লাইসেন্স পেয়েও কাজ শুরু করেনি ৪ টাওয়ার কোম্পানি কল ড্রপের বিড়ম্বনায় ১৫ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহক

আমাদের নতুন সময় : 13/05/2019

বিশ্বজিৎ দত্ত : লাইসেন্স পেয়েও কাজ শুরু করতে পারেনি ৪ টাওয়ার কোম্পানি। ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এনিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও  মন্ত্রণালয়ের। অভিযোগ উঠেছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের অনিহার কারণে  কালক্ষেপন চলছে। এতে বন্ধ রয়েছে মোবাইল টাওয়ার সেবার সব ধরনের কার্যক্রম। এ অবস্থায় বড় ধরনের  নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়েছে ১৫ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহক। টাওয়ার নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে কল ড্রপসহ নানা বিভ্রাট। গত বছর নভেম্বরে চারটি কোম্পানিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার অবকাঠামো ভাগাভাগি সংক্রান্ত টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। যে চারটি প্রতিষ্ঠান টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো হলো ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিডেট, সামিট পাওয়ার, কীর্তনখোলা টাওয়ার এবং এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। ইডটকো ইতিমধ্যে তাদের অর্ধেক শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে ।

টাওয়ার সমস্যার কারণে দেশের সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোনের গ্রাহকদের অবস্থা কাহিল। অন্য অপারেটদের কলেও হচ্ছে নানা ভোগান্তি। গত ৬ থেকে ৮ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার ১৫টি এলাকায় বিটিআরসি কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) পরীক্ষা চালায়। এতে যান্ত্রিকভাবে ৯০ সেকেন্ডের ৩ হাজার ৩০০টি কল করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে গ্রামীণফোনের কল ড্রপ হার ৩.৩৮ শতাংশ, রবির কল ড্রপ ১.৩৫, বাংলালিংকের ০.৫৮ ও টেলিটকের ১.৫৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রামীণফোনে সংযোগের জন্য গড়ে ১০.১৪ সেকেন্ড সময় লেগেছে। পাশাপাশি রবিতে ৬.১৫ সেকেন্ড, বাংলালিংকে ৭.৬৯ সেকেন্ড ও টেলিটকে ৭.১১ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হয়েছে। ডায়াল করা নম্বরে সংযোগ পাওয়ার জন্য বিটিআরসির আদর্শ অপেক্ষার সময় ৭ সেকেন্ড।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানীর সৃষ্ট সংকট নিরসনে একটি গাইডলাইন তৈরী করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, গত বছর নভেম্বর মাসে চারটি কোম্পানিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার অবকাঠামো ভাগাভাগি সংক্রান্ত টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। কিন্তু মোবাইল ফোন অপারেটরদের মধ্যে টাওয়ার কোম্পানীগুলোর নানা ক্ষেত্রে মত মিল না হওয়ায় এখনো তা ঝুলে আছে। একারণে গ্রাহকরা মোবাইল ফোনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আইন অনুযায়ী মোবাইল ফোন অপারেটররা আর টাওয়ার ব্যবসা করতে পারছেন না। তাদের নিজস্ব টাওয়ার গুলোও লাইসেন্স পাওয়া ৪ টাওয়ার কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভাড়া বা বৈধ পন্থায় টাওয়ার সেবা নিতে হবে। কিন্তু বিক্রি দুরের কথা এখন পর্যন্ত টাওয়ারের মুল্য পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিতে পারেনি বিটিআরসি।এ সুযোগে বিদেশী একটি কোম্পানীর দখলে চলে গেছে টাওয়ার ব্যবসার পুর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১ বছরের মধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। এতে গ্রাহক সেবায় ব্যাঘাতসহ সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমও ভেস্তে যাবে। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ এরআগেও অপারেটরেদের কারসাজিতে নম্বর পরিবর্তন না করে অপারেটর পরিবর্তন অর্থাৎ এমএনপি সেবা চালু করতেও দীর্ঘদিন সময় লগেছে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের হস্তক্ষেপে চালু করা সম্ভব হয় ওই সেবা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাইসেন্স পাওয়া এক অপারেটর বলেন, ইতিমধ্যে তারা গড়ে প্রতিটি কোম্পানী ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছেন। ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করা ইডটকোর এই বিনিয়োগ আরো অনেক বেশি। পুজি নিয়ে বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছে ৩ কোম্পানি। কিন্তু সরকার ও অপারেটরদের কাছ থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন না কেউ। মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। অপারেটররা কালক্ষেপনের জন্য বিদ্যমান টাওয়ারের আকাশ কুসুম দাম হাকাচ্ছে। নানা টালবাহানা করছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, মোবাইল টাওয়ার শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দেশে মোবাইল প্রযুক্তির বিকাশে আরও একটি  মাইলফলক। সরকার লাইসেন্স দিয়েছে কাজেই যে যত টাল বাহানা করুক এর বাস্তবায়ন হবে। এনিয়ে কেউ কোন অনিয়ম করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]