রাজশাহী মেডিক্যালে জ্বর, সর্দি, ব্যথার ওষুধ ব্যবহার করে উল্টো অসুস্থ ১৪ শিশু

আমাদের নতুন সময় : 14/05/2019

শোভন দত্ত : বাংলাদেশের উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধলখোর এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন মো. বদিউজ্জামান। ছেলের শরীর ফুলে গিয়েছিলো। গায়ে জ্বরও ছিলো। দায়িত্বরত নার্স এসে একটি ইনজেকশন দিয়েছিলেন।  বদিউজ্জামান বলছেন, আমার বাচ্চার আগে যাদের ওই ইনজেকশন দেয়া হয়েছে হঠাৎ দেখি আশপাশে কয়েকজন খিঁচুনি দিয়ে কাঁপতে আরম্ভ করেছে। আমি নার্সদের কাছে গেলাম। নার্স আমাকে বললো কিছু হয়নি। কিছুক্ষণ পর দেখি আমার বাচ্চারও একই অবস্থা। সূত্র : বিবিসি

একই হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলো দিনাজপুরের মির্জাপুর থেকে আসা কাজিম উদ্দিন মীর্জার চার বছর বয়সী ছেলেও। পেটের ব্যথার কারণে তাকে নিয়ে আসা হয়েছিলো। ঠিক একই ধরনের সমস্যা দেখা দিলো তারও।

খিঁচুনি দিয়ে কাঁপতে শুরু করলো আশপাশের বিছানারও বেশ কয়েকটি শিশু।

মীর্জা বলছেন, হঠাৎ বাবা মাদের দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গেলো। সে সময় হঠাৎ করে সব নার্সরা কিছুক্ষণের জন্য পালিয়ে গিয়েছিলেন। যখন চিল্লাচিল্লি শুরু হল তখন বড় ডাক্তাররা আসলেন। তারা এসে অন্য ইনজেকশন দিলেন। মাথায় পানি দিলো।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধেবেলায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগে।

কলেজের প্রিন্সিপাল ও সেখানকার পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. নওশাদ আলী জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ১৪টি শিশুর একই ধরনের সমস্যা হয়েছে। যাদের সমস্যা হয়েছে তাদের সবাইকে একই ধরনের চারটি ওষুধ দেয়া হয়েছিলো।

জ্বর, সর্দি-কাশির জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেফট্রিয়াক্সন ও ফ্লুক্লক্সাসিলিন। আলসার ও পাকস্থলির সমস্যা উপশমের জন্য র‌্যানিসন। আর ব্যথার জন্য ব্যবহৃত বুটাপেন। এই চারটি ঔষধ যাদের দেয়া হয়েছে সেই সব শিশুদের সবার একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ডা. নওশাদ বলছেন, সাবধানতা হিসেবে তাৎক্ষণিক শিশুদের জন্য ওষুধগুলোর ব্যবহার বন্ধ দেয়া হয়। তবে বড়দের দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই ওষুধের সবগুলোই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওষুধ কোম্পানি এসেন্সিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের তৈরি। এই ওষুধগুলো আমরা নিয়মিত ব্যবহার করি। কখনো কোন সমস্যা হয়নি। সেগুলোর এক্সপায়ার ডেটগুলোও ঠিক ছিলো।

হঠাৎ করে কী হলো এটা আমাদের কাছে খুবই আশ্চর্যের বিষয়। হতে পারে প্রচ- গরমে এর কোন কেমিকেল রিঅ্যাকশন হয়েছে।

ওদিকে এসেন্সিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এই ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে একটি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির বোর্ড অফ ডিরেক্টরসদের একজন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

তিনি জানিয়েছেন, এই বোর্ড বোঝার চেষ্টা করছে কোন ওষুধগুলো কোনটির সাথে ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনটির সাথে মিক্স হয়ে কোনো রিঅ্যাকশন হয়েছে কিনা।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই ওষুধগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কোন ল্যাবে পাঠানো হবে সে নিয়ে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড।

ল্যাবের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ওষুধগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে তিনি জানান। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]