• প্রচ্ছদ » » ইফতারি দেয়া ধর্মীয় কোনো বিধান নয়?


ইফতারি দেয়া ধর্মীয় কোনো বিধান নয়?

আমাদের নতুন সময় : 13/05/2019

শাহাব চঞ্চল

ইফতারি দেয়া-নেয়া এটা একটা কুসংস্কার প্রথা। ইফতারি দেয়া ধর্মীয় কোনো বিধান নয়। আমি ২০ বছর আগে থেকে এটা বর্জন করেছি। আপনিও হাসিমুখে বর্জন করুন। আপনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন যতো ধনী হোক আপনি তাদের বুঝিয়ে বলুন, দয়া করে এই প্রথাটা বন্ধ করতে আপনারা সাহায্য করুন। আমি আপনার মেয়ের বা বোনের স্বামী আপনাকে অনুরোধ করছি আপনি দয়া করে এই রমজানে আমার বাড়িতে ইফতারি নিয়ে আসবেন না। একান্ত যদি আপনার মেয়ে বা বোনের সঙ্গে একদিন ইফতার করতে মন চায় এই রমজানে আপনার বাড়িতে গিয়ে ইফতার করে আসবো যা আপনার সাধ্যের ভেতর এতে শাক-ভাত হোক আর ডাল-ভাত হোক। পবিত্র এই মাসে হাসিমুখে ইফতার করে আসবো তবুও এই লোক দেখানো প্রথাটা বন্ধ করুন। এটা একটি লোক দেখানো প্রথা, ইফতারি না দিলে আমি বরং আপনার মেয়ে বা বোনকে আরও বেশি খুশি রাখার চেষ্টা করবো। এটা এখন লোক দেখানো সামাজিক ব্যাধি স্বামী-স্ত্রীর সংসারে বড় ধরনের সম্যসা সৃষ্টি করতে সহায়তা করে। অনেক একান্নবর্তী পরিবারের বা বাড়ির মধ্যে কে কতো বেশি ইফতারি দিয়েছেন বা পেয়েছেন এ নিয়ে অনেক পরিবারের বউ, ননদ, জাল বা প্রতিবেশীদের অহেতুক কথাবার্তায় স্বামী-স্ত্রীর সংসার ধ্বংস হয়েছে, এটা একটা বেহুদা অর্থ অপচয়ের প্রতিযোগিতা। আর অনেক অভাবী বাবা-মার উপরে একটা বাড়তি বোঝা মনের মধ্যে অজানা একটা শঙ্কা ইফতারি অংশ কম না বেশি হয়েছে। বাবা সীমিত আয়ের যা তার পক্ষে সম্ভব তা দিয়ে ইফতারি দিলো অথচ দেখা গেলো মেয়েকে স্বামী বা তার শ্বশুর-শাশুড়ি, পাড়া-প্রতিবেশীরা একটা আঘাত দিয়ে কথা বলছে, মেয়েকে তার বাবার সাধ্যমতো ইফতারি দিয়েও মেয়ের স্বামী বা তার শ্বশুর-শাশুড়িকে খুশি করতে পারেনি একটা কুসংস্কার প্রথার কারণে যার ধর্মীয় কোনো বাধ্য-বাধকতা নেই। একদিকে অপচয় অন্যদিকে অশান্তি এই প্রথাকে না বলুন।
আমি আর আমার বন্ধু ভাই খোকন আমাদের লন্ডনে বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র ব্রিকলেইন এবং ক্যানন স্ট্রিটে দুই জায়গায় দেশ মিষ্টি নামের বেশ জনপ্রিয় বাঙালি মিষ্টির ব্যবসা ছিলো। রমজান মাস আসলে লাইন ধরে মিষ্টি কিনতে আসতেন রমজান শেষে ৯০ শতাংশ ব্যবসা কমে যেতো কেবলমাত্র বিয়ে শাদিতে বড় ধরনের বিক্রি হয়েছে। এই লন্ডনে আমরা অনেক বেয়াকুফদের দেখেছি অনেকে মেয়ে আর স্বামীসহ পরিবারে ২-৪ জন কিন্তু মেয়ের বাড়িতে এমন সব ইফতার সামগ্রী নিয়ে আসেন শুধু গল্প করার জন্য যে, আমার মেয়ের বাড়িতে এতোটা রসমালাই এতোটা কালোজাম এতোটা এই এতোটা সেই দিয়েছি, তার সঙ্গে অনেক ধরনের ফল, অথচ যা পরের দিন ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হয় কারণ প্রতিবেশীদের কাছে বিতরণ করলেও দেখা যায় প্রতিবেশীরাও ডাস্টবিনে ফেলে দেয় অতএব ৯০ শতাংশ অপচয়। এই কুসংস্কার প্রথাকে না বলুন। সংযমের মাস রমজানে নিজেকে অপচয় থেকে রক্ষা করুন। মেয়ের বাড়ি থেকে যে পরিবার ইফতারি চাইবে আর না দিলে মেয়েকে টর্চারিং করে এমন পরিবারদের সমাজচ্যুত করুন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]