• প্রচ্ছদ » » রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে প্রয়োজন নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা


রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে প্রয়োজন নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা

আমাদের নতুন সময় : 12/05/2019

প্রকৌশলী নওশাদুল হক

রাজধানী ঢাকা। অনেক সমস্যার কারণে যেখানে থাকতে চায় না মন। আবার কিছু কিছু সুবিধার কারণে ছাড়তেও মানে না মন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নত চিকিৎসাসহ নাগরিক সুবিধার জন্য দেশের অন্যান্য জেলা শহরের সঙ্গে ভারসাম্যহীন অবস্থান ঢাকার। তেমনিভাবে অনিরাপদ পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস বিশেষভাবে ট্রাফিক জ্যামের ক্ষেত্রেও শীর্ষে অবস্থান তারই। মতিঝিলে পাঁচ মিনিটের প্রয়োজনে মিরপুরবাসীর পুরোদিনই ভেস্তে যায়। ঢাকার লোকজনকে কর্মক্ষেত্রের চেয়ে রাস্তার উপর গাড়িতে বসেই বেশি ঘণ্টা ব্যয় করতে হয় প্রায়শই। সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক জ্যামের কবলে জ্বালানির অপচয়ের সঠিক হিসাব কারোরই জানা নেই। তার উপর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, কালো ধোঁয়া ও অপ্রতুল পাবলিক ট্রান্সপোর্টের কারণে অনেকটা অস্বস্তিতেই দিন কাটে রাজধানীবাসীর। এহেন অস্বস্তি থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতেই রাস্তায় সার্ভিস দিচ্ছে রাইড শেয়ারিং। উবার, পাঠাও, ওভাইসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের মোটরবাইক সার্ভিস এদের অন্যতম। নির্ধারিত রাস্তা ছাড়াও চিপাগলি, উল্টোপথ কখনওবা ফুটপাথ দিয়েও চলে তারা। এতে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ কিংবা পথচারীদের কিছুটা অসুবিধা হলেও যাত্রীদের অনেক সময় সাশ্রয় হচ্ছে। এতে কারও দ্বিমত নেই নিশ্চয়ই। এতে করে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ফুল টাইম বা পার্ট টাইম বাইক চালিয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, নিম্ন আয়ের চাকরিজীবিসহ অনেক বেকার তরুণরা নিজেদের স্বাবলম্বী করার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। আবার রাজধানীতে বৃহৎ পরিসরের যাত্রীর বাজারের ম্যাসেজ পেয়ে এবং মফস্বল জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে কর্মসংস্থানের অভাবহেতু বেশ কিছু বাইক চালক নতুন করে পা রাখছে রাজধানীতে। যার দরুন রাইড শেয়ারিং সার্ভিস অনেকটাই জনপ্রিয় এই মুহুর্তে। সঙ্গে সঙ্গে কিছু সমস্যা ও বিড়ম্বনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনে দিনে। তন্মধ্যে অচেনা রাস্তা, পেশাদারিত্বের অভাব, বসবাসের জায়গার অভাব অন্যতম। সর্বোপরি রাজধানীতে নতুন করে জনসংখ্যার চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কথা প্রসঙ্গে এসব সমস্যার বাইরেও অন্য আরেকটি সমস্যার কথা জানালেন রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক চালক মো. শফিকুল হক শফি। যাত্রীদের অনেক কলের মধ্যে ২৫ হতে ৩০ শতাংশ কলই নারীদের। যাদের বেশিরভাগই টিন এজার বা ছাত্রী। মাঝে মধ্যে অল্প সংখ্যক নারী চাকরিজীবীর কলও আসে বৈকি। এহেন প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের তাদের পছন্দমতো কায়দায় পেছনে বসিয়ে বাইক চালাতে গিয়ে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে ছিটকে পড়তে হচ্ছে উভয়কেই। অন্যদিকে কলের সুবাদে চালক এবং যাত্রী উভয়ের কন্টাক্ট নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরস্পরের কাছে বিনিময় হচ্ছে। যা পরবর্তীতে দু’জনের যে কারও পছন্দের কারণেই পুনঃকন্টাক্টের চেষ্টা বা কন্টাক্ট সফল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে কদাচিৎ। এতে করে কখনও কখনও সূত্রপাত হচ্ছে বিরক্তিকর পরিস্থিতির। কখনও কখনও অনৈতিক কর্মকাÐের। রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মোটরবাইক চালকও যাত্রীদের ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে থেকে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চললে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এর কলেবর বৃদ্ধি পাবে। যার সঙ্গে বাড়বে এর জনপ্রিয়তাও। আর এরই মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বেকারদের। সক্ষমতা বাড়বে স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীদের। নির্বিঘেœ লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে গরিব ঘরে জন্ম নেয়া কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। পাবলিক ট্রান্সপোর্টের অভাব কিছুটা হলেও লাঘব হবে যাত্রীদের। তবে এহেন সমস্যা এড়াতে চালক এবং যাত্রীদের সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে তার নৈতিকতা, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি।
লেখক : সভাপতি, ঢাবি. সমাজকল্যাণ অ্যালামনাই ফোরাম




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]