জলবায়ু পরিবর্তন ও কর্মসংস্থানের অভাবে ঢাকামুখি উপকুলীয় জনস্রোত

আমাদের নতুন সময় : 14/05/2019

মঈন মোশাররফ : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী ১৯৯১ সালে রাজধানী ঢাকায় লোক সংখ্যা ছিলো ৬৮ লাখের সামান্য কিছু বেশি। কিন্তু ১৯৯১ থেকে ২০১৯, এই আট বছরে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টসের গত বছরের তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। সংস্থাটির পুর্বাভাস বলছে, ২০৩০ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৭৪ লাখে। অর্থাৎ আগামী ১০ বছরে আরও এক কোটি মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবে।

মোহাম্মদপুর বেড়িবাধ এলাকায় বিভিন্ন বস্তিতে বসবাস করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ তাদের সঙ্গে কথা বলে জানায়, অধিকাংশ মানুষ আসছে উপকুলিয় অঞ্চল থেকে। এরা ভোলা, বরগুনা, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, লক্ষ্মীপুর, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা থেকে আসা। এখানকার নারীরা ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। আর পুরুষরা কেউ রিকশাচালক, কেউ ট্রাক শ্রমিক, রাজমিস্ত্রিসহ নানা পেশায় নিয়োজিত।

এ প্রসঙ্গে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আতিকুল ইসলাম সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ঢাকায় বসবাসরত বস্তিবাসির মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত। তারা নদী ভাঙ্গন, চর ভাঙ্গন, অর্থাৎ পানি সংক্রান্ত কারণে হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ। তবে পানি ছাড়া অন্যান্য এলাকা থেকে কিছু লোক আসে। যেমন খরা জনিত কারণে আছে।  আবার অল্প সময়ের জন্য কিছু আসে রিকশা চালানোর জন্য। এদের ভাগ করলে যারা পানির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ তাদের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের একটা সম্পর্ক আছে। তার মধ্যে দক্ষিন অঞ্চল একটু বেশী। সেখানে লবণাক্ততা অন্যতম কারণ। এর সবকিছুই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সমাধানের প্রশ্নে তিনি বলেন, এর সমাধান হচ্ছে পৃথিবীর সব উন্নতদেশকে তড়িৎ বেগে তাদের গ্রীন হাউজ গ্যাস কমিয়ে  জীবন পদ্ধতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে এটা সহজে হবে না। আর সমাধান যতদিন পর্যন্ত না হয় আমাদের খাপখাইয়ে চলতে হবে। খাপ খাওয়িয়ে চলার কতগুলো সীমা আছে, যেমন তারা নিজের বাড়ি উচু করতে পারে। ভিন্ন ধরণের কৃষিকাজের চেষ্টা করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের আমাদের অর্থনীতি জীবনের মধ্যে অন্তর্নিহিত রাখতে হবে। সেখানে বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবি ছিলো। বিধায় ভিন্ন জায়গায় কৃষি খাত বাড়াতে হবে। তারা কেউ কেউ পার্টাইম কৃষিজীবি হবে। তারা ঢাকার বস্তিতে রইলো যখন হাওড় অঞ্চলে লেবার দরকার তখন তারা সেখানে গিয়ে কাজ করলো। যেমন ফণীর পরে অতি দ্রুত ধান কাটার দরকার ছিলো।

তিনি জানান, এর সমাধানের প্রধান উপায় হচ্ছে, উন্নয়ন বাড়ানো যার ফলে উন্নয়নের বিভিন্ন অঙ্গে তারা জড়িত হয়। উন্নয়নের ফলে তারা আনস্কিল লেবার হিসাবে তারা কাজ করবে। অন্যটি হচ্ছে খাপ খাইয়ে নেয়া। এ লক্ষে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। যেমন নতুন ধরনের কৃষি যেন ঐ এলাকায় থেকে কাজ করা যায়। এ বিষয়ে আমি একটা আন্দোলন দিয়েছিলাম সেটা সরকার গ্রহণ করেছিলেন। গ্রাম অঞ্চলে শহরের শুবিধা পৌছে দেয়া। আওয়ামী লীগ সেটা গ্রহন করেছে। তারা বলছে আমরা গ্রামকে শহর করবো। তবে ঢাকা মুখি উপকুলীয় জন¯্রােতের অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, কর্মসংস্থানের অভাব, লবণাক্ততা, খাদ্য ঘাটতি। সম্পাদনা : আহমেদ শাহেদ।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]