঝড় থেকে। অথচ গণতন্ত্রে অভিনেতাদেরই চাহিদা। যে যতো ভালো ভালো কথা বলে মিথ্যা প্রতিশ্রæতি দিতে পারে, জনগণ মূর্খের মতো তাকেই ভরসা করে। কাজের লোকেরা ভোটে জেতে না। সেই জন্যই যারা ভোটে জেতে তারা অন্তত কাজের লোকদের দিকে কাজ করিয়ে মসনদটা টেকাক অন্তত! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]