একজন মা ও মা দিবসের তাৎপর্য

আমাদের নতুন সময় : 13/05/2019

লীনা পারভিন

মা দিবস, নারী দিবস পালন চালু হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি আমাদের দেশে। কিন্তু ‘মা’ এবং ‘নারী’ এই দুটি সত্তার অবস্থান যুগ যুগ ধরেই আছে। তাহলে দিবসে কি আসে যায়? দিবস আসার পর কি নারী বা মা’দের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন বা মর্যাদার কোথাও কোনো পরিবর্তন হয়েছে? যদি বলি হয়তো হয়েছে বা হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি প্রকাশের জায়গাটি হয়তো অনেক প্রসারিত হয়েছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসেনি খুব বেশি। ফেসবুকের কল্যাণে এক ধরনের শহুরে আভা এসেছে, কর্পোরেটাইজেশন হয়েছে দিবসগুলোর। মিডিয়ার কল্যাণে ছুঁয়েছে অনেক মানুষের ঘর।
একজন নারী। আসলে তার আসল পরিচয়টি কোথায় নিহিত আছে? কন্যা, স্ত্রী, বউ, মা, শ্বাশুড়ি, কর্মজীবী নারী, সামাজিকতা রক্ষার বাহক, রাঁধুনী, নার্স, ডাক্তার, বুয়া আরও অনেক।
একজন নারী সে যতো বড় কর্মেই থাকুক না কেন সংসারের সামগ্রিক বিষয় দেখার দায়িত্ব যেন বিল্ট ইন মানে পাশে থাকা মানুষটি যতোই কাছে থাকুক না কেন নিশ্চিন্তেই থাকেন সারাদিন কোনো প্রকার খোঁজ-খবর ছাড়াই। অথচ একজন কর্মজীবী নারী সারাদিনের কাজের বাইরেও বসে বসে টেলিফোনে একইসঙ্গে সংসার করেন, অফিস করেন, মিটিং মিছিল করেন, বাইরে সামলান সব করেন। তারপরও সেই নারীটির ভালো মন্দের খোঁজ ক’জন রাখেন? আপনার পাশের সঙ্গীটি কি খেতে ভালোবাসেন, কি করতে ভালোবাসেন, কোথায় গেলে শান্তি পান বা আপনার কোন বিষয়টি তার পছন্দ বা অপছন্দ সে খোঁজটুকুই বা রাখেন ক’জন? সামান্য এদিক-সেদিক হলেই মুখ কালো করে কথা বলতে বাধে না কারোই। গালি দিতে আটকায় না কোনোভাবেই।
তাই বলছিলাম ‘নারী’র মর্যাদার জায়গাটিকে অনুধাবন করা ব্যতীত কোনো দিবসেই শান্তি পাই না আমি। রুটিনমতো মা’কে ফোন দিই, কিন্তু এই মা সারাজীবন আমি যেন ভালো থাকতে পারি, আমি যেন শখ আহ্লাদের জীবন কাটাতে পারি সেই ইন্তেজাম করতে গিয়ে নিজেকে উজাড় করেছেন। নিজের ভালো লাগার জায়গাগুলোকে ছেড়েছেন। দাবি রাখেননি কখনও এমনকি মুখ ফুটেও বলতে চায় না কোনোদিন। হাজার অসুখেও চিন্তা করে সন্তানের সামর্থ্য আছে কিনা চিকিৎসা করার।
নারীরা কোনো দয়া চায় না কারও কাছে। মর্যাদার জায়গাটি দয়ায় নয়, দানেও নয়। প্রাপ্য হিসাবেই নিশ্চিত করাই আকাক্সক্ষা। তাই মা দিবসে আসুন আমরা নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞা করি, আমার পাশে থাকা নারীটি সে যেই হোক, তার প্রাপ্য মর্যাদাটুকু দিয়ে নিজের দায়টুকু শোধ করি। এ দায় সামাজিক ও ঐতিহাসিক দায়। দিবসেই না আটকে রেখে প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্ত হোক নারীর। হোক সে মা, বোন, স্ত্রী, প্রেমিক, বন্ধু, প্রতিবেশী, আত্মীয়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]