আমরা উন্নত হলাম কোন দিক দিয়ে ?

আমাদের নতুন সময় : 14/05/2019

কামরুল হাসান মামুন :‘আগামী বছরে স্পেন-থাইল্যান্ডের সমান হবে বাংলাদেশ’-অর্থমন্ত্রী। প্রবৃদ্ধিতে আমরা কানাডার সমান : অর্থমন্ত্রী। ‘তিউনিশিয়ায় সাগরে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশিদের মৃত্যু’ এটা গতরাতের সংবাদ। হবোই যেহেতু চীন ভারতের মতো হবো কেন একবারে স্পেন কানাডার মতো হয়ে যাচ্ছি।

ডযধঃ ধ পড়হঃৎধংঃ! সংবাদ শিরোনামগুলোর মাঝে কতো বৈপরীত্য! অর্থমন্ত্রীর কথা যদি সত্য হয় তাহলে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে মানুষের ডিফিউশনের সংজ্ঞানুসারে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে এখন কাজের সন্ধানে বাংলাদেশে আসতে শুরু করা উচিত। অথচ আমরা দেখছি এই দেশ থেকে মানুষ কেবল বাঁচার জন্য একদল হতদরিদ্র মানুষ জীবন বাজি রেখে ইউরোপ-আমেরিকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। আবার আরেকদল আলট্রা বড়োলোক কেবল উন্নত জীবনের আশায় অন্য দেশে পারি জমাচ্ছে। একদল মানুষ সন্তানের লেখাপড়ার জন্য গ্রাম, উপজেলা থেকে ঢাকায় আসছে, আরেকদল একই কারণে তাদের সন্তানদের মান সম্পন্ন শিক্ষার জন্য ঢাকা থেকে বিদেশ পাঠাচ্ছে। তাহলে আমরা উন্নত হলাম কোন দিক দিয়ে?

শিক্ষায় উন্নতি আর অর্থনৈতিক উন্নতি এই দুটো পড়সসঁঃব করে না। আগে অর্থনৈতিক উন্নতি ও পরে শিক্ষায় উন্নতি একটি অসম্ভব ব্যাপার। এইরকম উদাহরণ ব্যতিক্রম হিসেবেও পাওয়া যাবে না। খোঁজ করলেই সহজেই জানা যাবে যা আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যতো দেশ অর্থনীতিতে উন্নতি করেছে তার মূলে ছিলো প্রথমে শিক্ষায় উন্নতি। বিষয়টা নিয়ে নতুন করে গবেষণার কোনো প্রয়োজন নেই। কানাডা-স্পেন বা থাইল্যান্ডের  মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বানাতে পেরেছি? তাহলে আমরা উন্নত কিভাবে হচ্ছি? উন্নতিটা করবে কে? মানুষ করবে তো? তাহলে আগে মানুষকে উন্নত হবে। উন্নত মানুষ হতে হলে লাগবে উন্নত শিক্ষা। এই জন্যই আগে শিক্ষায় উন্নতি করতে হবে। কিন্তু এই বলদের দেশে এই সহজ কথাটা কেমনে বুঝাই? যারা দায়িত্বে তারা তো উঠেপড়ে লেগেছে শিক্ষার বারোটা বাজাতে।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তত্ত্ববধানে এক জরিপে দেখা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা মোট ছাত্রছাত্রীদের ৪৬ শতাংশ অন্তত ৩ বছর পর্যন্ত বেকার থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে এমন ছাত্র সংখ্যা ১৮ লক্ষ। আরে এমন দেশও আছে যাদের জনসংখ্যা ১৮ লক্ষ। পৃথিবীতে এমন আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় কি পাওয়া যাবে যার ছাত্রসংখ্যা তার অর্ধেকের অর্ধেক? এই দিক থেকে আমরা নিশ্চিত এটি গ্রীনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পাবে। এই যে বিপুল পরিমাণ ছাত্রছাত্রী কেবল একটি সার্টিফিকেট পাচ্ছে কিন্তু কিছু শিখছে না তাদের হাতে একটি সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়ে তাদের উপকার করছি নাকি ক্ষতি করছি? এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশাল অংকের অর্থ আয় করছে সন্দেহ নেই। তারা সেই অর্থের কতো অংশ ছাত্র-ছাত্রীদের মান সম্পন্ন শিক্ষা দেয়ার পেছনে খরচ করছি করছে? এই বিপুল অংকের অর্থ উপার্জন থেকে যদি একটি বড় অংশ তারা মান সম্পন্ন শিক্ষক এনে একদিকে শিক্ষার মান বাড়ানো এবং অন্যদিকে মানহীন কলেজগুলোকে বাদ দেয়ার প্রকল্প নিতো তাহলেও কিছু কাজ হতো। আসলে এসব কথা কাকে শুনাচ্ছি? থাক! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]