• প্রচ্ছদ » গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ » ‘রেলসেবা’ অ্যাপে ট্রেনের টিকেট কিনতে গিয়ে ভোগান্তির সংখ্যা বেশি, কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘অ্যাপসটি নতুন, প্রবলেম সলভ হবে দ্রুত’


‘রেলসেবা’ অ্যাপে ট্রেনের টিকেট কিনতে গিয়ে ভোগান্তির সংখ্যা বেশি, কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘অ্যাপসটি নতুন, প্রবলেম সলভ হবে দ্রুত’

আমাদের নতুন সময় : 14/05/2019

দেবদুলাল মুন্না : ইন্টারনেট অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট কাটা নতুন নয়। এবার  ঈদকে সামনে রেখে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারিদের হাত থেকে সুরক্ষা করতে ও যাত্রীরা যেন ঘরে বসেই টিকেট কিনতে পারেন সে লক্ষ্যে গত ২৮ এপ্রিল রেলওয়ে ‘রেলসেবা’ নামে নতুন অ্যাপ চালু করেছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়। সে সময় জানানো হয়, ঘরে বসেই টিকিট কাটতে পারবেন যাত্রীরা। অ্যাপটির মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫ হাজার টিকিট কাটা যাবে। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে আড়াইশ টিকিট কাটা যাবে। একই সঙ্গে একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। কিন্তু যতোদিন যাচ্ছে ততো টিকেট কাটতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন টিকেট প্রত্যাশীরা। গুগল প্লে স্টোরে এই অ্যাপটির রিভিউতে অনেকেই টিকিট কিনতে গিয়ে তাদের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। বেশ কয়েকজন জানান, টিকিট কাটা নিশ্চিত না হলেও তাদের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।বিষয়টি জানালে পূর্ব রেলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মুরাদ হোসেন বলেন,‘অ্যাপসটি নতুন, কিছুটা সমস্যা আছে। প্রবলেম সলভ হবে দ্রুত। বিষয়টি আমরা দেখছি। রেলওয়ের ই-সেবা কার্যক্রমটি পরিচালনা করে থাকে সিএনএসবিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠান।’

কী ধরণের সমস্যা হচ্ছে  এর জবাবে রুপালি ব্যাংকের কর্মকর্তা জহির হাসান বলেন, ‘টিকিটের টাকা সে- করার সাথে সাথে অ্যাপে ফিরতি বার্তায় দেখায়,  ‘ফেল বা অকার্যকর’। এরপরই বার্তা আসে ,‘এ জন্য টাকা ফেরত পেতে অপেক্ষা করতে বলা হয় দীর্ঘ আট দিন’।অর্থাৎ যাত্রার আগে টিকিট কাটতে গিয়ে গন্তব্যে যাওয়া তো দূরের কথা উল্টো টাকা ফেরত পাওয়ার পেছনে ছুটতে হচ্ছে।বুঝুন অবস্থা। গত কয়েক দিন ধরে এমন অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। কেউ লিখছেন, টিকিট কাটা যাচ্ছে না। কেউ বলছেন টাকা দিয়ে টিকিট পাওয়া তো দুরের কথা কবে টাকা ফেরত পবো সেই দু:শ্চিন্তায় কাটছে দিন।ষড়ো মুহাম্মদ নামে একজন লিখেছেন,‘রেলের অ্যাপস দিয়ে কেউ টিকিট কাটবেন না। টাকা কেটে নিচ্ছে কিন্তু টিকিট পাচ্ছি না। এ কেমন মাইনকা চিপা!’ চট্রগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকিট কিনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক সাংবাদিক এই ভোগান্তিতে পড়েছেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫২ মিনিটে ‘রেলসেবা অ্যাপস’র মাধ্যমে শনিবারের সুবর্ণ এক্সপ্রেসের দুটি শোভন চেয়ারের টিকিট কাটেন। সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যাংক একাউন্ট থেকে একটি পূর্ণ এবং একটি হাফ টিকিটের মূল্য বাবদ ৬৭৫ টাকা কেটে নেওয়া হয়। টিকিট কেনা নিশ্চিত করে রেলের ই-মেইল রাত ১০টায় না আসার পর চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের সিএনএস বিভাগে ওই সাংবাদিক যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, টিকিট নিশ্চিত হয়নি এবং কেটে ফেলা টাকা আট কর্মদিবসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু শনিবার দুপুর ১২টা ৩১ মিনিটে তার ইমেইলে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকিট দুটি কাটার নিশ্চিতকরণ তথ্য আসে। এতে বগি নম্বর- ‘ন’ এবং সিট নম্বর- ৩৫ ও ৩৬ উল্লেখ করা হয়। ওই ইমেইলের মাধ্যমে গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে টিকিট দুটি সংগ্রহ করতে বলা হয়। চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের বিরতিহীন ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস সকাল ৭টায় চট্টগ্রামে রেল স্টেশন ছেড়ে যায়, ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনে পৌঁছায় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে। খবর নিয়ে জানা যায়, শনিবার ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছেছে ১২টা ২২ মিনিটে। অর্থাৎ টিকিট নিশ্চিত করে ই-মেইল যখন এসেছে, ততক্ষণে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকায় গন্তব্যের প্রায় কাছাকাছি। আর ইমেইলে দেখা যায়, ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পর টিকিট ইস্যু করা হয়েছে। টিকিট ইস্যুর সময় লেখা আছে ১১ মে বেলা ১১টা ৫৪ মিনিট, অথচ টিকিট সংগ্রহের শেষ সময় বলা হয়েছে ১১ মে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট। সংশ্লিষ্ট ঢাকা অফিসের ব্যবস্থাপক শারফুদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন,‘কিছু ত্রুটি আছে,তা সারানোর কাজ চলছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]