• প্রচ্ছদ » » আবহমান বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে জঙ্গিবাদ কখনোই সঙ্গতিপূর্ণ নয়, উগ্রবাদীদের কোনো জায়গা হবে না এই বাংলায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার পিতার পথ অনুসরণ করছেন, আদর্শ দিয়ে, সম্মিলিতভাবে জঙ্গিবাদ নির্মূল করার পথে আমরা


আবহমান বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে জঙ্গিবাদ কখনোই সঙ্গতিপূর্ণ নয়, উগ্রবাদীদের কোনো জায়গা হবে না এই বাংলায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার পিতার পথ অনুসরণ করছেন, আদর্শ দিয়ে, সম্মিলিতভাবে জঙ্গিবাদ নির্মূল করার পথে আমরা

আমাদের নতুন সময় : 14/05/2019

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আশিক রহমান

বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. এম শাহ্ নওয়াজ আলি বলেছেন, বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা-সংস্কৃতি, অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্যে, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের যে মৌলিক অবস্থান সেখানে কখনো এদেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে সমর্থন করেনি। ইতিহাস সাক্ষী, বাঙালি চিরকালই শান্তির পূজারী। এখানে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম-বর্ণের মানুষ রয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। অভিন্ন ধারায় বিশ্বাস করি আমরা। সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সুন্দর বাংলাদেশ গড়া, মানুষে মানুষে প্রীতির সম্পর্কের একটি বাংলাদেশ দেখে এসেছি। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে পথচলা আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রæতি। আবহমান বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে জঙ্গিবাদ কখনোই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ-মৌলবাদীদের কোনো জায়গা হবে না দাম দিয়ে কেনা এই বাংলায়।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক কারণে কিছু ঘটনার সম্মুখীন আমাদেরও হতে হয়, সেটা বাস্তবতা। তারপরও বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের যে অবস্থান সরকার তার যোগ্যতা, দক্ষতা, আন্তরিকতায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করার নিরন্তর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তারা সফলতার স্বাক্ষর রাখতেও সমর্থ হয়েছে। যা এদেশের জনগণসহ বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে। প্রশংসা করেছে জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপসমূহে। কার্যকর উদ্যোগের ফলে জঙ্গিরা কার্যত এখন কোণঠাসা।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. এম শাহ্্ নওয়াজ আলি বলেন, জঙ্গিবাদ মোকাবিলার বিষয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের ত্রæটি-বিচ্যুতি আছে। সেক্ষেত্রে যে উদ্যোগ বা যা হওয়া উচিত ছিলো তা হয়তো হয়নি। জঙ্গিবাদের সঙ্গে যে কিছু মানুষের সম্পৃক্ততা তার বহু কারণ রয়েছে। পঁচাত্তরের পর রাজনৈতিক যে অবক্ষয় শুরু হয়েছে তার প্রতিফলন হিসেবেও জঙ্গিবাদের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততার কারণ হতে পারে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। প্রগতি ও ন্যায়নিষ্ঠার ধর্ম। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে কিছু মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তরুণ সমাজ এই ভ্রান্ত পথ থেকে দূরে আসার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে আমরা যারা অভিভাবক, যারা মাতা-পিতা জঙ্গিবাদের সঙ্গে যাতে সন্তান সম্পৃক্ত হতে না পারে সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সন্তানের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। কোনোভাবেই যেন সন্তান বিপথে না যায় সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিতে হবে।