শুধু আইন করে পারিবারিক শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা যায় না, বললেন ব্যারিস্টার সানজানা 

আমাদের নতুন সময় : 14/05/2019

কেএম নাহিদ : পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী, সন্তান যদি পিতা-মাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব না নেন তাহলে এর প্রতিকার পেতে হলে হলে বাবা-মাকেই আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় সন্তানের বিরুদ্ধে বাবা-মায়ের মামলা করার ঘটনা বিরল। তাহলে প্রশ্ন আসে, এ আইনটি কার্যকর হবে কিভাবে? ২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিষয়ক আইন পাস করে সরকার। এই আইন অনুযায়ী সক্ষম সন্তানরা বাবা-মায়ের ভরণপোষণ প্রদান করতে আইনগতভাবে বাধ্য।

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা সোমবার ডয়েচে ভেলেকে  বলেন, এই আইনটি একটি ব্যতিক্রমী ও অস্বাভাবিক আইন। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ ধরনের আইন নেই। দুঃখজনক হলেও আমাদের দেশে এ ধরনের একটি আইন করতে হয়েছে। আমাদের দেশে বাবা-মায়েরা সন্তান জন্মের পর থেকে তাদের লেখাপড়া ও স্বনির্ভর হওয়া পর্যন্ত সন্তানদের সমর্থন দিয়ে যান। তারপরও বৃদ্ধ বয়সে তারা অনাদর আর অবহেলার শিকার হন। তারা নির্যাতনের শিকার হন বলেও আমরা সংবাদ মাধ্যমে খবর দেখ্ িউন্নত বিশ্বে সন্তানদের ১৮ বছর হলেই বাবা-মায়ের আর কোনো দায়িত্ব থাকে না। যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা আছে, সেখানে সিনিয়র সিটিজেনরা অবহেলার শিকার হন না।

তিনি বলেন, বাবা-মা’র বাইরে অন্য কারোর মামলা করার বা অভিযোগ করার সুযোগ দেয়া হলে তা আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ ও শান্তি বিনষ্ট করতে পারে। পারিবারিক ব্যাপারে আউটসাইডারদের টেনে না আনাই ভালো। এখানে পিতা মাতা চাইলে মামলার সুযোগ আছে। এটা আপোষযোগ্য। এর মানে হলো মিলমিশে থাকারও সুযোগ আছে।

তিনি আরো বলেন, আইনের চেয়ে বেশি প্রয়োজন সামাজিকভাবে বিষয়টি এ্যাড্রেস করা। শুধু আইন করে পারিবারিক শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে সন্তানদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পিতা-মাতাকে সম্মানের বিষয়টি শেখাতে হবে। নিজেদের জীবনে তা চর্চা করতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সিনিয়র সিটিজেনদের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রের এগিয়ে আসতে হবে। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]