• প্রচ্ছদ » » রোগী চায় বলে চিকিৎসক বাড়তি ঔষধ লিখবেন, এটার মতো অসৎ কুযুক্তি আর কী হতে পারে!


রোগী চায় বলে চিকিৎসক বাড়তি ঔষধ লিখবেন, এটার মতো অসৎ কুযুক্তি আর কী হতে পারে!

আমাদের নতুন সময় : 13/05/2019

ফিরোজ আহমেদ

একজন চিকিৎসক কোনো দ্বিধা না করে একটা মন্তব্য লিখেছেন, তার হাতে অন্তত একশো শিশুর মৃত্যু হয়েছে অস্ত্রোপচারের সময়। কিন্তু কোনো অভিভাবক তার দিকে তেড়ে আসেননি, তাকে গালমন্দ করেননি এবং তার পাওনাও পরিশোধ করেছেন। কারণটা খুব সঙ্গত। হাজার দশেক অস্ত্রোপচারের মাঝে একশো জটিল জন্মগত রোগে আক্রান্ত নবজাতকের মৃত্যু স্বাভাবিক। অভিভাবকরাও অবুঝ নন, চিকিৎসকের নিষ্ঠা এবং দায়িত্বজ্ঞান দেখতে পেলে সন্তানের মৃত্যুর পরও চিকিৎসকের কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসা করতে অভিভাবকদের বাধবে না।
এটা এই কারণে বললাম, প্রায়ই দেখি দুর্নীতি বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণিত ঘটনাগুলোতেও চিকিৎসকরা রোগীর পরিবারের ওপর দায়টা চাপিয়ে দেন। যেমন : মফস্বলে গরিব রোগীদের প্রচুর ঔষধ এবং পরীক্ষা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে উত্তর দেন, ওরা ঔষধ কম লিখলে মনে করে চিকিৎসক ভালো নয়, আমাকে ঠিকমতো দেখেনি। অথচ নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, গরিব-ধনী নির্বিশেষে সব রোগী আসলে চিকিৎসকের সময় চায়, যেটা সে পায় না। যেচে বেশি ঔষধ চাওয়া মানুষ আমি জীবনে তিনজন দেখেছি, তার মানে এরা আছেন। কিন্তু রোগী চায় বলে চিকিৎসক বাড়তি ঔষধ লিখবেন, এটার মতো অসৎ কুযুক্তি আর কী হতে পারে!
যে চিকিৎসক এই আলাপটা তুলেছেন, তাকে সেখানে আরও জনাকয়েক চিকিৎসক অনুরোধ করছেন, আলাপটা গোপনে করতে! যেন যাদের চিকিৎসা করা হবে, সেই রোগীদের জানবার অধিকার নেই এসব গোপন কথা জানবার। অধিকাংশ চিকিৎসক অবশ্য এই পোস্টগুলো দেখেও না দেখার ভাণ করবেন। বাস্তবতাকে গোপন করা, না দেখার ভাণ করা এবং একইসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে আত্মপ্রচার হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর মাঝে সংখ্যায় প্রচুর ভালো মানুষ চিকিৎসক নীরবে কাজ করছেন, এটা হয়তো সত্যি। কিন্তু পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাটা এতো ভয়াবহ অসুখে ভুগছে যে, সাহস করে তারা কেউ যখন কথা বলেন, রীতিমতো শ্রদ্ধা জাগে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]