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ হচ্ছে একটি বৈশ্বিক সমস্যা, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এমনটিও তো নয় যে, বাংলাদেশ গোটা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ভ‚-খÐ বা জনপদ। জঙ্গিবাদ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বজুড়েই তাদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুনিয়ায় জঙ্গিবাদের উত্থানের কারণ তা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণের দরকার আছে। তবে একথা তো বলাই যায়, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা কখনো জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়নি। এদেশের মানুষ কখনোই রক্তের হোলিখেলা পছন্দ করে না। আমরা শাশ্বত শান্তির বাণী বুকে ধারণ করি, লালন করি। এখানে ক্ষুদিরাম থেকে লালন শাহÑঅতীতে যতো ধর্মাশ্রায়ী মানুষেরা ছিলেন তারা চিরকালই শান্তির কথা বলেছেন। কখনোই তারা শান্তির পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। কিন্তু বর্তমানে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জঙ্গিবাদীরা কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কিন্তু দেশের আলেম-ওলামা, ছাত্রসমাজ ও সচেতন শিক্ষিত নাগরিকেরা ধর্মের মূল বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করছেন। ইসলাম কখনোই উগ্রবাদকে পছন্দ করেনি, তা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। কিছু ভুল ব্যাখ্যার কারণে সাম্প্রদায়িকতা, বিচ্ছিন্ন কিছু জঙ্গি তৎপরতা আমরা দেখতে পাচ্ছি, এটা তো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, এদেশের আপামর জনতা, ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক, সচেতন সমাজ সবাই মিলে জঙ্গিবাদকে যেভাবে মোকাবিলা করেছি, প্রতিহত করেছি তার প্রশংসা দুনিয়া করছে। আমরা যদি সতর্ক থাকি তাহলে জঙ্গিবাদ কোনোদিনই লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত এই পবিত্র ভ‚-খÐে জঙ্গিবাদের জায়গা হবে না। সামনের দিনেও সবাইকে একত্র করে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদকে আমরা প্রতিহত, প্রতিরোধ করতে পারবো বলে আমরা বিশ্বাস করি। তার প্রমাণও আমরা পেয়েছি। জঙ্গিবাদ যতোটুকু সামনের দিকে এগিয়েছিলো তা আমরা রোধ করতে সক্ষম হয়েছি। অনেকগুলো সফল অপারেশনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ নির্মূলের পথে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার পথ অনুসরণ করছেন। আদর্শবাদ দিয়ে সবাইকে একত্র করে সম্মিলিতভাবে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পেরেছি আমরা। আমরা জঙ্গিবাদের মূল্যোৎপাটন করতে অবশ্যই সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক সমাজে প্রতিটি মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে। যারা এসব পছন্দ করে না তারাই জঙ্গিবাদের মতো কাজ করে থাকে। কারা এসব কাজ করে তা তো পরিষ্কার। যারা আলোতে আসে না, অন্ধকারে থাকে, বসবাস করে তাদের ছাড়া আর কারা? একজন মানুষের তো বাঁচার অধিকার রয়েছে। এখন রাতের অন্ধকারে খুন করলে মনে করি যে আঁততায়ী, দিনের আলোয় প্রকাশ্য যদি কেউ কাউকে খুন করে তাহলে আমাদের বিবেকবোধ, আমাদের অনুভব, আমাদের সভ্যতা কোথায় যেন জলাঞ্জলি দিয়ে এসেছি। আধুনিক পৃথিবী, আধুনিক সভ্যতায়, আধুনিক বাংলাদেশÑযে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিলো প্রগতিশীল, উদারমনা মানুষদের বসবাসের জন্য।
সবকিছু মূলেই তো রাজনীতি। রাজনীতিকে আবর্তিত করেই তো আমাদের অর্থনীতি, সমাজনীতি, বিশ্ব চলছে। আমরা মনে করি, যারা শুভবুদ্ধিকে পছন্দ করে না তারাই এসব ঘটনাগুলো সংঘটিত করে থাকে। কারণ আধুনিক সভ্যতায়, আধুনিক সংস্কৃতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েই আমরা বাঁচতে চাই। কিন্তু সেটি যদি ব্যাহত হয় তাহলে আমাদের স্বাধীনতা বলেন, মুক্তচিন্তা বলেন কিছুই তো থাকবে না। সবদিক থেকেই আমরা বঞ্চিত হবো।
প্রতিটি মানুষের শুভর জন্য, মঙ্গলের জন্য, কল্যাণ কীভাবে হবে তা নিয়ে চিন্তা করা দরকার। আমাদের ব্যক্তি জীবনকে সামনে রেখেÑসামাজিক আন্দোলন, সুস্থ ধারার রাজনীতি হওয়া উচিত। মানুষ মরবেই। আমি জš§গ্রহণ করেছি মরবার জন্য। কিন্তু আমার মৃত্যুটা তো একট মর্যাদা দাবি করে। আমার স্ত্রী-সন্তান জানবে না, পরিবার জানবে না, প্রিয় মানুষেরা জানবে নাÑএমন মৃত্যু কেউ কামনা করে না। আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুটা আশা করি। সেই সমাজ ব্যবস্থা আমরা আশা করি যে সমাজ কায়েম করা গেলে আমরা উপকৃত হবো, পৃথিবীর সভ্যতা উপকৃত হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]