আগামী পৃথিবী বিজ্ঞানের

আমাদের নতুন সময় : 14/05/2019

রক্ত পলাশ

এখন মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্তদের একটি প্রবল সমস্যা, কাজের বুয়া বা কাজের মাসি জোগাড় করা। আগের মতো তারা আর সহজলভ্য নয়। সংসারের নিত্যদিনের কর্মযজ্ঞে এ রকম একজন সাহায্যকারী না থাকলে সত্যিকারার্থেই প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠে। বিশেষ করে যে পরিবারের কর্তা-গিন্নি দুইজনই চাকরিজীবী। তার উপর যাদের একটি বা দুইটি সন্তান আছে, কাক ভোরে উঠেই ছুটতে হয় তাদের স্কুলে পৌঁছে দেয়া আবার ফিরিয়ে আনার কাজে। তারা তো দস্তুর মতো ক্রুক্ষেত্রের যুদ্ধে, চলে গভীর রাত অবধি। তাদের কাছে একজন কাজের বুয়া নিঃসন্দেহে স্বর্গীয় আশীর্বাদ। কিন্তু চাহিদা মোতাবেক কাজের বুয়ারা আর নেই, তারাও এখন চাকরিজীবী। অর্থনৈতিক সচলতায় তৈরি পোশাক শিল্পের বিস্ফোরণ শহরে তো বটেই গ্রামীণ জীবনেও কমবেশি ঢেউ তো অবশ্যই লেগেছে। মানুষ যেমন বেড়েছে তেমনি কর্মসংস্থানের বাস্তবতাও বেড়েছে অনেক। তাই ¯্রফে পেটের ক্ষুধায় বা সমান্য প্রাপ্তিতে কেউ আর অন্যের বাড়িতে শ্রম দিতে প্রস্তুত নয়। সেদিক থেকে দেখলে আমাদের অর্থনীতির সচলতাকে মানতে হয়। হয়তো তারা তাদের সঠিক প্রাপ্তিটি পাচ্ছেন না কিন্তু টিকে আছেন পূর্বাবস্থার চেয়ে একটু হলেও ভালো অবস্থায়, এটা সত্য। এই সত্যই কঠিন করে তুলছে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্তের জীবনকে। তারা চায় জীবনকে সহজ করে যাপন করতে কিন্তু জীবন আর তাদের জন্য সহজ হয়ে উঠছে না, তার কারণ ওই একজন সাহায্যকারীর অভাব। প্রায় পঞ্চাশ লাখ পোশাক শ্রমিকের আশি শতাংশ নারী শ্রমিক। পরিধিটা প্রতিদিনই বাড়ছে। আগামীতে তা আরও বাড়বে। তবে নাও বাড়তে পারে, যদি এই শিল্পে শতভাগ অটোপ্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে এই বিপুল সংখ্যক পোশাক শ্রমিক বেকার হয়ে যাবেন। সে সম্ভাবনা যে একেবারে নেই তা হলফ করে বলা যায় না।
বিজ্ঞানের ক্রমাগত উন্নতি এবং তার অব্যাহত গতি কেউ রুখতে পারবে না। সে সমস্যা আপতত নেই, তাই এখন আমরা কাজের বুয়ার সমস্যার সমাধান খুঁজতে চাই। আর তার জন্য বিজ্ঞান ছাড়া আর কারও উপরই ভরসা করার বাস্তবতা নেই। বিজ্ঞান ইতোমধ্যেই সেক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে, তার কিচেন রোবট নিয়ে, যথেষ্ট দক্ষতায় এখনও নয়, তবে আগামী বিশ-ত্রিশ কিংবা পঞ্চাশ বছরের পরে হতে পারে। মানুষের গোটা জীবন ব্যবস্থাই যখন পাল্টে যাবে বিজ্ঞানের হাতে, তখন এই রোবোটিক সমাজ এবং তার নতুন ব্যবস্থাপনায় হারিয়ে যাবে আজকের সমাজের সমস্ত পূর্ব ধারণাগুলো। মসজিদে আজান দিয়ে আর মন্দিরে ঘণ্টা বাজিয়ে খাওয়ার দিন তখন আর থাকবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। কাজের বুয়ার দায়িত্বটি যখন কোনো যন্ত্রমানব নিয়ে নিবে, তখন সংসার ব্যবস্থাপনার গতানুগতিক ব্যবস্থাগুলোও পাল্টে যাবে। আবাসন সিকিউরিটি থেকে ঘরের অভ্যন্তরীণ সব ব্যবস্থা নিখুঁত ব্যবস্থাপনা নিশ্চয়ই আজকের বাস্তবতায় আর থাকবে না। শুরুতে এই যন্ত্রমানব সবার ক্রয় ক্ষমতায় হয়তো থাকবে না, কিন্তু একটা সময় আসবে যখন তা টিভি ফ্রিজ কিংবা মোবাইল ফোনের মতোই সবার নাগালে এসে যাবে। এমন একটি সময় নিশ্চিত আমরা অর্থাৎ আমার এই বয়সে যারা আছেন, তারা অবশ্যই থাকবেন না, কিন্তু আমাদের আগামী প্রজন্ম নিশ্চয়ই সেই সময়কে উপভোগ করতে পারবেন। তার প্রস্তুতি এখনই শুরু না করে চিল্লায় অথবা নেংটাদের কুম্ভ মেলায় গঙ্গা স্নানে ব্যস্ত থাকলে তারা সময়ের সে ট্রেনে চড়বেন কি করে? ভারতের বিজ্ঞানীরাও মঙ্গলে পৌঁছে গেছেন যদিও সে ভারতের কোটি কোটি মানুষ এখনও দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। দায়টা বিজ্ঞানের নয়, রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার রাজনীতির। সে একদল মানুষকে ধনী বানাতে চায় আর একদল নিঃস্ব। নিঃস্বরা হারিয়ে যাবে আগামী পৃথিবীতে। প্রায় আটশো কোটির এই পৃথিবীর অর্ধেকই হারিয়ে যাবে আগামী পৃথিবীতে। বিজ্ঞান মনস্কতা ছাড়া অন্যরা টিকে থাকবে না। আসতে হবে বিজ্ঞানে। হাতে সময় খুব কম। পুরনো আর পৌরাণিক ধারণা ত্যাগ ভিন্ন, বিজ্ঞান মনস্কতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]