• প্রচ্ছদ » » বিয়েতে যৌতুক নয়, সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করুন


বিয়েতে যৌতুক নয়, সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করুন

আমাদের নতুন সময় : 13/05/2019

স্বপ্না দে

আদেখলে মা-বাবার আচরণে গা-জ্বালা করে যৌতুক নিয়ে কথাবার্তা শুনে। ওরা যা করা উচিত নয় তা করতে প্রাণপাত করে ফেলে। যা করা উচিত, তা না করার জন্য বাহানা খুজে। মেয়েকে নিয়ে সংসার করছেন, মেয়ের পেটে জন্ম নিয়েছেন অথচ বোনকে নিজের সমান অধিকার দিতে রাজি নয়। বাবা নিজের কন্যাকে সম্পত্তির অধিকারী ভাবতে পারেন না। যা দেয়া প্রয়োজন নেই তা দিয়ে জামাইকে খুশি করে মেয়ে গছিয়ে দেন। অথচ মেয়েকে সম্পত্তির অধিকার দিচ্ছে না। নানা খোঁড়া যুক্তি দিয়ে নিজের মেয়েকেই বঞ্চিত করা হচ্ছে। এসব যৌতুক কিন্তু মেয়েকে দেয়া হয় না। দেয়া হচ্ছে জামাইকে। কারণ, উনাদের কমদামি, আগাছাসম সন্তানকে (যাকে বিয়ে না দিলে সমাজে উনার মানহানি হবে, পূর্বপুরুষের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হবেন। তদুপরি ভরণ-পোষণের ঝামেলাও আছে)। অন্যের বাড়িতে একটু সমাদরের জন্য ঘুষ দেয়া আর কি। মেয়েকে তো দানই করছেন। সঙ্গে বেঁধে রাখার জন্য রশি তো দিতেই হবে। তা না হলে পাছে যদি আবার পুরানো গোয়ালে ফিরে আসে, সেই ভয় থেকেই মূলত এই দেয়া-থোয়া। মেয়েকে জন্ম থেকেই দান সামগ্রী ভাবা হয়। যা না হলে বাবাদের বিশেষ পুণ্য লাভ হয় না! একটা মেয়ে তাই সব সংসারেই কাম্য, দান করে হাত শুদ্ধ করার জন্য। আহারে নারী জন্ম! আমি অনেক পরিবারে নিজ চক্ষে, কানে এই বিষয় দেখেছি, শুনেছি। আমাদের প্রিয়জনেরা (তথাকথিত) যুক্তি উত্থাপন করেন মেয়েরা সম্পত্তির অধিকার পেয়ে গেলে সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘিœত হবে। লাভ জিহাদ বেড়ে যাবে। ভাই বোনের সম্পর্ক নষ্ট হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বলতে চাই লাভ কি শুধু মেয়েরাই করবে। ছেলেরা করে না? স্বামীরা কি মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার ছেড়ে দেন? যদি কোনো স্ত্রী স্বামীর আগে মারা যান এবং তিনি কর্মজীবী হন তাহলে ওই মৃত স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক কে হন? স্বামীরা কেন তখন আর একটা বিয়ের অধিকার রাখেন যদি মরে যাওয়ার পরেও স্ত্রীকে পুনরায় জীবন শুরু করার অধিকার দিতে রাজি না হন। একজন মা কি কখনও তার সন্তানের কথা ভাবেন না? কেন এক বিধবা নারীকে মুখ কালো করে লতাগুল্মের মতো এর-ওর কৃপাপ্রার্থী হয়ে সামান্য ভরণ-পোষণ এবং নিরাপত্তার জন্য পাঁচজনের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে? যাকে আপনি বিয়ে করে এনেছিলেন। যার কাছ থেকে সমস্ত জাগতিক পাওনা আদায় করে নিচ্ছেন। মুখে মুখে ভালোবাসি ভালোবাসি বলছেন, অথচ আচরণ করেছেন এক সেবাদাসীর মতো।
মৃত্যুর পরও তাকে পাওনা মিটিয়ে মুক্তি দিতে এতো অনমনীয়তা! সেই বাবা কেমন বাবা, যিনি তার সন্তানকে আজীবন নিঃস্ব রিক্ত রেখে যাচ্ছেন ধর্মের অজুহাতে। যে ধর্ম আমাকে চিরদিন অসহায় করে রাখে, দাসি হিসাবে বিবেচনা করে, বিবেকহীন নির্বোধভাবে, তার প্রতি আমার কেন সম্মানবোধ জন্ম নেবে বলতে পারেন? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]